জনি ও সিপু যমজ সন্তান। বংশগতির প্রভাবে তাদের IQ একই ছিল। কিন্তু দুটি পৃথক পরিবেশে দু'জন বড় হওয়ার 'কারণে জনি চাকরি পেয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। জনি ও সিপুর ব্যাপারে বংশগতি ও পরিবেশ উভয়েরই ভূমিকা ছিল। নিচে বিভিন্ন গবেষণালব্ধ ফলাফলের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হলো-
১. যমজ সন্তান পর্যবেক্ষণ: মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নিউম্যান, ফ্রিম্যান এবং হলজিঙ্গার পরিবেশের প্রভাব নিরূপণের জন্য ১৯ জোড়া অভিন্ন যমজকে পরীক্ষা করেন। এদের মধ্যে একজোড়া অভিন্ন যমজ সন্তান, রিচার্ড এবং রেমন্ড বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। রিচার্ডকে এক মাস বয়সে এক দরিদ্র ট্রাক ড্রাইভার পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ২৩ মাস বয়সী রেমন্ডকে এক ধনী চিকিৎসক পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সকালীন সময়ে গবেষকত্রয় রিচার্ড এবং রেমন্ডকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে লালিতপালিত হলেও তারা প্রায় একই ধরনের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। একইভাবে নিউম্যান, ফ্রিম্যান এবং হলজিঙ্গার বাকি ১৮ জোড়া অভিন্ন যমজকে পরীক্ষা করেন। তাঁরা তাঁদের গবেষণায় দুটি বিষয় লক্ষ করেন:
ক. পরিবেশের ভিন্নতা থাকলেও অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে তা তাদের বুদ্ধ্যঙ্কের উপর বেশি প্রভাব বিস্তার করে না।
খ. পরিবেশের এ ভিন্নতা অভিন্ন যমজদের ব্যক্তিত্বের সংরক্ষণের উপর বেশ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে।
২.পালিত সন্তান পর্যবেক্ষণ: ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন গুণাবলির উপর। বংশগতির ও পরিবেশের প্রভাব জানার জন্য মনোবিজ্ঞানী বার্কস পালিত সন্তানদের নিয়ে গবেষণা করে। বার্কস দেখলেন, পালিত সন্তানদের বুস্থির (IQ) সঙ্গে পালক পিতাদের বুদ্ধির চেয়ে তাদের নিজেদের আসল পিতাদের বুদ্ধির সামঞ্জস্য বেশি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুদ্ধি নির্ভর করে বংশগতির উপরেই। আবার স্কোডাক (১৯৫০) এর গবেষণা থেকে অন্যরূপ তথ্য পাওয়া গেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে একই পরিবেশে পালিত হওয়ার জন্যই ছেলেমেয়েদের বুদ্ধিও একই রকম হয়ে থাকে। তবে Kamin (1973) বলেছেন, প্রকৃত সন্তান ও পালিত সন্তানদের একই বাড়িতে লালন করা হলে পিতার বুদ্ধির সঙ্গে আসল সন্তানদের বুদ্ধির মিল কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। তবে এটা খুব বেশি নয়। বরং পরিবেশের সাদৃশ্যই এর জন্য বেশি দায়ী।