উদ্দীপকে সায়মা ও রাইয়ানের গায়ের রং ফর্সা ও চোখের রং নীল। জিনগত কারণে সায়মা ও রাইয়ানের গায়ের ও চোখের রং মিল রয়েছে। নিচে জিনগত কারণটি বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে সায়মা ও রাইয়ানের বাবা মোরশেদ হোসেন শ্যামলা ও মা তাহেরা খাতুন ফর্সা ও তাদের চোখের রং নীল।
সাধারণত জিনগুলো ক্রোমোসোমের ন্যায় জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে। এক জোড়া জিনের একটি আসে পিতৃকুল এবং অপরটি আসে মাতৃকুল থেকে। একটি ক্রোমোসোমে বহু সংখ্যক জিন থাকে। জিনগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়, যথা- সবল এবং দুর্বল জিন। যে জিনগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ গুণ শক্তিশালী থাকে তাকে সবল জিন বলে। একটি বিশেষ গুণবহনকারী একটি সবল জিন এবং একটি দুর্বল জিন একত্রিত হলে সন্তানের মধ্যে শুধু সবল জিনটির গুণ প্রকাশ পাবে এবং দুর্বল জিনের গুণ সুপ্ত থাকবে। গ্রেগর মেন্ডেল সবল ও দুর্বল জিনের বংশগতি নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেন এবং কতকগুলো সূত্র প্রণয়ন করেন। তিনি দেখিয়েছেন, একই গুণের বাহক দুটি জিনের একটি সবল ও একটি দুর্বল হলে সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজনের মধ্যে দুর্বল জিনের গুণ প্রকাশ পাবে। এ অনুপাত মেন্ডেলের অনুপাত নামে পরিচিত। ধরা যাক পিতার চোখের রং অবিমিশ্র নীল এবং মাতার অবিমিশ্র বাদামি, নীল রঙের জিনটি (B) সবল এবং বাদামি রঙের জিনটি (b) দুর্বল। এখানে পিতার জিন দুটিকে BB এবং মাতার জিন দুটিকে ৮৮ বলা যায়। এটি নিম্নরূপ ছকের সাহায্যে প্রকাশ করা যায়:
এ পিতা-মাতার সকল সন্তানই নীল বর্ণের চোখের অধিকারী হবে,
কিন্তু বাদামি জিনটি সুপ্ত থাকবে।
তাই বলা যায় কতকগুলো গুণাবলি যেমন- চোখের রং, গায়ের রং, চুলের গঠন, দৃষ্টি, শ্রবণ শক্তি প্রভৃতি একজোড়া জিনের দ্বারাই নির্ধারিত হয় যা জিনগত বিশেষ কারণে হয়ে থাকে।