উদ্দীপকের বর্ণনায় ইভা ও কাশেমের সন্তানের আচরণের ওপর। পরিবেশ মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
আচরণের ওপর বংশগতির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। অনুকূল পরিবেশে শিশুকে বেড়ে ওঠার জন্য যদি বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেয়া যায় তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বুদ্ধির বিকাশ দ্রুততর হয়। আচরণের ওপর পরিবেশের প্রভাবের ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী ক্যাটেল বিভিন্ন পারিবারিক ইতিহাস পর্যালোচনা করেন এবং তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আচরণের ওপর পরিবেশের একটি স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। তিনি লক্ষ করেন যে, আর্থিক সুবিধা, আদর্শ ইত্যাদি পরিবেশগত প্রভাব শিশুদের চিন্তা ও বুদ্ধির বিকাশ তথা আচরণের ওপর সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, মেয়েসন্তান হওয়ার জন্য ইভার স্বামীর পরিবারের লোকজন তাকেই দোষারোপ করে। ইভা মন খারাপ করলেও মেয়েদের সঠিকভাবে লালন-পালন করেন। সবাই তার মেয়েদের আচরণের প্রশংসা করে। ইভার মেয়েদের ভালো আচরণ নির্ভর করেছে ইভার সঠিক লালন-পালনের ওপর। ইভা সঠিকভাবে লালন-পালন না করলে তাদের আচরণ ভালো হতো না। অর্থাৎ পরিবেশ তথা মায়ের সঠিক আচার-ব্যবহারের ফলেই মেয়েদের আচরণ প্রভাবিত হয়েছে। উদ্দীপকের বর্ণনায় আরো দেখা যায়, খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কাশেমের ছেলে আজমকে ছিনতাই করার অপরাধে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আজমের ছিনতাই করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। কারণ তার পিতা কাশেম একজন খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আজম তার পিতার দ্বারা অর্থাৎ পারিবারিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই ছিনতাই এ লিপ্ত হয়েছে।' পরিশেষে বলা যায়, যথোপযুক্ত পরিবেশ আচরণ বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে, যেমনটি আমরা উদ্দীপকের ঘটনায় লক্ষ করি। অর্থাৎ পরিবেশই ইভা ও কাশেমের সন্তানের আচরণকে প্রভাবিত করেছে।