উদ্দীপকে ইসমাইল, সাহেবের পরীক্ষণ সম্পর্কিত মতামতটি হলো নিয়ন্ত্রণ। নিম্নে পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
পরীক্ষণের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত হলো নিয়ন্ত্রণ। পরীক্ষণের নিয়ন্ত্রণ বলতে এমন এক কৌশলকে বোঝায় যা সম্ভাব্য ভীতিসমূহকে দূর করে । গবেষণার ক্ষেত্রে ভীতি প্রদানকারী শর্তগুলো কী এবং সেগুলো কীভাবে দূর করে পরীক্ষণে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান অর্জন করা যায়- সেটিই হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ। কাজেই বলা যায়, নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে তুলনার একটি আদর্শ ব্যবস্থা। মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষণে আদর্শমানের সাহায্যে বিশেষ একটি অনির্ভরশীল চলের প্রভাব তুলনা করা হয়। এ ঘটনাটিকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থা বলে। আবার নিয়ন্ত্রিত অবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে দুটি অবস্থার মধ্যে তুলনা করা যায় এবং অবাঞ্ছিত চলকে বর্জন করা যায়। এভাবে পরীক্ষণ দল ও নিয়ন্ত্রিত দল সৃষ্টির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। পরীক্ষণ দল সেই সকল পরীক্ষণপাত্র নিয়ে গঠিত হয় যারা অনির্ভরশীল চলের নিরিখে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত দল একই ধরনের পরীক্ষণপাত্র নিয়ে গঠিত, কিন্তু পরীক্ষণ দল যে বিশেষ ব্যবস্থা পেয়ে থাকে তা তারা পায় না। সংক্ষেপে বলা যায়, যে দলে গবেষক হস্তক্ষেপ ( treatment) করে এবং অনির্ভরশীল চল প্রয়োগ করে সেটি পরীক্ষণ দল এবং যে দলে হস্তক্ষেপ করা হয় না এবং অনির্ভরশীল প্রয়োগ করা হয় না সেটিকে নিয়ন্ত্রিত দল বলে। পরীক্ষণে নিয়ন্ত্রিত দল তুলনার একটি ভিত্তি স্থাপন করে, ফলে পরীক্ষণ দলে যে পরিবর্তন আসে তা নির্ভরশীল চল হিসেবে ফলাফল নির্দেশ করে।
পরীক্ষণের নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায়, অনির্ভরশীল চলের সঙ্গে নির্ভরশীল চলের সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করার উদ্দেশ্যে সবরকম অবাঞ্ছিত চলকে ধ্রুব রেখে পরীক্ষণকার্য পরিচালনা করা। অর্থাৎ পরীক্ষণকারী যখন কোনো ব্যক্তির বিশেষ আচরণের উপর একটি চলের প্রভাব দেখতে চান তখন পরীক্ষণের পরিবেশটা এমন হওয়া উচিত যে, ঐ মুহূর্তে অনির্ভরশীল চল ছাড়া আর কোনো চল ব্যক্তির পরীক্ষণীয় আচরণের উপর উদ্দীপক হিসেবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। বাস্তবিকপক্ষে পরীক্ষণের নিয়ন্ত্রণ বলতে মূলত চলের নিয়ন্ত্রণকেই বোঝায়।
উদ্দীপকে ইসমাইল সাহেব শিক্ষণে পারিপার্শ্বিক গোলমালের কোনো প্রভাব আছে কি-না দেখতে চান। প্রথমে তিনি প্রকল্প প্রণয়ন করলেন- 'পারিপার্শ্বিক গোলমাল শিক্ষণকে বিলম্বিত করে। এখানে পারিপার্শ্বিক গোলমাল হলো অনির্ভরশীল চল এবং শিক্ষণ হলো নির্ভরশীল চল। তিনি সমান মেধাসম্পন্ন এবং সমবয়সী দুই দল ছাত্র নিয়ে এক দলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং অপর দলকে গোলমালপূর্ণ পরিবেশে কিছু অর্থহীন শব্দ মুখশ্ব করতে দিলেন। এছাড়া দুই দলের অনুশীলন কক্ষের সমস্ত উপাদান তথা কক্ষের তাপমাত্রা, বসার ব্যবস্থা, আলোর উজ্জ্বলতা ইত্যাদি একই রকম রাখা হলো। নির্দিষ্ট সময় অনুশীলনের পর দুই দলের শিক্ষণে যদি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তাহলে এর কারণ হিসেবে গোলমালপূর্ণ পরিবেশকে দায়ী করা যাবে। কারণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষণটি পরিচালনা করা হয়েছে।