আন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধির ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব ও পরিবেশের প্রভাব পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, বংশগতি মানবীয় বুদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুজন ব্যক্তির সম্পর্ক যদি খুব কাছাকাছি হয় তাহলে তাদের বুদ্ধ্যঙ্কও একই রকম হবে। অভিন্ন যমজদের নিয়ে মার্কিন মানোবিজ্ঞানী নিউম্যান, ফ্রিম্যান ও হলজিঙ্গার ১৯ জোড়া যমজ পরীক্ষা করেন। তাদের মধ্যে রিচার্ড ও রেমন্ডকে দুটি ভিন্ন পরিবেশে লালন পালনের ব্যবস্থা করা হয়। গবেষকদ্বয় ১০ বছর বয়সকালীন সময়ে দেখতে পান রিচার্ড এবং রেমন্ড দুটো ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তারা প্রায় একই ধরনের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে।
অন্যান্য গবেষণায় দেখা যায়, বুদ্ধির বিকাশে পরিবেশের প্রভাবও দায়ী । অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে ওঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বুদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুরা পরিবেশের ফলেই বেশি বুদ্ধ্যঙ্কের অধিকারী হয়েছে।
বুদ্ধির বিকাশে বংশগতি ও পরিবেশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি কল্পনা করা যায় না। সত্যিকার বিকাশের জন্য দরকার বংশগতির সম্ভাবনা আর সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য যথোপযুক্ত পরিবেশ। তাই বুদ্ধির বিকাশে বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব সম্পর্কযুক্ত।