দৃশ্যকল্প-২ এ যে সমস্ত আচরণের কথা উল্লেখিত হয়েছে তা হলো নৈতিক আচরণ ও অনৈতিক আচরণ। নিচে নৈতিক ও অনৈতিক আচরণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য যেসব আচরণ মঙ্গলজনক সেসব আচরণই হলো নৈতিক আচরণ। অন্যদিকে যে সব আচরণ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ যা জাতির সাধারণত কল্যাণ বয়ে আনে না সেসব আচরণকে অনৈতিক আচরণ বলে।
২. নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি পারস্পরিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে আইন ও নিয়ম কানুন মেনে চলে, সমাজ স্বীকৃত আচরণ করে, মিথ্যা থেকে বিরত থাকে, সুশিক্ষা নেয়, অন্যের পাওনা পরিশোধ করে, ন্যায়ের পথে চলে, অন্ধকার কক্ষেও সে অন্যায় করে না। অপরদিকে অনৈতিক সম্পন্ন ব্যক্তি সমাজের প্রচলিত নিয়ম-কানুন মেনে চলতে চায় না, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে, সুশিক্ষার যথাযথ প্রয়োগ করে না, অন্যের অধিকার হরণ করতে দ্বিধা করে না, ন্যায়ের পথে চলতে চায় না।
৩. নৈতিক আচরণের মানুষ অন্য মানুষ বিপদে পড়লে সে তার সাহায্যে এগিয়ে আসে, পরামর্শ দিয়ে, অর্থ দিয়ে সে বিচারপ্রার্থীকে সহায়তা করে। অন্যদিকে অনৈতিক আচরণের মানুষ মানুষকে বিপদে ফেলেই আনন্দ পায়।
৪. নৈতিকতা মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে, পতনের পথ থেকে বাঁচায়, আলোর পথে নিয়ে আসে, স্বার্থপরতা থেকে ব্যক্তিকে সরিয়ে আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। অপরদিকে অনৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত বিবেকের দংশন অনুভব করে না।
৫. নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ সাধারণ মানুষের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন। অন্যদিকে অনৈতিকতা সম্পন্ন মানুষকে সাধারণ মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে।