HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
বান্দরবানে এক উপজাতি দরিদ্র পরিবারে ডালিয়া ও জন নামে যমজ ভাই-বোন জন্ম নেয়। দু' ভাই বোনের চোখের রং মায়ের মতো। অর্থাভাবে ও ভবিষ্যৎ জীবনের উন্নতির চিন্তা করে বাবা-মা জনকে ৫ বছর বয়সে ঢাকার এক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিকট দত্তক দেয়। ২০ বছর বয়সে জনকে বান্দরবানে পরিবারের নিকট বেড়াতে নিয়ে গেলে প্রকৃত বাবা-মা ভাই-বোনের চাল-চলন, কথা-বার্তা ও আচরণে বেশি পার্থক্য দেখতে পান।
ক
আচরণ কী?
উত্তর
আচরণ হলো মানুষ বা প্রাণীর যে কোনো ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া।
খ
মায়ের অসুস্থতা কীভাবে গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবিত করে?
উত্তর
মায়ের সাথে গর্ভস্থ শিশুর নাড়ির সম্পর্ক। মায়ের ভালো-মন্দের সাথে শিশুর ভালো-মন্দ, জড়িত। শিশু নাভীরজ্জু দ্বারা মায়ের দেহ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। এ রজ্জুতে যে প্লাসেন্টা থাকে তা ছাঁকনির মতো কাজ করে। এ ছাঁকনির ভিতর দিয়ে ভাইরাস সহজেই ভ্রুণে প্রবেশ করে এবং ভ্রূণের ক্ষতি করে। প্রথম দু সপ্তাহ থেকে চার মাসের মধ্যে শিশুর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জন্ম নেয়। এ সময় শিশু যদি মায়ের কাছ থেকে, রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে চোখে ছানি পড়া, অন্ধ হওয়া, মানসিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়ের ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার ইত্যাদি রোগও শিশুর উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। আমেরিকার গর্ভবতী মায়েদের উপর এক জরিপে দেখা যায় যে, শতকরা ৫ ভাগ মায়ের টক্সিমা নামক রোগ হয়ে থাকে। এ রোগ চলতে থাকলে ১৩% মা মারা যায় এবং ৫০% শিশু গর্ভে মারা যায়।
তাই বলা যায় যে, মায়ের অসুস্থতা গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবিত করে।
গ
জন কোন ধরনের যজম? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ডালিয়া এবং জনের যমজের প্রকৃতি ভিন্ন। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো কারণে একাধিক ডিম্বাণুর সাথে একাধিক শুক্রাণু মিলিত হয়ে একাধিক জাইগোটের সৃষ্টি হয় এবং এ একাধিক জাইগোট একই সময়ে একটি গর্তে অবস্থান করে এবং বৃদ্ধি পায়। এমন ব্যতিক্রমধর্মী গর্ভধারণের ফলে যে যমজ সন্তানের জন্ম হয় তাদেরকে ভ্রাতৃপ্রতিম বা ভিন্ন যমজ বলে।. এ ধরনের যমজ শিশুরা কখনো একই লিঙ্গবিশিষ্ট আবার কখনো আলাদা লিঙ্গবিশিষ্ট হয়ে থাকে এবং এ ধরনের যমজ শিশুরা শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও সাধারণত আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে। উদ্দীপকে ডলিয়া ও জন নামে যমজ ভাইবোন যাদের জন্ম বান্দরবানের এক উপজাতি পরিবারে। অর্থাৎ ডালিয়া ও জন আলাদা লিঙ্গ বিশিষ্ট।
তাই উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, জন ভিন্ন যমজ।
ঘ
ডালিয়া ও জনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানের প্রভাব অধিক? মতামত দাও।
উত্তর
ডালিয়া ও জন যমজ ভাই বোন। এদের আচরণের পার্থক্যের জন্য পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় পালিত সন্তানদের ক্ষেত্রে বংশগতির চেয়ে পরিবেশের প্রভাব বেশি বলে প্রমাণ পেয়েছেন। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিবেশের প্রভাব প্রসঙ্গে কিংসলি ডেভিস্ ইসাবেলা নামের একটি শিশুর উল্লেখ করেছেন। ইসাবেলা তার কালা এবং বোবা মায়ের সাথে সাড়ে ছ' বছর একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে আবদ্ধ ছিল। সাড়ে ছ' বছর পর ইসাবেলাকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তার মধ্যে অনেক মানবিক গুণাবলি অনুপস্থিত ছিল। প্রশিক্ষণের ফলে দু' বছরে সে ভালোভাবে কথা বলতে শেখে এবং তার বুদ্ধ্যঙ্ক বেড়ে যায় তিনগুণ। ইসাবেলা ১৪ বছর বয়সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং স্বাভাবিক শিশুর মতো আচরণ করে। পরিবেশের প্রভাবের কারণেই ইসাবেলার আচরণের এরূপ উন্নতি ঘটেছে।
অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে উঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বৃদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকে ডালিয়া ও জন যমজ ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও জনকে ঢাকার এক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নিকট দত্তক দেওয়া হয়। ফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে সে বেড়ে উঠে। তাই ২০ বছর পরে সে যখন তার প্রকৃত বাবা-মার কাছে বেড়াতে আসে, তখন তার বাবা-মা জনের চাল-চলন, কথা-বার্তা ও আচরণের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পান।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, ডালিয়া ও জনের আচরণের পার্থক্যের জন্য পরিবেশের প্রভাবই অধিক।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো