উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটি বাংলাদেশ। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা বিধৌত পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান।
বঙ্গোপসাগরের উত্তরে ফানেলাকৃতির অবস্থানে বাংলাদেশ, অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের প্রতি বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়) আঘাত হানছে। আবার বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় চীন, ভারত, নেপাল থেকে হিমালয়ের বরফগলা পানি ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পানি এদেশের ওপর প্রবাহিত হয়। ফলে বন্যা, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেখা দেয়। এসব দুর্যোগের ফলে ভূমির কৃষি ও মানুষের আবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ, পশুপাখির প্রাণহানি ঘটে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এশিয়ার দেশগুলো চতুর্দিকে বিস্তৃত। ফলে এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্র ভারত, চীন ইত্যাদি দেশগুলো দেশের ভূভাগ ও সমুদ্রপথ ব্যবহারের চাপ সৃষ্টি করে। এ দেশের ভৌগোলিক অবস্থানগত সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। এর যে সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানের মাধ্যমে, যেমন- উজানের দেশ থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদী ও জলাশয়গুলো নিয়মিত ড্রেসিংয়ের ব্যবস্থা করে পানির প্রবাহধারা ঠিক রাখা। উজানের দেশগুলোর (চীন, ভারত, নেপাল) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নদীরগুলোর (গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র) ন্যায্যতার ভিত্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করা।
ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ফায়দা নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো এবং দেশের স্বার্থের অনুকূল দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তি করা।