“রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা উত্তম”- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো--
প্রতিকার হলো রোগ সৃষ্টি হওয়ার পর রোগ দমনের উদ্দেশ্যে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আর প্রতিরোধ হলো রোগ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে রোগের আবির্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অবশ্যই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা উত্তম। রোগ- জীবাণু হওয়ার পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ। রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো নিয়মিত সুস্থ পশুকে প্রতিষেধক টিকা প্রদান। স্বাস্থ্যসম্মত লালন-পালন ব্যবস্থা রোগ দমনে অর্থাৎ প্রতিরোধে সহায়ক। প্রতিরোধ ব্যবস্থায় রোগ প্রতিকারের চেয়ে খরচ কম হয়, যেমন— পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শুকনা জীবাণুমুক্ত জায়গা, সুষম খাদ্য প্রদান, পরিষ্কার পানি পান করানো, নিয়মিত টিকা প্রদান, পশুর বাসস্থানে জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো ইত্যাদি কার্যক্রম প্রতিরোধের আওতায় গণ্য। এ সমস্ত কার্যক্রম গ্রহণে রোগের প্রতিরোধের সাথে সাথে গবাদি পশুর উৎপাদন বাড়ে। রোগ জীবাণু হওয়ার পর যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো রোগের চিকিৎসা বা রোগের প্রতিকার। প্রতিকার ব্যবস্থায় খরচ বেশি হয়; অসুস্থ গরুর জন্য আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। কেননা অসুস্থ গরু থেকে রোগ সুস্থ পশুতে ছড়াতে পারে।
উদ্দীপকে পশু চিকিৎসক রাসেল সাহেব তার চাচার বাড়ির আঙিনায় যে গরুটিকে দেখেছিল তা ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত ছিল । যদি তার চাচা এ রোগের প্রতিরোধে সচেতন হতো তাহলে পরবর্তীতে এ রোগের আক্রমণ থেকে গরুকে রক্ষা করতে পারত। রোগ দেখা দেওয়ার পর তিনি প্রতিকারের ব্যবস্থা নেন, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সুস্থ পশুর জন্যও বিপজ্জনক ।
পরিশেষে বলা যায় যে, রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ “ব্যবস্থা উত্তম”— উক্তিটি যথার্থ।