উদ্দীপক-১ এ ক ও গ চিহ্নিত বিষয়টি যথাক্রমে আচরণ এবং মানুষ ও প্রাণী, যা মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।
উদ্দীপকের প্রতি প্রতিক্রিয়া করা জীবের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য। প্রতিক্রিয়ার সামগ্রিক রূপই হলো আচরণ। কোনো বস্তু বা বিষয়ের সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ঘটলে স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপিত হয়, ফলে দেহে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়— এই প্রতিক্রিয়াই হলো আচরণ। আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং গবেষণাগারে তা পরিমাপ করা যায় । উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি পত্রিকায় চল্লিশ লক্ষ টাকার লটারীর ফলাফলে দেখতে পেল যে, সে-ই প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে। সে আনন্দে লাফিয়ে উঠল এবং চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দিল, সে চল্লিশ লক্ষ টাকার প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে। সে খুব আনন্দিত হয়েছে এবং তার আচরণে সেটি প্রকাশ পেয়েছে। লক্ষ টাকা প্রাপ্তির সংবাদে তার শরীরাভ্যন্তরে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটেছে (যেমন রক্তচাপ বেড়ে গেছে ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র অধিক সক্রিয় হয়েছে); আবার বাহির থেকে তার মুখের অবয়ব, কথাবার্তা, চাল-চলনেও আনন্দের প্রকাশ পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিক্রিয়ার এই সামগ্রিক রূপকেই আচরণ বলা হয়। কেন ও কি প্রক্রিয়ায় আচরণ ঘটে তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করাই মনোবিজ্ঞানের বিষয়।
অন্যদিকে মনোবিজ্ঞান মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক কার্যকলাপ নিয়ে অনুধ্যান করে। যে সকল ক্ষেত্রে মানুষের উপর পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না, সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সে সকল ক্ষেত্রে নিম্নতর প্রাণীর ওপর পরীক্ষণ পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সে জন্য মানুষ ও প্রাণী উভয়ের আচরণই মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়। মনোবিজ্ঞান বেশিরভাগ অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা করা হয় মানুষে। উপর। তবে অনেকেই নিম্নতর প্রাণী যেমন-ইঁদুর, কবুতর, কুকুর নিয়ে গবেষণা করেছেন ।