Chapter 2 : আচরন ও আচরণের বিকাশ Psychology 1st Paper

HSC Psychology 1st Paper এর Chapter 2 : আচরন ও আচরণের বিকাশ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩২০

প্রশ্ন

Psychology 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বান্দরবানে এক উপজাতি দরিদ্র পরিবারে ডালিয়া ও জন নামে যমজ ভাই-বোন জন্ম নেয়। দু' ভাই বোনের চোখের রং মায়ের মতো। অর্থাভাবে ও ভবিষ্যৎ জীবনের উন্নতির চিন্তা করে বাবা-মা জনকে ৫ বছর বয়সে ঢাকার এক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিকট দত্তক দেয়। ২০ বছর বয়সে জনকে বান্দরবানে পরিবারের নিকট বেড়াতে নিয়ে গেলে প্রকৃত বাবা-মা ভাই-বোনের চাল-চলন, কথা-বার্তা ও আচরণে বেশি পার্থক্য দেখতে পান।
আচরণ কী?

উত্তর

আচরণ হলো মানুষ বা প্রাণীর যে কোনো ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া।
মায়ের অসুস্থতা কীভাবে গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবিত করে?

উত্তর

মায়ের সাথে গর্ভস্থ শিশুর নাড়ির সম্পর্ক। মায়ের ভালো-মন্দের সাথে শিশুর ভালো-মন্দ, জড়িত। শিশু নাভীরজ্জু দ্বারা মায়ের দেহ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। এ রজ্জুতে যে প্লাসেন্টা থাকে তা ছাঁকনির মতো কাজ করে। এ ছাঁকনির ভিতর দিয়ে ভাইরাস সহজেই ভ্রুণে প্রবেশ করে এবং ভ্রূণের ক্ষতি করে। প্রথম দু সপ্তাহ থেকে চার মাসের মধ্যে শিশুর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জন্ম নেয়। এ সময় শিশু যদি মায়ের কাছ থেকে, রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে চোখে ছানি পড়া, অন্ধ হওয়া, মানসিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়ের ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার ইত্যাদি রোগও শিশুর উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। আমেরিকার গর্ভবতী মায়েদের উপর এক জরিপে দেখা যায় যে, শতকরা ৫ ভাগ মায়ের টক্সিমা নামক রোগ হয়ে থাকে। এ রোগ চলতে থাকলে ১৩% মা মারা যায় এবং ৫০% শিশু গর্ভে মারা যায়। তাই বলা যায় যে, মায়ের অসুস্থতা গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবিত করে।
জন কোন ধরনের যজম? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ডালিয়া এবং জনের যমজের প্রকৃতি ভিন্ন। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো- কোনো কারণে একাধিক ডিম্বাণুর সাথে একাধিক শুক্রাণু মিলিত হয়ে একাধিক জাইগোটের সৃষ্টি হয় এবং এ একাধিক জাইগোট একই সময়ে একটি গর্তে অবস্থান করে এবং বৃদ্ধি পায়। এমন ব্যতিক্রমধর্মী গর্ভধারণের ফলে যে যমজ সন্তানের জন্ম হয় তাদেরকে ভ্রাতৃপ্রতিম বা ভিন্ন যমজ বলে।. এ ধরনের যমজ শিশুরা কখনো একই লিঙ্গবিশিষ্ট আবার কখনো আলাদা লিঙ্গবিশিষ্ট হয়ে থাকে এবং এ ধরনের যমজ শিশুরা শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও সাধারণত আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। উদ্দীপকে ডলিয়া ও জন নামে যমজ ভাইবোন যাদের জন্ম বান্দরবানের এক উপজাতি পরিবারে। অর্থাৎ ডালিয়া ও জন আলাদা লিঙ্গ বিশিষ্ট। তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, জন ভিন্ন যমজ।
ডালিয়া ও জনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানের প্রভাব অধিক? মতামত দাও।

উত্তর

ডালিয়া ও জন যমজ ভাই বোন। এদের আচরণের পার্থক্যের জন্য পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় পালিত সন্তানদের ক্ষেত্রে বংশগতির চেয়ে পরিবেশের প্রভাব বেশি বলে প্রমাণ পেয়েছেন। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো- পরিবেশের প্রভাব প্রসঙ্গে কিংসলি ডেভিস্ ইসাবেলা নামের একটি শিশুর উল্লেখ করেছেন। ইসাবেলা তার কালা এবং বোবা মায়ের সাথে সাড়ে ছ' বছর একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে আবদ্ধ ছিল। সাড়ে ছ' বছর পর ইসাবেলাকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তার মধ্যে অনেক মানবিক গুণাবলি অনুপস্থিত ছিল। প্রশিক্ষণের ফলে দু' বছরে সে ভালোভাবে কথা বলতে শেখে এবং তার বুদ্ধ্যঙ্ক বেড়ে যায় তিনগুণ। ইসাবেলা ১৪ বছর বয়সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ করে। পরিবেশের প্রভাবের কারণেই ইসাবেলার আচরণের এরূপ উন্নতি ঘটেছে। অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে উঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বৃদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকে ডালিয়া ও জন যমজ ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও জনকে ঢাকার এক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিকট দত্তক দেওয়া হয়। ফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে সে বেড়ে উঠে। তাই ২০ বছর পরে সে যখন তার প্রকৃত বাবা-মার কাছে বেড়াতে আসে, তখন তার বাবা-মা জনের চাল-চলন, কথা-বার্তা ও আচরণের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পান। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, ডালিয়া ও জনের আচরণের পার্থক্যের জন্য পরিবেশের প্রভাবই অধিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বান্দরবানে এক উপজাতি দরিদ্র পরিবারে ডালিয়া ও জন নামে যমজ ভাই-বোন জন্ম নেয়। দু' ভাই বোনের চোখের রং মায়ের মতো। অর্থাভাবে ও ভবিষ্যৎ জীবনের উন্নতির চিন্তা করে বাবা-মা জনকে ৫ বছর বয়সে ঢাকার এক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিকট দত্তক দেয়। ২০ বছর বয়সে জনকে বান্দরবানে পরিবারের নিকট বেড়াতে নিয়ে গেলে প্রকৃত বাবা-মা ভাই-বোনের চাল-চলন, কথা-বার্তা ও আচরণে বেশি পার্থক্য দেখতে পান।
আচরণ কী?

উত্তর

আচরণ হলো মানুষ বা প্রাণীর যে কোনো ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া।
মায়ের অসুস্থতা কীভাবে গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবিত করে?

উত্তর

মায়ের সাথে গর্ভস্থ শিশুর নাড়ির সম্পর্ক। মায়ের ভালো-মন্দের সাথে শিশুর ভালো-মন্দ, জড়িত। শিশু নাভীরজ্জু দ্বারা মায়ের দেহ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। এ রজ্জুতে যে প্লাসেন্টা থাকে তা ছাঁকনির মতো কাজ করে। এ ছাঁকনির ভিতর দিয়ে ভাইরাস সহজেই ভ্রুণে প্রবেশ করে এবং ভ্রূণের ক্ষতি করে। প্রথম দু সপ্তাহ থেকে চার মাসের মধ্যে শিশুর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জন্ম নেয়। এ সময় শিশু যদি মায়ের কাছ থেকে, রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে চোখে ছানি পড়া, অন্ধ হওয়া, মানসিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়ের ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার ইত্যাদি রোগও শিশুর উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। আমেরিকার গর্ভবতী মায়েদের উপর এক জরিপে দেখা যায় যে, শতকরা ৫ ভাগ মায়ের টক্সিমা নামক রোগ হয়ে থাকে। এ রোগ চলতে থাকলে ১৩% মা মারা যায় এবং ৫০% শিশু গর্ভে মারা যায়। তাই বলা যায় যে, মায়ের অসুস্থতা গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবিত করে।
জন কোন ধরনের যজম? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ডালিয়া এবং জনের যমজের প্রকৃতি ভিন্ন। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো- কোনো কারণে একাধিক ডিম্বাণুর সাথে একাধিক শুক্রাণু মিলিত হয়ে একাধিক জাইগোটের সৃষ্টি হয় এবং এ একাধিক জাইগোট একই সময়ে একটি গর্তে অবস্থান করে এবং বৃদ্ধি পায়। এমন ব্যতিক্রমধর্মী গর্ভধারণের ফলে যে যমজ সন্তানের জন্ম হয় তাদেরকে ভ্রাতৃপ্রতিম বা ভিন্ন যমজ বলে।. এ ধরনের যমজ শিশুরা কখনো একই লিঙ্গবিশিষ্ট আবার কখনো আলাদা লিঙ্গবিশিষ্ট হয়ে থাকে এবং এ ধরনের যমজ শিশুরা শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও সাধারণত আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। উদ্দীপকে ডলিয়া ও জন নামে যমজ ভাইবোন যাদের জন্ম বান্দরবানের এক উপজাতি পরিবারে। অর্থাৎ ডালিয়া ও জন আলাদা লিঙ্গ বিশিষ্ট। তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, জন ভিন্ন যমজ।
ডালিয়া ও জনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানের প্রভাব অধিক? মতামত দাও।

উত্তর

ডালিয়া ও জন যমজ ভাই বোন। এদের আচরণের পার্থক্যের জন্য পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় পালিত সন্তানদের ক্ষেত্রে বংশগতির চেয়ে পরিবেশের প্রভাব বেশি বলে প্রমাণ পেয়েছেন। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো- পরিবেশের প্রভাব প্রসঙ্গে কিংসলি ডেভিস্ ইসাবেলা নামের একটি শিশুর উল্লেখ করেছেন। ইসাবেলা তার কালা এবং বোবা মায়ের সাথে সাড়ে ছ' বছর একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে আবদ্ধ ছিল। সাড়ে ছ' বছর পর ইসাবেলাকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তার মধ্যে অনেক মানবিক গুণাবলি অনুপস্থিত ছিল। প্রশিক্ষণের ফলে দু' বছরে সে ভালোভাবে কথা বলতে শেখে এবং তার বুদ্ধ্যঙ্ক বেড়ে যায় তিনগুণ। ইসাবেলা ১৪ বছর বয়সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ করে। পরিবেশের প্রভাবের কারণেই ইসাবেলার আচরণের এরূপ উন্নতি ঘটেছে। অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে উঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বৃদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকে ডালিয়া ও জন যমজ ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও জনকে ঢাকার এক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিকট দত্তক দেওয়া হয়। ফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে সে বেড়ে উঠে। তাই ২০ বছর পরে সে যখন তার প্রকৃত বাবা-মার কাছে বেড়াতে আসে, তখন তার বাবা-মা জনের চাল-চলন, কথা-বার্তা ও আচরণের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পান। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, ডালিয়া ও জনের আচরণের পার্থক্যের জন্য পরিবেশের প্রভাবই অধিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সিমি নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী ছিল। পাড়ার বখাটে যুবকদের। অত্যাচার সইতে না পেরে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০০১ সিমি আত্মহত্যা করে।। মতিঝিল টিএ্যান্ডটি কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সিমি নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। প্রতিদিন সে খিলগাঁও থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করতো। চারুকলার খরচ চালানোর জন্য সিমি এবি ফ্যাশান মেকার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতো। এছাড়া সহপাঠীসহ বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলপনা ও অন্যান্য সাজ-সজ্জার কাজ করতো। এসব কাজের সময় সিমির মাঝেমধ্যে বাড়ি ফিরতে রাত হতো। এ নিয়ে স্থানীয় মাস্তান মোফাজ্জল, দোয়েল, খলিলসহ কয়েকজন। তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতো। নানা ধরনের অম্লীল কথা শোনাত।
নৈতিক বিকাশ কী?

উত্তর

নৈতিক বিকাশ হলো এমন বিকাশ যেখানে ব্যক্তির সাথে মিথস্ক্রিয়ায় প্রচলিত আইন ও নিয়ম নীতিসমূহকে শ্রদ্ধা করা হয়।
শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেগীয় বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের আবেগসমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে। শৈশবের প্রথম পর্যায়ে প্রায় শিশুরা নির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশ করে। সামান্য কারণে তীব্র আবেগ প্রকাশ পায় যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কিন্তু মেজাজ দেখানো, রাগ করা, উদাসীনতা ইত্যাদি আবেগময় প্রতিক্রিয়া যে সঙ্গী সাথীর পছন্দ নয়, তা শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা অল্প দিনের মধ্যেই বুঝতে শেখে। ধীরে ধীরে এও বুঝতে শিখে যে রাগে ফেটে পড়াকে বন্ধুরা ছেলেমি ভাবে। একইভাবে ভয় পেয়ে সরে গেলে কাপুরুষতার পরিচয় মনে করে। সেজন্য শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়ে নিজেদের আবেগ অন্যের সামনে যাতে প্রকাশ না পায় সে বিষয়ে সচেষ্ট হয়। শৈশবের শেষ পর্যায়ে আনন্দ প্রকাশ করাই হচ্ছে আবেগের বৈশিষ্ট্য। তারা আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে খিলখিল করে হাসে। হাত-পা ছোঁড়ে, লাফালাফি করে।
সিমির জীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সিমির জীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছে আমার পাঠ্যবইয়ের একটি অংশ ইন্ড টিজিংকে নির্দেশ করে যার জন্য সিমিকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছে। ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় বেকারত্ব, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, জনসংখ্যার আধিক্য ইত্যাদি সমস্যা বর্তমান। এর পাশাপাশি আরেকটি সামাজিক ব্যাধি সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম ইভ টিজিং। 'বর্তমানে 'ইভ টিজিং' আমাদের সমাজে ভয়াবহ ক্যান্সার। রোগের মতো প্রকট আকার ধারণ করেছে। 'ইভ টিজিং' ধারণাটি যৌন হয়রানির একটি অমার্জিত ভাষা যা সৃষ্টি বিবরণে পবিত্র কুরআন ও বাইবেলে বর্ণিত প্রথম নারী 'হাওয়া' ও 'ইড' কে নির্দেশ করেছে। ইভ টিজিং শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ধরা হয় 'নারীকে উত্ত্যক্ত করা'। ইভ টিজিং হলো এক ধরনের নারী নির্যাতন। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মজীবী নারীসহ প্রতিটি নারীই তার চলাফেরার পথে প্রায়ই কোনো না কোনোভাবে ইভ টিজিং-এর স্বীকার হয়ে থাকেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অপব্যবহারের অপকৌশলসহ বাচনিক, অবাচনিক কিংবা শারীরিক উপায়ে বখাটেরা ইভ টিজিং করে থাকে। ইভ টিজিংয়ের ধরনগুলো হলো- শিষ বাজানো, উদ্দেশ্যপূর্ণ যৌন আবেদনময়ী গান গাওয়া, বাচনিক অশালীন মন্তব্য, হুমকি-প্রদান, অবৈধ যৌন সম্পর্কের দাবি বা অনুরোধ, লম্পট চাহনী, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, যৌন অর্থবাহী ছবি বা ভিডিও দেখানো, অস্বস্তিপূর্ণ অপলক দৃষ্টি, পিছু নেওয়া, মোবাইলে কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ পাঠানো, শারীরিকভাবে ঘাড় ও কাঁধে হাত দেওয়া, গা ঘেঁষে দাঁড়ানো, জড়িয়ে ধরা, শরীরে ধাক্কা দেওয়া ইত্যাদি।
সিমির জীবনের ঘটনাটি প্রতিরোধের জন্য দেশের সকল মানুষের কী করণীয়? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সিমির জীবনের ঘটনাটি প্রতিরোধের জন্য দেশের সকল মানুষের। কিছু না কিছু করণীয় রয়েছে। ইভ টিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি। । সাম্প্রতিককালে এর জন্য সিমির মতো আরও অনেক মেয়ে, মেয়ের বাবা ও শিক্ষককে পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে পতিত হতে হয়েছে, তাদেরকে ইভটিজার-রা হত্যা করছে। এ সামাজিক ব্যাধিটি প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। ইভ টিজিং-এর সত্যিকারের উৎসমূল খুঁজে বের করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি আইন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সব পর্যায়ের সমন্বিত সুসংহত। উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ১. পারিবারিক প্রতিরোধ: ইভ-টিজিং-এর শিকার নারীর পরিষার উত্যক্তকারী ছেলে ও তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপারটি যেমন জানাবে, তেমনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আইন। প্রয়োগকারী সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি। অবগত করবে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সকলে স্ব-স্ব ভূমিকা কার্যকরভাবে পালন করছে সে ব্যাপারটি নিশ্চিত হতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানাতে হবে। ২. সামাজিক প্রতিরোধ: সামাজিক প্রতিরোধের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, যুব ও নারী সমাজসহ সমাজের দায়িত্বশীল জনগণ নিয়ে এলাকাভিত্তিক ইভ টিজিং কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি ইভ টিজিং ঘটলে তাৎক্ষণিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং উত্ত্যক্তকারী ও তার পরিবারকে ডেকে নিয়ে সমাজবিরোধী আচরণ থেকে। বিরত থাকার জন্য আল্টিমেটাম দিবে। ৩. সংবাদপত্র ও তথ্য মাধ্যমের ভূমিকা: ইভ টিজিং-এর খবরাখবর সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করে জনগণকে ইভ। টিজিং প্রতিরোধকল্পে উদ্বুদ্ধ করা যায়। তথ্য মাধ্যম সকল প্রকার সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সিমি নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী ছিল। পাড়ার বখাটে যুবকদের। অত্যাচার সইতে না পেরে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০০১ সিমি আত্মহত্যা করে।। মতিঝিল টিএ্যান্ডটি কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সিমি নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। প্রতিদিন সে খিলগাঁও থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করতো। চারুকলার খরচ চালানোর জন্য সিমি এবি ফ্যাশান মেকার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতো। এছাড়া সহপাঠীসহ বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলপনা ও অন্যান্য সাজ-সজ্জার কাজ করতো। এসব কাজের সময় সিমির মাঝেমধ্যে বাড়ি ফিরতে রাত হতো। এ নিয়ে স্থানীয় মাস্তান মোফাজ্জল, দোয়েল, খলিলসহ কয়েকজন। তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতো। নানা ধরনের অম্লীল কথা শোনাত।
নৈতিক বিকাশ কী?

উত্তর

নৈতিক বিকাশ হলো এমন বিকাশ যেখানে ব্যক্তির সাথে মিথস্ক্রিয়ায় প্রচলিত আইন ও নিয়ম নীতিসমূহকে শ্রদ্ধা করা হয়।
শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেগীয় বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের আবেগসমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে। শৈশবের প্রথম পর্যায়ে প্রায় শিশুরা নির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশ করে। সামান্য কারণে তীব্র আবেগ প্রকাশ পায় যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কিন্তু মেজাজ দেখানো, রাগ করা, উদাসীনতা ইত্যাদি আবেগময় প্রতিক্রিয়া যে সঙ্গী সাথীর পছন্দ নয়, তা শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা অল্প দিনের মধ্যেই বুঝতে শেখে। ধীরে ধীরে এও বুঝতে শিখে যে রাগে ফেটে পড়াকে বন্ধুরা ছেলেমি ভাবে। একইভাবে ভয় পেয়ে সরে গেলে কাপুরুষতার পরিচয় মনে করে। সেজন্য শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়ে নিজেদের আবেগ অন্যের সামনে যাতে প্রকাশ না পায় সে বিষয়ে সচেষ্ট হয়। শৈশবের শেষ পর্যায়ে আনন্দ প্রকাশ করাই হচ্ছে আবেগের বৈশিষ্ট্য। তারা আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে খিলখিল করে হাসে। হাত-পা ছোঁড়ে, লাফালাফি করে।
সিমির জীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সিমির জীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছে আমার পাঠ্যবইয়ের একটি অংশ ইন্ড টিজিংকে নির্দেশ করে যার জন্য সিমিকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছে। ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় বেকারত্ব, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, জনসংখ্যার আধিক্য ইত্যাদি সমস্যা বর্তমান। এর পাশাপাশি আরেকটি সামাজিক ব্যাধি সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম ইভ টিজিং। 'বর্তমানে 'ইভ টিজিং' আমাদের সমাজে ভয়াবহ ক্যান্সার। রোগের মতো প্রকট আকার ধারণ করেছে। 'ইভ টিজিং' ধারণাটি যৌন হয়রানির একটি অমার্জিত ভাষা যা সৃষ্টি বিবরণে পবিত্র কুরআন ও বাইবেলে বর্ণিত প্রথম নারী 'হাওয়া' ও 'ইড' কে নির্দেশ করেছে। ইভ টিজিং শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ধরা হয় 'নারীকে উত্ত্যক্ত করা'। ইভ টিজিং হলো এক ধরনের নারী নির্যাতন। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মজীবী নারীসহ প্রতিটি নারীই তার চলাফেরার পথে প্রায়ই কোনো না কোনোভাবে ইভ টিজিং-এর স্বীকার হয়ে থাকেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অপব্যবহারের অপকৌশলসহ বাচনিক, অবাচনিক কিংবা শারীরিক উপায়ে বখাটেরা ইভ টিজিং করে থাকে। ইভ টিজিংয়ের ধরনগুলো হলো- শিষ বাজানো, উদ্দেশ্যপূর্ণ যৌন আবেদনময়ী গান গাওয়া, বাচনিক অশালীন মন্তব্য, হুমকি-প্রদান, অবৈধ যৌন সম্পর্কের দাবি বা অনুরোধ, লম্পট চাহনী, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, যৌন অর্থবাহী ছবি বা ভিডিও দেখানো, অস্বস্তিপূর্ণ অপলক দৃষ্টি, পিছু নেওয়া, মোবাইলে কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ পাঠানো, শারীরিকভাবে ঘাড় ও কাঁধে হাত দেওয়া, গা ঘেঁষে দাঁড়ানো, জড়িয়ে ধরা, শরীরে ধাক্কা দেওয়া ইত্যাদি।
সিমির জীবনের ঘটনাটি প্রতিরোধের জন্য দেশের সকল মানুষের কী করণীয়? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সিমির জীবনের ঘটনাটি প্রতিরোধের জন্য দেশের সকল মানুষের। কিছু না কিছু করণীয় রয়েছে। ইভ টিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি। । সাম্প্রতিককালে এর জন্য সিমির মতো আরও অনেক মেয়ে, মেয়ের বাবা ও শিক্ষককে পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে পতিত হতে হয়েছে, তাদেরকে ইভটিজার-রা হত্যা করছে। এ সামাজিক ব্যাধিটি প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। ইভ টিজিং-এর সত্যিকারের উৎসমূল খুঁজে বের করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি আইন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সব পর্যায়ের সমন্বিত সুসংহত। উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ১. পারিবারিক প্রতিরোধ: ইভ-টিজিং-এর শিকার নারীর পরিষার উত্যক্তকারী ছেলে ও তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপারটি যেমন জানাবে, তেমনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আইন। প্রয়োগকারী সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি। অবগত করবে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সকলে স্ব-স্ব ভূমিকা কার্যকরভাবে পালন করছে সে ব্যাপারটি নিশ্চিত হতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানাতে হবে। ২. সামাজিক প্রতিরোধ: সামাজিক প্রতিরোধের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, যুব ও নারী সমাজসহ সমাজের দায়িত্বশীল জনগণ নিয়ে এলাকাভিত্তিক ইভ টিজিং কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি ইভ টিজিং ঘটলে তাৎক্ষণিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং উত্ত্যক্তকারী ও তার পরিবারকে ডেকে নিয়ে সমাজবিরোধী আচরণ থেকে। বিরত থাকার জন্য আল্টিমেটাম দিবে। ৩. সংবাদপত্র ও তথ্য মাধ্যমের ভূমিকা: ইভ টিজিং-এর খবরাখবর সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করে জনগণকে ইভ। টিজিং প্রতিরোধকল্পে উদ্বুদ্ধ করা যায়। তথ্য মাধ্যম সকল প্রকার সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মন্টু ও সেন্টু অভিন্ন যমজ সন্তান। কোনো এক দরিদ্র পরিবারে তাদের বাস। কোনো এক প্রফেসর মন্টুকে দত্তক হিসেবে নিয়ে আসেন তাদের পরিবারে। ছেলে হিসেবে তারা তাকে আদরযত্ন দিয়ে লালন-পালন করেন। মন্টু পরবর্তীতে একটি ভালো চাকরি পেল। ঐ সময় মন্টু ও সেন্টুর বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) প্রায় একইরকম পাওয়া গেল।
বংশগতি কী

উত্তর

বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরগণের মধ্যে সঞ্চালিত করে। সাদা বা কালো, লম্বা বা খাটো, চঞ্চল বা শান্ত প্রভৃতি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বংশগতির সূত্রে অর্জিত প্রবণতারই ফলশ্রুতি।
লিঙ্গ নির্ধারণ কীভাবে হয়?

উত্তর

গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করছে সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে। পরিপক্ক ডিম্বাণুতে থাকে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি X ক্রোমোসোম। অপরপক্ষে, শুক্রাণুতে থাকে ২২টি সমরূপী এবং একটি X অথবা একটি Y ক্রোমোসোম। সমরূপী ক্রোমোসোমকে অযৌন ক্রোমোসোম এবং X ও Y কে সেক্স ক্রোমোসোম বলা হয়। এ X এবং Y যৌন ক্রোমোসোমগুলোই শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করে। X ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি Y ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তাহলে শিশুটি ছেলে (XY) হবে। আর যদি ডিম্বাণু X ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তবে শিশুটি মেয়ে (XX) হবে।
সেন্টুর জীবনে পরিবেশের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায় মন্টু ও সেন্টু অভিন্ন যমজ সন্তান। তাদের জন্ম একটি দরিদ্র পরিবারে। পরবর্তীতে মন্টুকে প্রফেসর দত্তক হিসেবে নিয়ে উন্নত পরিবেশে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু সেন্টু তার পূর্বতন দরিদ্র পরিবেশেই বড় হতে থাকেন। সেন্টুর জীবনে পরিবেশের প্রভাব আলোচনা করা হলো- মানব আচরণ নিয়ন্ত্রণে বংশগতি না-কি পরিবেশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে এ বিতর্ক বহুদিনের পুরাতন। এ বিষয়ে গবেষকদের কেহ কেহ বংশগতির প্রাধান্যের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার কেহ কেহ পরিবেশের ভূমিকা মুখ্য বলে বর্ণনা করেছেন। সেন্টু ও মন্টু যেহেতু অভিন্ন যমজ সন্তান সেহেতু পর্যবেক্ষণে দেখা যায় অভিন্ন যমজ সন্তানদের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে হুবহু মিল থাকে। তবে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হলে তার কারণ হিসেবে পরিবেশকেই দায়ী করা হয়। সুতরাং সেন্টু ও মন্টুর মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যের মিল থাকলেও পরিবেশগত ভিন্নতার কারণেই সেন্টু আজ মন্টুর তুলনায় নিম্ন অবস্থানেই রয়েছে। সেন্টু ও মন্টুর ঘটনাটি মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নিউম্যান, ফ্রিম্যান ও হলজিঙ্গার (১৯৩৭)-এর পরীক্ষণের সাথে মিলে যায়। কারণ সেন্টু ও মন্টু ভিন্ন পরিবেশে বড় হলেও তাদের IQ একই ছিল। তবে মন্টু উন্নত পরিবেশে থাকার কারণে লেখাপড়া শিখে ভালো চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু সেন্টু দরিদ্র। পরিবেশে বাস করার কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। যার ফলে সেন্টু ভালো চাকরি পায়নি। শুধু তাই নয় দরিদ্র পরিবেশে বসবাসের কারণে মন্টুর মতো জীবনযাপন থেকেও সে বঞ্চিত। পরিশেষে বলা যায় যে, মন্টুর তুলনায় সেন্টুর অনুন্নত জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাবই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
মন্টু ও সেন্টুর ব্যাপারে বংশগতি ও পরিবেশের যে প্রভাব ফেলেছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মন্টু ও সেন্টু যমজ সন্তান। বংশগতির প্রভাবে তদের IQ একই ছিল। কিন্তু দুটি পৃথক পরিবেশে দু'জন বড় হওয়ার কারণে মন্টু চাকরি পেয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। মন্টু ও সেন্টুর ব্যাপারে বংশগতি ও পরিবেশ উভয়েরই ভূমিকা ছিল। নিচে বিভিন্ন গবেষণালব্ধ ফলাফলের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হলো- ১ . যমজ সন্তান পর্যবেক্ষণ: মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নিউম্যান, ফ্রিম্যান এবং হলজিঙ্গার পরিবেশের প্রভাব নিরূপণের জন্য ১৯ জোড়া অভিন্ন যমজকে পরীক্ষা করেন। এদের মধ্যে একজোড়া অভিন্ন। যমজ সন্তান, রিচার্ড এবং রেমন্ড বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। রিচার্ডকে এক মাস বয়সে এক দরিদ্র ট্রাক ড্রাইভার পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ২৩ মাস বয়সী রেমন্ডকে এক ধনী চিকিৎসক পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সকালীন সময়ে গবেষকত্রয় রিচার্ড এবং রেমন্ডকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে লালিতপালিত হলেও তারা প্রায় একই ধরনের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। একইভাবে নিউম্যান, ফ্রিম্যান এবং হলজিঙ্গার বাকি ১৮ জোড়া অভিন্ন যমজকে পরীক্ষা করেন। তাঁরা তাঁদের গবেষণায় দুটি বিষয় লক্ষ করেন: ক. পরিবেশের ভিন্নতা থাকলেও অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে তা তাদের বুদ্ধ্যাঙ্কের উপর বেশি প্রভাব বিস্তার করে না। খ. পরিবেশের এ ভিন্নতা অভিন্ন যমজদের ব্যক্তিত্বের সংরক্ষণের উপর বেশ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে। ২. পালিত সন্তান পর্যবেক্ষণ: ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন গুণাবলির উপর বংশগতির ও পরিবেশের প্রভার জানার জন্য মনোবিজ্ঞানী বার্কস পালিত সন্তানদের নিয়ে গবেষণা করে। বার্কস দেখলেন, পালিত সন্তানদের বুদ্ধির (IQ) সঙ্গে পালক পিতাদের বুদ্ধির চেয়ে তাদের নিজেদের আসল পিতাদের বুদ্ধির সামঞ্জস্য বেশি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে বুদ্ধি নির্ভর করে বেশির ভাগ বংশগতির উপরেই। আবার স্কোডাক (১৯৫০) এর গবেষণা থেকে অন্যরূপ তথ্য পাওয়া গেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে একই পরিবেশে পালিত হওয়ার জন্যই ছেলেমেয়েদের বুদ্ধিও একই রকম হয়ে থাকে। তবে Kamin (1973) বলেছেন, প্রকৃত সন্তান ও পালিত সন্তানদের একই বাড়িতে লালন করা হলে পিতার বুদ্ধির সঙ্গে আসল সন্তানদের বুদ্ধির মিল কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। তবে এটা খুব বেশি নয়। বরং পরিবেশের সাদৃশ্যই এর জন্য বেশি দায়ী।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মন্টু ও সেন্টু অভিন্ন যমজ সন্তান। কোনো এক দরিদ্র পরিবারে তাদের বাস। কোনো এক প্রফেসর মন্টুকে দত্তক হিসেবে নিয়ে আসেন তাদের পরিবারে। ছেলে হিসেবে তারা তাকে আদরযত্ন দিয়ে লালন-পালন করেন। মন্টু পরবর্তীতে একটি ভালো চাকরি পেল। ঐ সময় মন্টু ও সেন্টুর বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) প্রায় একইরকম পাওয়া গেল।
বংশগতি কী

উত্তর

বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরগণের মধ্যে সঞ্চালিত করে। সাদা বা কালো, লম্বা বা খাটো, চঞ্চল বা শান্ত প্রভৃতি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বংশগতির সূত্রে অর্জিত প্রবণতারই ফলশ্রুতি।
লিঙ্গ নির্ধারণ কীভাবে হয়?

উত্তর

গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করছে সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে। পরিপক্ক ডিম্বাণুতে থাকে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি X ক্রোমোসোম। অপরপক্ষে, শুক্রাণুতে থাকে ২২টি সমরূপী এবং একটি X অথবা একটি Y ক্রোমোসোম। সমরূপী ক্রোমোসোমকে অযৌন ক্রোমোসোম এবং X ও Y কে সেক্স ক্রোমোসোম বলা হয়। এ X এবং Y যৌন ক্রোমোসোমগুলোই শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করে। X ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি Y ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তাহলে শিশুটি ছেলে (XY) হবে। আর যদি ডিম্বাণু X ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তবে শিশুটি মেয়ে (XX) হবে।
সেন্টুর জীবনে পরিবেশের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বুঝা যায় মন্টু ও সেন্টু অভিন্ন যমজ সন্তান। তাদের জন্ম একটি দরিদ্র পরিবারে। পরবর্তীতে মন্টুকে প্রফেসর দত্তক হিসেবে নিয়ে উন্নত পরিবেশে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু সেন্টু তার পূর্বতন দরিদ্র পরিবেশেই বড় হতে থাকেন। সেন্টুর জীবনে পরিবেশের প্রভাব আলোচনা করা হলো- মানব আচরণ নিয়ন্ত্রণে বংশগতি না-কি পরিবেশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে এ বিতর্ক বহুদিনের পুরাতন। এ বিষয়ে গবেষকদের কেহ কেহ বংশগতির প্রাধান্যের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার কেহ কেহ পরিবেশের ভূমিকা মুখ্য বলে বর্ণনা করেছেন। সেন্টু ও মন্টু যেহেতু অভিন্ন যমজ সন্তান সেহেতু পর্যবেক্ষণে দেখা যায় অভিন্ন যমজ সন্তানদের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে হুবহু মিল থাকে। তবে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হলে তার কারণ হিসেবে পরিবেশকেই দায়ী করা হয়। সুতরাং সেন্টু ও মন্টুর মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যের মিল থাকলেও পরিবেশগত ভিন্নতার কারণেই সেন্টু আজ মন্টুর তুলনায় নিম্ন অবস্থানেই রয়েছে। সেন্টু ও মন্টুর ঘটনাটি মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নিউম্যান, ফ্রিম্যান ও হলজিঙ্গার (১৯৩৭)-এর পরীক্ষণের সাথে মিলে যায়। কারণ সেন্টু ও মন্টু ভিন্ন পরিবেশে বড় হলেও তাদের IQ একই ছিল। তবে মন্টু উন্নত পরিবেশে থাকার কারণে লেখাপড়া শিখে ভালো চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু সেন্টু দরিদ্র। পরিবেশে বাস করার কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। যার ফলে সেন্টু ভালো চাকরি পায়নি। শুধু তাই নয় দরিদ্র পরিবেশে বসবাসের কারণে মন্টুর মতো জীবনযাপন থেকেও সে বঞ্চিত। পরিশেষে বলা যায় যে, মন্টুর তুলনায় সেন্টুর অনুন্নত জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাবই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
মন্টু ও সেন্টুর ব্যাপারে বংশগতি ও পরিবেশের যে প্রভাব ফেলেছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মন্টু ও সেন্টু যমজ সন্তান। বংশগতির প্রভাবে তদের IQ একই ছিল। কিন্তু দুটি পৃথক পরিবেশে দু'জন বড় হওয়ার কারণে মন্টু চাকরি পেয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। মন্টু ও সেন্টুর ব্যাপারে বংশগতি ও পরিবেশ উভয়েরই ভূমিকা ছিল। নিচে বিভিন্ন গবেষণালব্ধ ফলাফলের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হলো- ১ . যমজ সন্তান পর্যবেক্ষণ: মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নিউম্যান, ফ্রিম্যান এবং হলজিঙ্গার পরিবেশের প্রভাব নিরূপণের জন্য ১৯ জোড়া অভিন্ন যমজকে পরীক্ষা করেন। এদের মধ্যে একজোড়া অভিন্ন। যমজ সন্তান, রিচার্ড এবং রেমন্ড বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। রিচার্ডকে এক মাস বয়সে এক দরিদ্র ট্রাক ড্রাইভার পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ২৩ মাস বয়সী রেমন্ডকে এক ধনী চিকিৎসক পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সকালীন সময়ে গবেষকত্রয় রিচার্ড এবং রেমন্ডকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে লালিতপালিত হলেও তারা প্রায় একই ধরনের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। একইভাবে নিউম্যান, ফ্রিম্যান এবং হলজিঙ্গার বাকি ১৮ জোড়া অভিন্ন যমজকে পরীক্ষা করেন। তাঁরা তাঁদের গবেষণায় দুটি বিষয় লক্ষ করেন: ক. পরিবেশের ভিন্নতা থাকলেও অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে তা তাদের বুদ্ধ্যাঙ্কের উপর বেশি প্রভাব বিস্তার করে না। খ. পরিবেশের এ ভিন্নতা অভিন্ন যমজদের ব্যক্তিত্বের সংরক্ষণের উপর বেশ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে। ২. পালিত সন্তান পর্যবেক্ষণ: ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন গুণাবলির উপর বংশগতির ও পরিবেশের প্রভার জানার জন্য মনোবিজ্ঞানী বার্কস পালিত সন্তানদের নিয়ে গবেষণা করে। বার্কস দেখলেন, পালিত সন্তানদের বুদ্ধির (IQ) সঙ্গে পালক পিতাদের বুদ্ধির চেয়ে তাদের নিজেদের আসল পিতাদের বুদ্ধির সামঞ্জস্য বেশি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে বুদ্ধি নির্ভর করে বেশির ভাগ বংশগতির উপরেই। আবার স্কোডাক (১৯৫০) এর গবেষণা থেকে অন্যরূপ তথ্য পাওয়া গেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে একই পরিবেশে পালিত হওয়ার জন্যই ছেলেমেয়েদের বুদ্ধিও একই রকম হয়ে থাকে। তবে Kamin (1973) বলেছেন, প্রকৃত সন্তান ও পালিত সন্তানদের একই বাড়িতে লালন করা হলে পিতার বুদ্ধির সঙ্গে আসল সন্তানদের বুদ্ধির মিল কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। তবে এটা খুব বেশি নয়। বরং পরিবেশের সাদৃশ্যই এর জন্য বেশি দায়ী।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফজলু ও সাবিহা ভালবাসাবাসি করে বিয়ে করেছে। সাবিহার ধূসর বর্ণ চোখ এবং কালো চুল ফজলুকে মোহিত করেছে। তাদের যজম সন্তান হলো- একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তানের চোখ মায়ের। মতো ধূসর এবং চুল খুবই কালো। বাবা ছেলেকে নিয়ে বিলেত গেলেন। ১৫ বৎসর পর আবার বাসায় ফিরে এলেন। দেখা গেল, দুই ভাই-বোনের কথাবার্তা ও কাজেকর্মে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলো।
বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ কী?

উত্তর

মানব শিশু বেড়ে উঠার সাথে সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণাসমূহ অর্জনের মাধ্যমে জগতকে অনুধাবন করার ক্ষমতা ও বাধাসমূহ মোকাবিলা করার যে সামর্থ্য লাভ করে তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বলা হয়।
শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেগীয় বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের আবেগসমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে। শৈশবের প্রথম পর্যায়ে প্রায় শিশুরা নির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশ করে। সামান্য কারণে তীব্র আবেগ প্রকাশ পায় যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কিন্তু মেজাজ দেখানো, রাগ করা, উদাসীনতা ইত্যাদি আবেগময় প্রতিক্রিয়া যে সঙ্গী সাথীর পছন্দ নয়, তা শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা অল্প দিনের মধ্যেই বুঝতে শেখে। ধীরে ধীরে এও বুঝতে শিখে যে রাগে ফেটে পড়াকে বন্ধুরা ছেলেমি ভাবে। একইভাবে ভয় পেয়ে সরে গেলে কাপুরুষতার পরিচয় মনে করে। সেজন্য শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়ে নিজেদের আবেগ অন্যের সামনে যাতে প্রকাশ না পায় সে বিষয়ে সচেষ্ট হয়। শৈশবের শেষ পর্যায়ে আনন্দ প্রকাশ করাই হচ্ছে আবেগের বৈশিষ্ট্য। তারা আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে খিলখিল করে হাসে। হাত-পা ছোঁড়ে, লাফালাফি করে।
ফজলু ও সাবিহা দম্পতির সন্তান ভিন্ন যমজ না অভিন্ন যমজ-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ফজলু ও সাবিহা দম্পতির সন্তান ভিন্ন যমজ প্রকৃতির।নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- কোনো কারণে একাধিক ডিম্বাণুর সাথে একাধিক শুক্রাণু মিলিত হয়ে একাধিক জাইগোটের সৃষ্টি হয় এবং এ একাধিক জাইগোট একই সময়ে একটি গর্ভে অবস্থান করে এবং বৃদ্ধি পায়। এমন ব্যতিক্রমধর্মী গর্ভধারণের ফলে যে যমজ সন্তানের জন্ম হয় তাদেরকে ভ্রাতৃপ্রতিম বা ভিন্ন যমজ বলে। এ ধরনের যমজ শিশুরা কখনো একই লিঙ্গবিশিষ্ট আবার কখনো আলাদা লিঙ্গবিশিষ্ট হয়ে থাকে এবং এ ধরনের যমজ শিশুরা শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও সাধারণত আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। উদ্দীপকে ফজলু ও সাবিহা দম্পত্তির যমজ সন্তান একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হয়। তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় তাদের সন্তান ভিন্ন যমজ প্রকৃতির।
যমজ সন্তানদের আচরণের ভিন্নতার মূলে কোন কারণটির প্রভাব বেশি? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

যমজ সন্তানদের আচরণের ভিন্নতার মূলে পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় পালিত সন্তানদের ক্ষেত্রে বংশগতির চেয়ে পরিবেশের প্রভাব বেশি বলে, প্রমাণ পেয়েছেন। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- পরিবেশের প্রভাব প্রসঙ্গে কিংসলি ডেভিস্ ইসাবেলা নামের একটি শিশুর উল্লেখ করেছেন। ইসাবেলা তার কালা এবং বোবা মায়ের সাথে সাড়ে ছ' বছর একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে আবদ্ধ ছিল। সাড়ে ছ' বছর পর ইসাবেলাকে। যখন উদ্ধার করা হয় তখন তার মধ্যে অনেক মানবিক গুণাবলি অনুপস্থিত ছিল। প্রশিক্ষণের ফলে দু' বছরে সে ভালোভাবে কথা বলতে শেখে এবং তার বুদ্ধাঙ্ক বেড়ে যায় তিনগুণ। ইসাবেলা ১৪ বছর বয়সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ করে। পরিবেশের প্রভাবের কারণেই ইসাবেলার আচরণের এরূপ উন্নতি ঘটেছে। অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে উঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বুদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকে ফজলু ও সাবিহার ভিন্ন যমজ সন্তান একটি ছেলে ও একটি। মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও ফজলু সাহেব ছেলেকে নিয়ে বিলেত যান। ফলে মেয়ে সন্তান সাবিহার কাছে এবং ছেলে সন্তান বাবার কাছে বিলেত থাকে। দুজনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠে। তাই ১৫ বছর পরে ফজলু সাহেব ছেলেকে নিয়ে দেশে ফিরে এলে দেখা গেল দুই ভাই-বোনের অর্থাৎ ফজলু-সাবিহার সন্তানদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলো। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে,যমজ সন্তানদের আচরণের ভিন্নতার মূলে পরিবেশের প্রভাবই বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফজলু ও সাবিহা ভালবাসাবাসি করে বিয়ে করেছে। সাবিহার ধূসর বর্ণ চোখ এবং কালো চুল ফজলুকে মোহিত করেছে। তাদের যজম সন্তান হলো- একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তানের চোখ মায়ের। মতো ধূসর এবং চুল খুবই কালো। বাবা ছেলেকে নিয়ে বিলেত গেলেন। ১৫ বৎসর পর আবার বাসায় ফিরে এলেন। দেখা গেল, দুই ভাই-বোনের কথাবার্তা ও কাজেকর্মে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলো।
বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ কী?

উত্তর

মানব শিশু বেড়ে উঠার সাথে সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণাসমূহ অর্জনের মাধ্যমে জগতকে অনুধাবন করার ক্ষমতা ও বাধাসমূহ মোকাবিলা করার যে সামর্থ্য লাভ করে তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বলা হয়।
শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

শিশুর আবেগীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেগীয় বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের আবেগসমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে। শৈশবের প্রথম পর্যায়ে প্রায় শিশুরা নির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশ করে। সামান্য কারণে তীব্র আবেগ প্রকাশ পায় যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কিন্তু মেজাজ দেখানো, রাগ করা, উদাসীনতা ইত্যাদি আবেগময় প্রতিক্রিয়া যে সঙ্গী সাথীর পছন্দ নয়, তা শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা অল্প দিনের মধ্যেই বুঝতে শেখে। ধীরে ধীরে এও বুঝতে শিখে যে রাগে ফেটে পড়াকে বন্ধুরা ছেলেমি ভাবে। একইভাবে ভয় পেয়ে সরে গেলে কাপুরুষতার পরিচয় মনে করে। সেজন্য শৈশবের শেষ পর্যায়ে ছেলেমেয়ে নিজেদের আবেগ অন্যের সামনে যাতে প্রকাশ না পায় সে বিষয়ে সচেষ্ট হয়। শৈশবের শেষ পর্যায়ে আনন্দ প্রকাশ করাই হচ্ছে আবেগের বৈশিষ্ট্য। তারা আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে খিলখিল করে হাসে। হাত-পা ছোঁড়ে, লাফালাফি করে।
ফজলু ও সাবিহা দম্পতির সন্তান ভিন্ন যমজ না অভিন্ন যমজ-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ফজলু ও সাবিহা দম্পতির সন্তান ভিন্ন যমজ প্রকৃতির।নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- কোনো কারণে একাধিক ডিম্বাণুর সাথে একাধিক শুক্রাণু মিলিত হয়ে একাধিক জাইগোটের সৃষ্টি হয় এবং এ একাধিক জাইগোট একই সময়ে একটি গর্ভে অবস্থান করে এবং বৃদ্ধি পায়। এমন ব্যতিক্রমধর্মী গর্ভধারণের ফলে যে যমজ সন্তানের জন্ম হয় তাদেরকে ভ্রাতৃপ্রতিম বা ভিন্ন যমজ বলে। এ ধরনের যমজ শিশুরা কখনো একই লিঙ্গবিশিষ্ট আবার কখনো আলাদা লিঙ্গবিশিষ্ট হয়ে থাকে এবং এ ধরনের যমজ শিশুরা শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও সাধারণত আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। উদ্দীপকে ফজলু ও সাবিহা দম্পত্তির যমজ সন্তান একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হয়। তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় তাদের সন্তান ভিন্ন যমজ প্রকৃতির।
যমজ সন্তানদের আচরণের ভিন্নতার মূলে কোন কারণটির প্রভাব বেশি? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

যমজ সন্তানদের আচরণের ভিন্নতার মূলে পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় পালিত সন্তানদের ক্ষেত্রে বংশগতির চেয়ে পরিবেশের প্রভাব বেশি বলে, প্রমাণ পেয়েছেন। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- পরিবেশের প্রভাব প্রসঙ্গে কিংসলি ডেভিস্ ইসাবেলা নামের একটি শিশুর উল্লেখ করেছেন। ইসাবেলা তার কালা এবং বোবা মায়ের সাথে সাড়ে ছ' বছর একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে আবদ্ধ ছিল। সাড়ে ছ' বছর পর ইসাবেলাকে। যখন উদ্ধার করা হয় তখন তার মধ্যে অনেক মানবিক গুণাবলি অনুপস্থিত ছিল। প্রশিক্ষণের ফলে দু' বছরে সে ভালোভাবে কথা বলতে শেখে এবং তার বুদ্ধাঙ্ক বেড়ে যায় তিনগুণ। ইসাবেলা ১৪ বছর বয়সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ করে। পরিবেশের প্রভাবের কারণেই ইসাবেলার আচরণের এরূপ উন্নতি ঘটেছে। অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে উঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বুদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকে ফজলু ও সাবিহার ভিন্ন যমজ সন্তান একটি ছেলে ও একটি। মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও ফজলু সাহেব ছেলেকে নিয়ে বিলেত যান। ফলে মেয়ে সন্তান সাবিহার কাছে এবং ছেলে সন্তান বাবার কাছে বিলেত থাকে। দুজনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠে। তাই ১৫ বছর পরে ফজলু সাহেব ছেলেকে নিয়ে দেশে ফিরে এলে দেখা গেল দুই ভাই-বোনের অর্থাৎ ফজলু-সাবিহার সন্তানদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলো। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে,যমজ সন্তানদের আচরণের ভিন্নতার মূলে পরিবেশের প্রভাবই বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: চিনু ও মিনু দু'বোন। চিনুর বিয়ে হলো। সে শহরে গেল এবং একটি ভালো চাকরিও পেল। মিনুরও বিয়ে হলো। সে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে আছে। মিনুর ছেলে সুন্দর স্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী। কিন্তু চিনুর ছেলে দুর্বল ও খিটখিটে মেজাজের। সে মাঠের অভাবে খেলতে পারে না। তাছাড়া চাকরির কারণে চিনু ছেলেকে সময় দিতে পারে না। দৃশ্যকল্প-২: ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে চম্পা কঠিন সময় পার করছে। চম্পা সন্তান সম্ভবা। সদস্য বেশি থাকার কারণে সে সময়মতো খেতে পারে না। যখন যা পায় তাই খেয়ে নেয়। সন্তান। হওয়ার পর সে রক্তশূন্যতায় ভোগে।
বংশগতি কী?

উত্তর

বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরগণের মধ্যে সঞ্চালিত করে।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শৈশবকাল এবং যৌবনকালের মধ্যবর্তী সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয়। অর্থাৎ শৈশবকাল শেষ হওয়ার পর যৌবনকালে পদার্পণের জন্য যে সময়ে দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতি চলে তাকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। সাধারণত ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সকে বয়ঃসন্ধিকাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বয়ঃসন্ধিকালে যে আবেগীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তার মূল কারণ হলো অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন-এর প্রভাব।
চম্পার শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম পূর্ববর্তী পরিবেশের কোন উপাদানটি দায়ী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চম্পার শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম পূর্ববর্তী পরিবেশের 'মায়ের পুষ্টি, নামক উপাদানটি দায়ী। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মায়ের উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ও পুষ্টিগত মানের উপর গর্ভস্থ শিশুর বিকাশ নির্ভর করছে। মা যদি পুষ্টিহীনতায় ভোগে তাহলে তার প্রভাব শিশুর উপর পড়ে। এতে গর্ভস্থ শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় বিশেষভাবে মস্তিষ্কের বুদ্ধি ও বিকাশ যথোপযুক্তভাবে সম্পন্ন হয় না। তাই মায়েদের পুষ্টির জন্য আমিষ, শর্করা, স্নেহজাতীয় এবং ভিটামিনযুক্ত খাদ্য উপাদান প্রয়োজন যা গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশকে সুন্দর ও সাবলীল করে তোলে। উদ্দীপকে চম্পা ১০ সদস্যের পরিবারে সময়মতো খেতে পারে না এবং সে সন্তান সম্ভবা হওয়া সত্ত্বেও পুষ্টিমান বিচার করে খাবার খেতে না পারার কারণে সন্তান হওয়ার পর সে রক্ত শূন্যতায় ভোগে। তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, চম্পার শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম-পূর্ববর্তী পরিবেশের 'মায়ের পুষ্টি' নামক উপাদানটি দায়ী।
চিনু ও মিনু সন্তানদের ওপর জন্ম পরবর্তী পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ চিনু ও মিনুর সন্তানদের উপর জন্ম পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষ করা যায়। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যক্তির জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বুঝায় ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, বাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি। সমতল ভূমিতে বেড়ে উঠা ব্যক্তির জীবনপ্রণালি পাহাড়ী এলাকায় বেড়ে উঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা। অথবা শীতপ্রধান অঞ্চলের লোকের সাথে গরম প্রধান অঞ্চলের লোকের তুলনা করলে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে দৈহিক গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব। আবার, মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক পরিবেশ তার জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক পরিবেশের প্রধান উপাদান পরিবার। এছাড়াও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সঙ্গীদল, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি। সামাজিক পরিবেশের প্রধান পর্যায় হলো পরিবার। জন্মের পর শিশু পারিবারিক পরিবেশে মাতা-পিতার সংস্পর্শে আসে। মায়ের আদর, বাবার স্নেহ এবং ভাই-বোনদের মমত্ববোধ শিশুর বিকাশকে সহায়তা করে। কিন্তু বাবা-মার অনাদর এবং অবহেলা শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশে বিঘ্ন ঘটায়। মাত্রাতিরিক্ত আদর (লাই দেয়া) যেমন শিশুর জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কঠোর অনুশাসন ও শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত শাসন শিশুর মনকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং তার মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা দেয়। যে পরিবারে শিশুর সাথে পিতা-মাতার সম্পর্ক মধুর পারিবারিক পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সে পরিবারের শিশুর ব্যক্তিত্ব সুন্দরভাবে বিকশিত হয়। উদ্দীপকে চিনুর ছেলে শহরে বড় হচ্ছে এবং চিনুর চাকরির কারণে সে তার ছেলের সাথে যথাযথ সময় দিতে না পারার কারণে শিশুটি মায়ের অনাদরে বড় হচ্ছে। তাই সে দুর্বল ও খিটখিটে মেজাজের। অপরদিকে মিনু গ্রামের পরিবেশে বাস করায় তার ছেলে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠছে। একইভাবে মিনু তার সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ায় তার সন্তান সুন্দর স্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী হয়ে উঠছে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে চিনু ও মিনুর সন্তানদের উপর জন্ম পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: চিনু ও মিনু দু'বোন। চিনুর বিয়ে হলো। সে শহরে গেল এবং একটি ভালো চাকরিও পেল। মিনুরও বিয়ে হলো। সে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে আছে। মিনুর ছেলে সুন্দর স্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী। কিন্তু চিনুর ছেলে দুর্বল ও খিটখিটে মেজাজের। সে মাঠের অভাবে খেলতে পারে না। তাছাড়া চাকরির কারণে চিনু ছেলেকে সময় দিতে পারে না। দৃশ্যকল্প-২: ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে চম্পা কঠিন সময় পার করছে। চম্পা সন্তান সম্ভবা। সদস্য বেশি থাকার কারণে সে সময়মতো খেতে পারে না। যখন যা পায় তাই খেয়ে নেয়। সন্তান। হওয়ার পর সে রক্তশূন্যতায় ভোগে।
বংশগতি কী?

উত্তর

বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরগণের মধ্যে সঞ্চালিত করে।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শৈশবকাল এবং যৌবনকালের মধ্যবর্তী সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয়। অর্থাৎ শৈশবকাল শেষ হওয়ার পর যৌবনকালে পদার্পণের জন্য যে সময়ে দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতি চলে তাকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। সাধারণত ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সকে বয়ঃসন্ধিকাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বয়ঃসন্ধিকালে যে আবেগীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তার মূল কারণ হলো অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন-এর প্রভাব।
চম্পার শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম পূর্ববর্তী পরিবেশের কোন উপাদানটি দায়ী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চম্পার শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম পূর্ববর্তী পরিবেশের 'মায়ের পুষ্টি, নামক উপাদানটি দায়ী। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মায়ের উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ও পুষ্টিগত মানের উপর গর্ভস্থ শিশুর বিকাশ নির্ভর করছে। মা যদি পুষ্টিহীনতায় ভোগে তাহলে তার প্রভাব শিশুর উপর পড়ে। এতে গর্ভস্থ শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় বিশেষভাবে মস্তিষ্কের বুদ্ধি ও বিকাশ যথোপযুক্তভাবে সম্পন্ন হয় না। তাই মায়েদের পুষ্টির জন্য আমিষ, শর্করা, স্নেহজাতীয় এবং ভিটামিনযুক্ত খাদ্য উপাদান প্রয়োজন যা গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশকে সুন্দর ও সাবলীল করে তোলে। উদ্দীপকে চম্পা ১০ সদস্যের পরিবারে সময়মতো খেতে পারে না এবং সে সন্তান সম্ভবা হওয়া সত্ত্বেও পুষ্টিমান বিচার করে খাবার খেতে না পারার কারণে সন্তান হওয়ার পর সে রক্ত শূন্যতায় ভোগে। তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, চম্পার শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম-পূর্ববর্তী পরিবেশের 'মায়ের পুষ্টি' নামক উপাদানটি দায়ী।
চিনু ও মিনু সন্তানদের ওপর জন্ম পরবর্তী পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ চিনু ও মিনুর সন্তানদের উপর জন্ম পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষ করা যায়। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যক্তির জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বুঝায় ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, বাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি। সমতল ভূমিতে বেড়ে উঠা ব্যক্তির জীবনপ্রণালি পাহাড়ী এলাকায় বেড়ে উঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা। অথবা শীতপ্রধান অঞ্চলের লোকের সাথে গরম প্রধান অঞ্চলের লোকের তুলনা করলে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে দৈহিক গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব। আবার, মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক পরিবেশ তার জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক পরিবেশের প্রধান উপাদান পরিবার। এছাড়াও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সঙ্গীদল, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি। সামাজিক পরিবেশের প্রধান পর্যায় হলো পরিবার। জন্মের পর শিশু পারিবারিক পরিবেশে মাতা-পিতার সংস্পর্শে আসে। মায়ের আদর, বাবার স্নেহ এবং ভাই-বোনদের মমত্ববোধ শিশুর বিকাশকে সহায়তা করে। কিন্তু বাবা-মার অনাদর এবং অবহেলা শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশে বিঘ্ন ঘটায়। মাত্রাতিরিক্ত আদর (লাই দেয়া) যেমন শিশুর জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কঠোর অনুশাসন ও শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত শাসন শিশুর মনকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং তার মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা দেয়। যে পরিবারে শিশুর সাথে পিতা-মাতার সম্পর্ক মধুর পারিবারিক পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সে পরিবারের শিশুর ব্যক্তিত্ব সুন্দরভাবে বিকশিত হয়। উদ্দীপকে চিনুর ছেলে শহরে বড় হচ্ছে এবং চিনুর চাকরির কারণে সে তার ছেলের সাথে যথাযথ সময় দিতে না পারার কারণে শিশুটি মায়ের অনাদরে বড় হচ্ছে। তাই সে দুর্বল ও খিটখিটে মেজাজের। অপরদিকে মিনু গ্রামের পরিবেশে বাস করায় তার ছেলে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠছে। একইভাবে মিনু তার সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ায় তার সন্তান সুন্দর স্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী হয়ে উঠছে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে চিনু ও মিনুর সন্তানদের উপর জন্ম পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রফিক ও শফিক দশম শেণির ছাত্র। রফিক একক পরিবারের সন্তান। রফিকের বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া করে। কোন ভুল করলে বাবা-মা তাকে শাস্তি দেয়। রফিকও বন্ধুদের সাথে প্রায়ই মারামারি করে। শফিক যৌথ পরিবারের সন্তান। মা তাকে খুব ভালোবাসে। সে খেলাধুলা, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কাজে অগ্রগণ্য। তার বন্ধুরা তাকে খুব আদর করে।
আবেগ কী?

উত্তর

প্রাণীর পেশীসমূহের ক্রিয়া, স্নায়ুবিক ক্রিয়া, রক্ত-সঞ্চালন ক্রিয়া, শ্বাসক্রিয়া, হরমোনের ক্ষরণ ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ও মানসিক ক্রিয়ার ভারসাম্যচ্যুত অবস্থা থেকে সৃষ্ট এক ধরনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অভিব্যক্তি হলো আবেগ।
বংশগতির দৈহিক উৎস বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মানুষ কতকগুলো বিশেষ ধরনের কোষ উৎপন্ন করে যা দিয়ে জন্ম হয় তার বংশধরের। মাতার ডিম্বাণুর মধ্যে পিতার শুক্রাণু প্রবেশের ফলে মাতৃগর্ভে স্তূপ যা জাইগোট-এর সৃষ্টি হয়। ভূপ কোষ বিভক্তির মাধ্যমে ক্রমশ বড় হয়ে জন্ম নেয় একটি মানব শিশু। পিতৃ ও মাতৃ জননকোষে ক্রোমোসোম নামের এক প্রকার সূক্ষ্ম রাসায়নিক পদার্থ আছে। ক্রোমোসোমের মধ্যে আবার রয়েছে অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রাসায়নিক পদার্থ, যার নাম জিন। এ 'জিন'ই হলো বংশগতির বাহক। যা বংশগতির দৈহিক উৎস হিসেবে পরিচিত।
শফিকের আচরণে কোন ধরনের বিকাশ লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে শফিকের আচরণে যে ধরনের বিকাশ লক্ষণীয় তা হলো সামাজিক বিকাশ। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- সামাজিক বিকাশ বলতে বোঝায় সামাজিক প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের ক্ষমতা অর্জন সামাজিকতাকে একটি প্রক্রিয়ারূপে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দ্বারা ব্যক্তির প্রকৃত আচরণ বর্ষিত হয়, যার সীমা তার শ্রেণির মান অনুযায়ী তার পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। সামাজিক চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করার ক্ষমতা অর্জন করা বা সামাজিক রীতি-নীতিতে অভ্যস্ত হওয়ার ক্ষমতা হচ্ছে সামাজিক বিকাশ। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে শিশু যে বিশেষ ধরনের আচরণ করে তা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিযোজনকে প্রভাবিত করে। যে শিশু কম হাসে তার চেয়ে একটি হাসিখুশি শিশু মাকে অনেক বেশি অভিভূত করতে সক্ষম। এ ধরনের শিশু মায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করতে সক্ষম। প্রথম জীবনে পরিবেশের সাথে একবার অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠলে বয়স বৃদ্ধির ধারায় তার কোন পরিবর্তন হয় না। বন্ধুভাবাপন্ন ও অধিকতর সুখী শিশু সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভালোভাবে সামাজিক অভিযোজন করতে পারে। প্রথম জীবনে বিভিন্ন সামাজিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়াসমূহ। শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনের সামাজিক সম্পর্ক ও অন্যান্য ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। উদ্দীপকে শফিক দশম শ্রেণির ছাত্র ও যৌখ' পরিবারের সন্তান। তার মাতা তাকে খুব ভালোবাসে। সে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কাজে অংশগ্রহণ করে এবং বন্ধুরা তাক ভালোবাসে। শফিকের এ আচরণ তার বয়স অনুযায়ী প্রত্যাশিত। এ থেকে বুঝা যায় যে, শফিকের মধ্যে সামাজিক বিকাশের লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে।
রফিকের আচরণে জন্ম পরবর্তী পরিবেশের কোন কোন উপাদান দায়ী বলে মনে কর? ঘটনাটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রফিকের আচরণে জন্ম পরবর্তী পরিষেশের যেসব উপাদান দায়ী বলে আমি মনে করি তা হলো- পরিবার, খেলার সাথী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. পরিবার: জন্মগ্রহণের পর শিশু প্রথম মাতা-পিতা বা পরিবারের পরশ পেয়ে থাকে। মায়ের পরশ, পিতার ভালোবাসা এবং ভাই-বোনের স্নেহ মমতা শিশুর অসহায়ত্ব দূর করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরিবার থেকে যদি সে কাঙ্ক্ষিত বা প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় তবে তার ব্যক্তিত্ব পরবর্তীতে সমাজ উপযোগী হবে। তার ব্যতিক্রম হলে অর্থাৎ পিতা-মাতা যদি তাকে অতি আদর বা অতি শাসন করে তবে তার ব্যক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। ২.খেলার সাথী: শিশুর সামাজীকরণ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে খেলার সাথীরা। শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র লোকেরা যে মহল্লায় বাস করে সেখানকার শিশুরা অধিক অপরাধ করে। পক্ষান্তরে শহরতলীর ভদ্র আবাসিক এলাকায় অপরাধ অনেক কম হয়। খেলার সাথীরা শিক্ষাগত অবস্থা, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিশুকে তার স্কুলে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে হয়। এখানে সে গৃহের মতো ব্যক্তিগত যত্ন ও মনোযোগ পায় না। তাছাড়া শিশুকে স্কুলের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। ফলে শিশুর মধ্যে উদ্যোগ নেয়ার ক্ষমতা, স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি যোগ্যতা আসতে থাকে। ৪. প্রাকৃতিক পরিবেশ: প্রাকৃতিক পরিবেশ হলো ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত প্রভৃতি। পাহাড়ি ও সমতলে বসবাসকারী ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে পার্থক্য রয়েছে। ইউরোপ এবং এশিয়ার লোকদের মধ্যে বেশ পার্থক্য বিদ্যমান যার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। ৫. সামাজিক পরিবেশ মানুষ সামাজিক জীব। সে একা একা থাকতে পারে না। সমাজের সকলের সাথে মিলে মিশে থাকতে চায়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাজনীতি, সামাজিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ৬. সামাজিক সংগঠন সাহিত্য বিষয়ক, সংস্কৃতি বিষয়ক, সমাজসেবামূলক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক প্রভৃতি সংগঠন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। উদ্দীপকে রফিক দশম শ্রেণির ছাত্র এবং একক পরিবারের সন্তান। রফিকের বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া করে। কোনো ভুল করলে বাবা-মা তাকে শাস্তি দেয়। রফিক ও বন্ধুদের সাথে প্রায়ই মারামারি করে। অর্থাৎ রফিকের আলোচিত আচরণের পিছনে জন্ম পরবর্তী উক্ত কারণগুলো বিদ্যমান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রফিক ও শফিক দশম শেণির ছাত্র। রফিক একক পরিবারের সন্তান। রফিকের বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া করে। কোন ভুল করলে বাবা-মা তাকে শাস্তি দেয়। রফিকও বন্ধুদের সাথে প্রায়ই মারামারি করে। শফিক যৌথ পরিবারের সন্তান। মা তাকে খুব ভালোবাসে। সে খেলাধুলা, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কাজে অগ্রগণ্য। তার বন্ধুরা তাকে খুব আদর করে।
আবেগ কী?

উত্তর

প্রাণীর পেশীসমূহের ক্রিয়া, স্নায়ুবিক ক্রিয়া, রক্ত-সঞ্চালন ক্রিয়া, শ্বাসক্রিয়া, হরমোনের ক্ষরণ ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ও মানসিক ক্রিয়ার ভারসাম্যচ্যুত অবস্থা থেকে সৃষ্ট এক ধরনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অভিব্যক্তি হলো আবেগ।
বংশগতির দৈহিক উৎস বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মানুষ কতকগুলো বিশেষ ধরনের কোষ উৎপন্ন করে যা দিয়ে জন্ম হয় তার বংশধরের। মাতার ডিম্বাণুর মধ্যে পিতার শুক্রাণু প্রবেশের ফলে মাতৃগর্ভে স্তূপ যা জাইগোট-এর সৃষ্টি হয়। ভূপ কোষ বিভক্তির মাধ্যমে ক্রমশ বড় হয়ে জন্ম নেয় একটি মানব শিশু। পিতৃ ও মাতৃ জননকোষে ক্রোমোসোম নামের এক প্রকার সূক্ষ্ম রাসায়নিক পদার্থ আছে। ক্রোমোসোমের মধ্যে আবার রয়েছে অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রাসায়নিক পদার্থ, যার নাম জিন। এ 'জিন'ই হলো বংশগতির বাহক। যা বংশগতির দৈহিক উৎস হিসেবে পরিচিত।
শফিকের আচরণে কোন ধরনের বিকাশ লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে শফিকের আচরণে যে ধরনের বিকাশ লক্ষণীয় তা হলো সামাজিক বিকাশ। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- সামাজিক বিকাশ বলতে বোঝায় সামাজিক প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের ক্ষমতা অর্জন সামাজিকতাকে একটি প্রক্রিয়ারূপে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দ্বারা ব্যক্তির প্রকৃত আচরণ বর্ষিত হয়, যার সীমা তার শ্রেণির মান অনুযায়ী তার পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। সামাজিক চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করার ক্ষমতা অর্জন করা বা সামাজিক রীতি-নীতিতে অভ্যস্ত হওয়ার ক্ষমতা হচ্ছে সামাজিক বিকাশ। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে শিশু যে বিশেষ ধরনের আচরণ করে তা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিযোজনকে প্রভাবিত করে। যে শিশু কম হাসে তার চেয়ে একটি হাসিখুশি শিশু মাকে অনেক বেশি অভিভূত করতে সক্ষম। এ ধরনের শিশু মায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করতে সক্ষম। প্রথম জীবনে পরিবেশের সাথে একবার অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠলে বয়স বৃদ্ধির ধারায় তার কোন পরিবর্তন হয় না। বন্ধুভাবাপন্ন ও অধিকতর সুখী শিশু সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভালোভাবে সামাজিক অভিযোজন করতে পারে। প্রথম জীবনে বিভিন্ন সামাজিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়াসমূহ। শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনের সামাজিক সম্পর্ক ও অন্যান্য ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। উদ্দীপকে শফিক দশম শ্রেণির ছাত্র ও যৌখ' পরিবারের সন্তান। তার মাতা তাকে খুব ভালোবাসে। সে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কাজে অংশগ্রহণ করে এবং বন্ধুরা তাক ভালোবাসে। শফিকের এ আচরণ তার বয়স অনুযায়ী প্রত্যাশিত। এ থেকে বুঝা যায় যে, শফিকের মধ্যে সামাজিক বিকাশের লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে।
রফিকের আচরণে জন্ম পরবর্তী পরিবেশের কোন কোন উপাদান দায়ী বলে মনে কর? ঘটনাটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রফিকের আচরণে জন্ম পরবর্তী পরিষেশের যেসব উপাদান দায়ী বলে আমি মনে করি তা হলো- পরিবার, খেলার সাথী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. পরিবার: জন্মগ্রহণের পর শিশু প্রথম মাতা-পিতা বা পরিবারের পরশ পেয়ে থাকে। মায়ের পরশ, পিতার ভালোবাসা এবং ভাই-বোনের স্নেহ মমতা শিশুর অসহায়ত্ব দূর করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরিবার থেকে যদি সে কাঙ্ক্ষিত বা প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় তবে তার ব্যক্তিত্ব পরবর্তীতে সমাজ উপযোগী হবে। তার ব্যতিক্রম হলে অর্থাৎ পিতা-মাতা যদি তাকে অতি আদর বা অতি শাসন করে তবে তার ব্যক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। ২.খেলার সাথী: শিশুর সামাজীকরণ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে খেলার সাথীরা। শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র লোকেরা যে মহল্লায় বাস করে সেখানকার শিশুরা অধিক অপরাধ করে। পক্ষান্তরে শহরতলীর ভদ্র আবাসিক এলাকায় অপরাধ অনেক কম হয়। খেলার সাথীরা শিক্ষাগত অবস্থা, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিশুকে তার স্কুলে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে হয়। এখানে সে গৃহের মতো ব্যক্তিগত যত্ন ও মনোযোগ পায় না। তাছাড়া শিশুকে স্কুলের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। ফলে শিশুর মধ্যে উদ্যোগ নেয়ার ক্ষমতা, স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি যোগ্যতা আসতে থাকে। ৪. প্রাকৃতিক পরিবেশ: প্রাকৃতিক পরিবেশ হলো ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত প্রভৃতি। পাহাড়ি ও সমতলে বসবাসকারী ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে পার্থক্য রয়েছে। ইউরোপ এবং এশিয়ার লোকদের মধ্যে বেশ পার্থক্য বিদ্যমান যার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। ৫. সামাজিক পরিবেশ মানুষ সামাজিক জীব। সে একা একা থাকতে পারে না। সমাজের সকলের সাথে মিলে মিশে থাকতে চায়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাজনীতি, সামাজিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ৬. সামাজিক সংগঠন সাহিত্য বিষয়ক, সংস্কৃতি বিষয়ক, সমাজসেবামূলক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক প্রভৃতি সংগঠন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। উদ্দীপকে রফিক দশম শ্রেণির ছাত্র এবং একক পরিবারের সন্তান। রফিকের বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া করে। কোনো ভুল করলে বাবা-মা তাকে শাস্তি দেয়। রফিক ও বন্ধুদের সাথে প্রায়ই মারামারি করে। অর্থাৎ রফিকের আলোচিত আচরণের পিছনে জন্ম পরবর্তী উক্ত কারণগুলো বিদ্যমান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো