বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্র-B এর দেশি জাতের গাভির তুলনায় চিত্র-A এর বিদেশি জাতের গাভি পালন করা অধিক লাভজনক বলে আমি মনে করি। নিচে আমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো- গাভি পালন করা হয় মূলত মাংস ও দুধ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে। তাই গাভি পালন করে লাভবান হতে হলে এমন গাভি পালন করা উচিৎ যেগুলো অল্পসময়ে অধিক মাংস উৎপাদন এবং বেশি পরিমাণে দুধ প্রদান করতে সক্ষম।
দেশি জাতের গরুর ওজন সর্বোচ্চ ৩৫০-৪০০ কেজি হতে পারে, যেমন- রেড চিটাগং। এদের দৈনিক দুধ উৎপাদন ক্ষমতা ২-৫ লিটার। এ জাতের গরু ৩.৫-৪.০ বছর বয়সে প্রথম বাচ্চা প্রদান করে। সেক্ষেত্রে এ জাতীয় গরু পালন করে বাছুর উৎপাদন ও দুধ প্রাপ্তির জন্যে অনেকটা সময়ের প্রয়োজন হয়। এতে খাদ্য, আবাসস্থল, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হয়। বিদেশি জাতের গরুর ওজন সর্বোচ্চ ৮০- ১০০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, যেমন- হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান। এ গরু দৈনিক ৩০ লিটারের অধিক দুধ প্রদানে সক্ষম। এ জাতীয় গাভির দুধে চর্বির পরিমাণ অনেক কম, মাত্র ৩.৫-৪% । এ জাতের গাভি ১৮ মাসেই প্রজননক্ষম হয় এবং ৩০ মাসেই প্রথম বাচ্চা প্রসব করে। তাই অধিক মাংসের পাশাপাশি দ্রুত বাছুর ও দুধ উৎপাদন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দেশি জাতের গাভির চেয়ে বিদেশি জাতের গাভি থেকে মাংস, দুধ, চামড়া ইত্যাদি অধিক পরিমাণে পেয়ে থাকি যা অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভজনক।