উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' চলগুলো হলো যথাক্রমে নির্ভরশীল চল ও মধ্যবর্তী চল।
নির্ভরশীল চল: যে চলকে তার উপস্থিতি বা সৃষ্টির জন্য অন্য কোনো চলের উপর নির্ভর করতে হয়, তাকে নির্ভরশীল চল বা আপেক্ষী চল বলা হয়।
ওয়াইনী ওয়াইটেন (Wayne Weiten) এর মতে, "নির্ভরশীল চল হলো সেই চল যা অনির্ভরশীল চল প্রয়োগের ফলে প্রভাবিত হয় বলে মনে করা হয়।"
অনির্ভরশীল চল পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রাণীর আচরণে যেসব পরিবর্তন ঘটে, সেগুলোকে বলা হয় নির্ভরশীল চল। নির্ভরশীল চল অনির্ভরশীল চল কর্তৃক সৃষ্ট, প্রভাবিত বা পরিবর্তিত হয়ে থাকে। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় জীবের প্রতিক্রিয়া বা সাড়াই হলো নির্ভরশীল চল। উপরোক্ত উদাহরণে দেখা যায় যে, চালক লাল আলো দেখে গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং সবুজ আলো জ্বলে উঠলে গাড়ি চালাতে শুরু করে। এখানে গাড়ি থামানো বা পুনরায় চালানো নির্ভর করছে লাল বা সবুজ আলো জ্বলে উঠার উপর। তাই গাড়ি থামানো বা গাড়ি পুনরায় চালানো হচ্ছে নির্ভরশীল চল।
মধ্যবর্তী চল: এ চল অনির্ভরশীল ও নির্ভরশীল চলের মধ্যে সংযোগ বা সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে। আমরা জানি, ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের ফলেও আচরণের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক দিক থেকে যে সব চলের উদ্ভব হয়, তাকে মধ্যবর্তী চল বলে।
এটা অন্তর্বর্তী বা জৈবিক চল নামেও পরিচিত। যেমন, বয়স, লিঙ্গ, অভ্যাস, অভিজ্ঞতা, প্রেষণা ইত্যাদি মধ্যবর্তী চল। উপরোক্ত উদাহরণে কবিতা আবৃতির ক্ষেত্রে ৬০ বছরের বৃদ্ধের তা মুখস্থ করতে যে সময় লাগবে, ২৫ বছরের যুবকের তা নাও লাগতে পারে। আবার লিঙ্গভেদে অর্থাৎ বালক ও বালিকার ক্ষেত্রেও মুখস্থ করার সময়ের তারতম্য হতে পারে।