দৃশ্যকল্প-২ এ সাজুর সমস্যা এবং রাজুর সেমিনার মনোবিজ্ঞানের একই শাখায় আলোচিত হয় না। দুটি ভিন্ন শাখায় আলোচিত হয়। শাখা দুটি হলো যথাক্রমে অস্বভাবী মনোবিজ্ঞান ও শিল্প মনোবিজ্ঞান।
নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
অস্বভাবী-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Abnormal। আভিধানিক অর্থে Abnormal শব্দটির অর্থ হলো স্বভাব-বহির্ভূত বা অস্বভাবী। তাই স্বভাব-বহির্ভূত বা অস্বভাবী আচরণই অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়। অস্বভাবী মনোবিজ্ঞান মানুষের অস্বভাবী আচরণ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্ণনা করা হয় এবং কোনো বিশেষ নীতির উপর ভিত্তি করে এ সকল আচরণকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। কি কারণে অস্বভাবী আচরণের উদ্ভব ঘটে এবং অস্বভাবী আচরণের শারীরবৃত্তীয়, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ ও অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের মূল কাজ হলো অস্বভাবী আচরণের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তার কারণ নির্ণয় করা এবং সবশেষে অস্বভাবী আচরণের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা।
আবার, মনোবিজ্ঞানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলিত শাখা হলো শিল্প মনোবিজ্ঞান। শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে শিল্প মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে। শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের বিষয়ভুক্ত। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই কর্মচারীর দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি এবং কর্মে সন্তুষ্টি বিধান শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য। কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য কর্মের উপযুক্ত মানসিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, শিল্পে দুর্ঘটনা হ্রাস করা, শ্রমিক মালিক সম্পর্ক উন্নত করা, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আগ্রহ সৃষ্টি করাও শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সাজুর সমস্যা এবং রাজুর সেমিনার মনোবিজ্ঞানের একই শাখায় আলোচিত হয় না।