হাবীব সাহেবের বর্তমানে রপ্তানিকৃত শিল্প পণ্যটি হলো তৈরি পোশাক।
হাবীব সাহেব স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কৃষিপণ্য পাট রপ্তানি করতেন। কিন্তু পাটের উৎপাদন ও ব্যবহার কমে যাওয়ায় তিনি তার রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিবর্তন করেন। বর্তমানে তিনি শিল্পপণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি করে থাকেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পাটের চাহিদা কমে যাওয়া, দেশীয়ভাবে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া এবং তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণই হাবীব সাহেবের রপ্তানি পণ্য পরিবর্তনের মূল কারণ।
সোনালি আঁশ নামে পরিচিত পাটের চাহিদা এক সময় বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে এদেশের প্রতিটি অঞ্চলে পাটের চাষ হতো। ফলে এদেশের তৈরিকৃত পাটজাত পণ্য যেমন- চট, বস্তা, থলে, কার্পেট, ম্যাট, পুতুল, শোপিস প্রভৃতি এবং কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি হতো। সময়ের পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে না পারা, অন্যান্য দেশের বাজার দখল, বিকল্প সিনথেটিক দ্রব্যের ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা, চাষীদের পাট চাষে অনীহা প্রভৃতি কারণে এদেশের পাটের উৎপাদন হ্রাস পায় এবং রপ্তানি কমে যায়।
অন্যদিকে আশির দশকে এ দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের উত্থান ঘটে। ভৌগোলিক কারণ, সস্তা শ্রমশক্তি, অনুকূল জলবায়ু, কাঁচামালের প্রাচুর্য প্রভৃতি নানাবিধ কারণে পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক চাহিদা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে সর্বোচ্চ পরিমাণ (BGMEA এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫-১৬ সালে ২৮০৯৪.১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮২.০১ শতাংশ) বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সস্তা শ্রমের কারণে এদেশে পোশাক তৈরির খরচ কম। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার কারণে বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তাই তৈরি পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করে লাভবান হচ্ছেন।
তাই বলা যায় যে, উপরিউক্ত কারণগুলোর কারণেই হাবীব সাহেব তার রপ্তানিকৃত কৃষিপণ্য পাট পরিবর্তন করে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছেন।