বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতি উপাদানের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
ভৌগোলিক পরিবেশের উপাদানের মধ্যে রয়েছে নদনদী, ভূপ্রকৃতি, স্বল্প সময়কাল, কাঠ ও পাথরের অভাব, মূলধন, শ্রমিক ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রভৃতি।অসংখ্য নদনদী, খালবিল প্রভৃতি দ্বারা বাংলাদেশ পরিবেষ্টিত। তাই সড়কপথ ও রেলপথ নির্মাণ করতে ঘন ঘন সেতুর প্রয়োজন হয়। এসব নির্মাণ খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার। বাংলাদেশ সমতল ভূমি, নদনদী ও খালবিলে পরিপূর্ণ। এর নরম মাটিতে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের উপযোগী নয়। আবার নিচু অঞ্চল ভরাট করে সড়কপথ ও রেলপথ নির্মাণ করতে হয়। বাংলাদেশে বর্ষাকালে বন্যা হয় বলে ঐ সময় রাস্তা নির্মাণ করা যায় না। কেবল শীতকালের কয়েক মাসই রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব। রেললাইনকে শক্তিশালী রাখতে প্রতি-১০/১২ বছর পরপর স্লিপারগুলোকে পরিবর্তন করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাঠের অভাবে সময়মতো স্লিপার বদল করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেলপথে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। স্লিপারের নিচে পুরু পাথরের স্তর থাকায় রেললাইন শক্ত থাকে; কিন্তু প্রয়োজনীয় পাথরের অভাবে বাংলাদেশের রেলপথের নিচে অবস্থিত শক্ত পাথরের স্তর খুবই সরু। এতে রেললাইনের শক্তি হ্রাস পেয়েছে। প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবও এদেশের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাববিস্তার করে।
তাছাড়া পরিবহন খাতে সরকারকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। তাই এ খাতের উন্নতি সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।