হ্যাঁ, মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা যায় ।
সুবিন্যাস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোন বস্তু বা ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি তাই বিজ্ঞান । কোনো বিষয় বিজ্ঞান কিনা তা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের উপর । যথা- ১. বিষয়বস্তু, ২. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, ৩. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ৪. প্রয়োগশীলতা। এই বিষয়গুলো অনুসরণ করলে তাকে বিজ্ঞান বলা যাবে ।
বিজ্ঞান হতে হলে প্রথম শর্ত হলো বিষয়বস্তু। মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হলো আচরণ। দ্বিতীয় শর্ত হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কতগুলো নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। যথা- কার্যকরী সংজ্ঞা, ব্যক্তি নিরপেক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ, পুনরাবৃত্তি, সাধারণীকরণ ও যথার্থতা প্রমাণ। মনোবিজ্ঞানের গবেষণা পদ্ধতি উক্ত নীতিসমূহ যথার্থভাবে মেনে চলে। বিজ্ঞান হওয়ার তৃতীয় শর্ত হলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে পরীক্ষা- নিরীক্ষার বিষয়কে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করাকে বুঝায়। আত্মা ও মনকে বাদ দিয়ে যখন আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়াকে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তখন থেকে এই শর্তটিও পূরণ হয়েছে। শেষ শর্তটি হলো প্রয়োগশীলতা। মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের বহুমুখী ও বাস্তব প্রয়োগ বর্তমানে লক্ষ করা যায়। সুতরাং দেখা যায়, মনোবিজ্ঞান চারটি শর্তই পূরণ করে । তাই মনোবিজ্ঞানকে নিঃসন্দেহে বিজ্ঞান বলা যায় ।