উদ্দীপকে কণার দৈহিক গঠন সমবয়সীদের তুলনায় কিছুটা হালকা পাতলা এবং দেহের তুলনায় উদরখানিকটা বড় এবং সে কিছুটা বোকা স্বভাবের। কণার এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের পিছনে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রন্থিটি হলো থাইরয়েড গ্রন্থি। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—
ঘাড়ের নিচে আমাদের কণ্ঠনালির দুদিকে অর্থাৎ গলার সামনে ত্বক ও মাংসের গভীরে থাইরয়েড গ্রন্থি অবস্থিত। এ গ্রন্থির দুটো অংশ রয়েছে। এ থাইরয়েড গ্রন্থি দুটো একই ধরনের হরমোন তৈরি করে এ গ্রন্থি প্রধানত দু'ধরনের হরমোন ক্ষরণ করে থাকে। যথা—
১. থাইরক্সিন-এ হরমোনের পরিমাণ থাইরয়েড হরমোনের প্রায় ৯০% ।
২. ট্রাই আইওডো-থাইরোনিন-এর পরিমাণ প্রায় ১০%। এটি প্রথমটির তোমার চেয়ে ৪ গুণ বেশি শক্তিশালী, কিন্তু রক্তে এর পরিমাণ খুব কম থাকে।
থাইরয়েড গ্রন্থিটি শরীরের বিপাক ক্রিয়া এবং মৌল তাপ উপাদানের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরক্সিন শারীরিক কার্যাবলির উপরে যে প্রভাব বিস্তার করে তা প্রধানত অক্সিজেন ব্যবহারের বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে হয়ে থাকে। এছাড়াও থাইরক্সিন কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) এর ব্যবহার, লিপিড (চর্বি জাতীয় উপাদান) এর বিপাক ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা নিয়ন্ত্রণ করে ।
থাইরয়েড থেকে প্রয়োজনীয় রস ক্ষরিত না হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বিশেষভাবে ব্যাহত হয় এবং ক্রেটিনিজম নামক রোগে আক্রান্ত হয় । এতে শিশু খর্বাকৃতি, ক্ষীণদেহী, স্ফীতোদর ও ক্ষীণ বুদ্ধিম্পন্ন হয়। পরিণত বয়সে এ গ্রন্থি নষ্ট হয়ে গেলে বা এর ক্ষরণ কম হলে মিক্সেডেমা নামক রোগ হয়। ফলে শরীরে মৌল তাপ উৎপাদনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০% কমে যায়। শরীরের লোম খসখসে হয়, চামড়া শুষ্ক ও তামাটে রঙের হয় এবং গলার স্বর কর্কশ হয়ে যায় ।