উদ্দীপকে ছক-২ এ ক, খ, ও গ চিহ্নিত বিষয়াবলি মনোবিজ্ঞানের শিল্প ও সাংগঠনিক, কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করছে।
আধুনিক যুগ শিল্পের যুগ। এক্ষেত্রে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে মালিক-শ্রমিক আচরণের বিশ্লেষণে শিল্প মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে। সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞান ও শিল্প মনোবিজ্ঞানের প্রায় সমার্থক আলোচনা করে। শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে শ্রমিকের কর্মদক্ষতা, সঠিক কর্মচারী নির্বাচন, শ্রমিকের অবসর, ক্লান্তি, শিল্পক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং এর পারিপার্শ্বিক প্রভাব নিরূপণ করাই শিল্প মনোবিজ্ঞান বা সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের কাজ। সেদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের উল্লেখানুসারে শিল্প মনোবিজ্ঞানকেই বোঝা যায় যা 'ক' তে নির্দেশিত হয়েছে।
পক্ষান্তরে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান ব্যক্তিজীবনের বহুবিধ সমস্যার সমাধানকল্পে উপদেশ প্রার্থীকে পরামর্শ প্রদান করে থাকে। এটি মনোবিজ্ঞানের একটি আধুনিক প্রায়োগিক শাখা, এখানে ব্যক্তিগত সমস্যায় আত্মরক্ষার মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নানা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও ক্ষমতার উন্নয়নে উপদেশ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। এ কারণে উদ্দীপকের ডায়াগ্রাম-১ এর 'খ' নির্দেশিত অংশটি মূলত কাউন্সেলিং বা উপদেশ ও নির্দেশনামূলক মনোবিজ্ঞানকেই বুঝিয়েছে ।
আবার, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানে মানসিক রোগের চিকিৎসা ও নিরাময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানসিক রোগীই পরামর্শগ্রাহী । এখানে পরামর্শদাতা একজন চিকিৎসক । এখানে পরামর্শপ্রার্থীর পূর্বাবস্থা, সমস্যার ধরণ, কারণ ইত্যাদি বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় যা 'গ' তে নিৰ্দেশ হয়েছে।