উদ্দীপকে ইসমাইল সাহেব পরীক্ষণ পরিচালনায় চল নিয়ন্ত্রণের যে যে কৌশল অবলম্বন করেছেন সেগুলো আলোচনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ইসমাইল সাহেব পরীক্ষণ পরিচালনায় চল নিয়ন্ত্রণের যে যে কৌশল অবলম্বন করেছেন তা হলো- ১। অপসারণ, ২। অবস্থার ধ্রুবতা বা সমতা, ৩। তুল্যমূল্যায়ন, ৪। প্রতি তুল্যমূল্যায়ন ও ৫। দৈবচয়ন । নিম্নে আলোচনা করা হলো- ১. অপসারণ যে সকল অবাঞ্ছিত চল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, পরীক্ষণ পরিস্থিতি থেকে সেগুলোকে বর্জন বা অপসারণ করে নির্ভরশীল চলকে ঐ চলের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা হয়। যেমন, গবেষণা করার সময় বাইরের আওয়াজ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা থাকলে পরীক্ষণটি শব্দ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে করা দরকার। ২. অবস্থার ধ্রুবকতা বা সমতা : সব চলকে সব সময় পরীক্ষণ পরিবেশ থেকে অপসারণ করা যায় না। এ সকল চলকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লক্ষ করতে হবে যে, পরীক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল পরীক্ষণপাত্রের উপরই যেন এগুলো অপরিবর্তনশীলভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। যেমন, পরীক্ষণপাত্রের প্রতি নির্দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যার উপর পরীক্ষণের ফলাফল বহুলাংশে নির্ভর করে। নির্দেশাবলি মুখে বলতে গেলে কোনো বিশেষ দিক বাদ পড়তে পারে বা বিভিন্ন পরীক্ষণপাত্রের নিকট নির্দেশাবলি বলা হুবহু একই রকম নাও হতে পারে। তাই পরীক্ষণ পরিস্থিতির অপরিবর্তনশীলতা রক্ষা করার জন্য সকল পরীক্ষণপাত্রকে একই লিখিত নির্দেশাবলি প্রদান করতে হবে । ৩. তুল্যমূল্যায়ন বা ভারসাম্য সৃষ্টি : এমন কতকগুলো অবাঞ্ছিত চল আছে যেগুলোকে অপসারণ বা অবস্থার সমতাকরণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম কৌশল হলো ভারসাম্য সৃষ্টি করা। এ পদ্ধতিতে সকল বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সমান সমান দুটি দল গঠন করা হয়। একটি দলকে পরীক্ষণ দল অন্যদলকে নিয়ন্ত্রিত দল বলা হয়। এ দুটি দল সব শর্তের দিক থেকে সমান বা সমতুল্য থাকবে; পার্থক্য শুধু এই যে, পরীক্ষণ দলে অনির্ভরশীল চল প্রয়োগ করা হয় কিন্তু নিয়ন্ত্রিত দলে উক্ত চল প্রয়োগ করা হয় না। তাই দুটি দলের নির্ভরশীল চলের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলে সেজন্য শুধুমাত্র অনির্ভরশীল চলকেই দায়ী করা হয়। নির্ভরশীল চলের পার্থক্য তুলনার জন্য নিয়ন্ত্রিত চল ব্যতীত অন্যসব দিক থেকে পরীক্ষণ দল ও নিয়ন্ত্রিত দলকে সমমানে গঠন করার মাধ্যমেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ ৪. প্রতি তুল্যমূল্যায়ন বা প্রতিভারসাম্য সৃষ্টি: কোনো পরীক্ষণে যখন একই পরীক্ষণপাত্রকে একাধিক পরীক্ষণমূলক অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষণপাত্রের প্রথম অধিবেশনের অভিজ্ঞতা তার দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রতিক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ফলশ্রুতিতে ফলাফলে ভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। প্রতিভারসাম্য পদ্ধতির সাহায্যে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক অবস্থার প্রভাব সব পরীক্ষণপাত্রের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা সম্ভব। প্রতিভারসাম্য পদ্ধতিতে অনুশীলন 'AB [গণিত] 'BA [গণিত] এ আকারে প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে পরীক্ষণাধীন একটি শর্তকে একবার পরীক্ষণ দলে এবং আবার নিয়ন্ত্রিত দলে রেখে বিপরীতক্রমে পরীক্ষণাদি পরিচালনা করা হয়। ৫. দৈবচয়ন : এমন কিছু অবাঞ্ছিত চল আছে যা সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায় না এবং পূর্বোক্ত পদ্ধতিগুলোর সাহায্যেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেক্ষেত্রে দৈবচয়ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অবাঞ্ছিত চল নিয়ন্ত্রণের জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দেশ্যবিহীন কৌশলে নমুনা নির্বাচনের পন্থা অবলম্বনকেই দৈবচয়ন পদ্ধতি বলে। দৈবচয়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষণপাত্রের নিয়োগ প্রত্যেক পর্যায়ে এমনভাবে নির্দিষ্ট করা হয় যাতে প্রত্যেক পর্যায়ে প্রত্যেক পরীক্ষণপাত্রের নির্বাচিত হওয়ার সমান এবং নিরপেক্ষ সম্ভাবনা থাকে। দৈব নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, সংশ্লিষ্ট চলসমূহ দ্বারা পরীক্ষণের ফলাফল কেবলমাত্র জৈব ঘটনার মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। দৈবচয়ন চল নিয়ন্ত্রণের একটি সহজ ও উত্তম পদ্ধতি।
HSC Psychology 2nd Paper Chapter 7 : মনোবিজ্ঞানে গবেষণার পদ্ধতিসমূহ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Psychology 2nd Paper · Chapter 7 : মনোবিজ্ঞানে গবেষণার পদ্ধতিসমূহ · সৃজনশীল
উদ্দীপকে ইসমাইল সাহেব পরীক্ষণ পরিচালনায় চল নিয়ন্ত্রণের যে যে কৌশল…
উদ্দীপক
Jessore · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর


