উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ চিনু ও মিনুর সন্তানদের উপর জন্ম পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষ করা যায়। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যক্তির জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বুঝায় ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, বাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি। সমতল ভূমিতে বেড়ে উঠা ব্যক্তির জীবনপ্রণালি পাহাড়ী এলাকায় বেড়ে উঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা। অথবা শীতপ্রধান অঞ্চলের লোকের সাথে গরম প্রধান অঞ্চলের লোকের তুলনা করলে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে দৈহিক গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব।
আবার, মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক পরিবেশ তার জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক পরিবেশের প্রধান উপাদান পরিবার। এছাড়াও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সঙ্গীদল, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি। সামাজিক পরিবেশের প্রধান পর্যায় হলো পরিবার। জন্মের পর শিশু পারিবারিক পরিবেশে মাতা-পিতার সংস্পর্শে আসে। মায়ের আদর, বাবার স্নেহ এবং ভাই-বোনদের মমত্ববোধ শিশুর বিকাশকে সহায়তা করে। কিন্তু বাবা-মার অনাদর এবং অবহেলা শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশে বিঘ্ন ঘটায়। মাত্রাতিরিক্ত আদর (লাই দেয়া) যেমন শিশুর জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কঠোর অনুশাসন ও শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত শাসন শিশুর মনকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং তার মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা দেয়। যে পরিবারে শিশুর সাথে পিতা-মাতার সম্পর্ক মধুর পারিবারিক পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সে পরিবারের শিশুর ব্যক্তিত্ব সুন্দরভাবে বিকশিত হয়।
উদ্দীপকে চিনুর ছেলে শহরে বড় হচ্ছে এবং চিনুর চাকরির কারণে সে তার ছেলের সাথে যথাযথ সময় দিতে না পারার কারণে শিশুটি মায়ের অনাদরে বড় হচ্ছে। তাই সে দুর্বল ও খিটখিটে মেজাজের। অপরদিকে মিনু গ্রামের পরিবেশে বাস করায় তার ছেলে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠছে। একইভাবে মিনু তার সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ায় তার সন্তান সুন্দর স্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহের অধিকারী হয়ে উঠছে।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে চিনু ও মিনুর সন্তানদের উপর জন্ম পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষ করা যায়।