উদ্দীপকে রাজু ও তমার ক্ষেত্রে সারি যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো অবিচ্ছিন্ন সারি ও বিচ্ছিন্ন সারি হিসেবে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
যে সারির সাফল্যাংকগুলির মধ্যের নিরাম বা ছেদকে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায়, তাকে অবিচ্ছিন্ন সারি বলা হয়। যেমন, ১ টাকা, ২ টাকা, ৩ টাকা, ৪ টাকা- এই সারির ক্ষেত্রে আমরা ১ টাকা ও ২ টাকার মধ্যে অনেকগুলো ক্ষুদ্রতর অংশের কল্পনা করতে পারি এবং তা সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি, যেমন- ১.২৫ টাকা, ১.৫০ টাকা, ১.৭৫ টাকা ইত্যাদি। বুদ্ধি, কৃতিত্ব, সাফল্য, শক্তি, তাপমাত্রা, রক্তচাপ ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে অবিচ্ছিন্ন সারি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অবিচ্ছিন্ন সারির ক্ষেত্রের পরপর দুটি সংখ্যার মধ্যে যে ব্যবধান দেখা যায়, তা প্রকৃতপক্ষে শূন্য বা ফাঁকা জায়গা নয়। কোনো কাজে কারও সাফল্যাংক যদি ৪০ হয়, তাহলে প্রকৃত সাফল্যাংক হবে ৩৯.৫ থেকে ৪০.৫ পর্যন্ত। এভাবে ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩ এই সারিটির ব্যাখ্যা হবে ৩৯.৫-৪০.৫, ৪০.৫-৪১.৫, ৪১.৫-৪২.৫, ৪২.৫-৪৩.৫। আবার, যে সারির সাফল্যাংকসমূহের মধ্যে ফাঁক থাকে এবং যাকে ক্ষুদ্রতর কোনো অংশে প্রকাশ করা যায় না তাকে বিচ্ছিন্ন সারি বলে। যেমন- ১টি হাতি, ২টি হাতি, ৩টি হাতি- এই সারির ১টি হাতি ও ২টি হাতির মধ্যে কোন বিভাজন চলে না। অর্থাৎ ১.২৫ বা ১.৫ হাতি হয় না।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ রাজু দেখল মেলায় বৃদ্ধি, কৃতিত্ব, সাফল্য ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। অন্যদিকে তমা দেখল-৫টি বানর, ২টি হাতি এবং ৩টি ভাল্লুক রয়েছে। যা অবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন সারির উদাহরণ। তাই বলা যায় যে, রাজু ও তমার ক্ষেত্রে সারি অবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।