দৃশ্যকল্প-২ এ জন্ম পরবর্তী পরিবেশের শ্রেণিবিভাগ দেখানো হয়েছে। একে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ। অর্থাৎ 'খ' চিহ্নিত স্থানে হবে সামাজিক পরিবেশ। নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
১. প্রাকৃতিক পরিবেশ: প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যক্তির জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বুঝায় ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি। সমতল ভূমিতে বেড়ে উঠা ব্যক্তির জীবন প্রণালী পাহাড়ী এলাকায় বেড়ে উঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা। বিভিন্ন অঞ্চলে লোকদের মধ্যে দৈহিক গড়ন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব।
২. সামাজিক পরিবেশ: মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক পরিবেশ তার জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক পরিবেশের মূল উপাদানসমূহ হলো পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগীদল, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি।
পরিবার: সামাজিক পরিবেশের প্রথম পর্যায় হলো পরিবার। মায়ের আদর, বাবার স্নেহ এবং ভাই-বোনদের মমত্ববোধ শিশুর বিকাশকে সহায়তা করে। কিন্তু বাবা-মার অনাদর এবং অবহেলা শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশে বিঘ্ন ঘটায়। যে পরিবারে শিশুর সাথে পিতামাতার সম্পর্ক মধুর, পারিবারিক পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সে পরিবারের শিশুর ব্যক্তিত্ব সুন্দরভাবে বিকশিত হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর নিকট শিক্ষক আদর্শ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন আদর্শ শিক্ষক ছাত্রকে পাঠ্যবই পড়ানোর পাশাপাশি তার চারিত্রিক, দৈহিক ও মানসিক বিকাশের প্রতিও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করে সমাজের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকেন।
সামাজিক সংগঠন: বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ব্যক্তির পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংগঠন রয়েছে। যেমন- ১. সাহিত্য বিষয়ক সংগঠন, ২. সংস্কৃতি বিষয়ক সংগঠন, ৩. সমাজসেবামূলক সংগঠন, ৪. রাজনৈতিক সংগঠন, ৫. ধর্মীয় সংগঠন, ৬. ক্রীড়া সংগঠন ইত্যাদি।
এগুলো ছাড়াও সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি, ধর্মীয় অনুশাসন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।