উদ্দীপকের শিশুটি পাঁচ বছর বয়সী হলেও সে হাঁটতে পারত না, এমনকি কথাও বলা শেখেনি। শিশুটির এ ধরনের সমস্যা সমাধানে পরিবেশের কিছু উপাদানের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো-
১. পারিবারিক পরিবেশ: শিশু বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার পারিবারিক পরিবেশ। একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কারণ সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক ও শিক্ষাগত অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক ও মূল্যবোধ ইত্যাদি শিশু বা ব্যক্তির স্বাভাবিক শারীরিক, মানসিক বিকাশ ও আচরণকে প্রভাবিত করে।
২. খেলার সাথী: শিশু বা ব্যক্তি যাদের সঙ্গে উঠা-বসা করে, চলাফেরা করে বা সময় কাটায়, যেমন- খেলার সাথী বা বন্ধু-বান্ধব তাদের আচার-আচরণ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, পারিবারিক ও শিক্ষাগত অবস্থা, মূল্যবোধ ইত্যাদি শিশু বা ব্যক্তির স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক তথা ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন, পাঠ্যসূচি, সহপাঠী ও শিক্ষকদের বহুমাত্রিক আচরণ ইত্যাদি শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক তথা ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে
৪. সাংস্কৃতিক পরিবেশ সাংস্কৃতিক পরিবেশ যেমন- জাতিগত সংস্কৃতি, ধর্মীয় সংস্কৃতি, পারিবারিক প্রথাগত বা ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি ইত্যাদি সাংস্কৃতিক প্রভাব শিশু বা ব্যক্তির আচরণ ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে।
৫. সামাজিক পরিবেশ সমাজ হলো শিশু বা ব্যক্তির সাথে তার চারপাশে বসবাসরত মানুষদের একটি পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া। এ সামাজিক পরিবেশ, যেমন- সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাজনীতি, সামাজিক প্রথা বা ঐতিহ্য ইত্যাদি শিশু বা ব্যক্তির আচরণ ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে।
৬. প্রাকৃতিক পরিবেশ: প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ প্রকৃতিগত ভৌগোলিক পরিবেশ, যথা- ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, তাপমাত্রা, সমতল বা পাহাড়ি ভূমিগত অবস্থা, বন বা গাছপালা ইত্যাদি শিশু বা ব্যক্তির আচরণ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্ধারকৃত শিশুটিকে যদি উপরোক্ত পরিবেশে রাখা যেত তাহলে তার আচরণগত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতো।