উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ বিজ্ঞানী গ্যালিলিও এর ধারণা 'পৃথিবীই সূর্যের চারিদিকে ঘোরে।' এই ধারণাটি সকলেই গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথকে সাবলিল করেছে—বাবার এই বক্তব্যটি বিজ্ঞানের যেসব বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
১. বিষয়বস্তু : কোনো বিষয়কে বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার একটি বাস্তবসম্মত ও ভিত্তিগত বিষয়বস্তু থাকা বাঞ্ছনীয়, যা মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বর্তমান। যেমন মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া।
২. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : কোনো বিষয়কে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তার বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও পরিমাপের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক নিয়ম নীতি মেনে চলতে হয়, যা মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় বর্তমান। যেখানে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু গবেষণায় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, পরীক্ষণ পদ্ধতি, পরিসংখ্যান পদ্ধতি ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়াও কিছু বিশেষ বৈজ্ঞানিক শর্ত ও বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় । যেমন—কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান, বস্তুনিষ্ঠতা ইত্যাদি ।
৩. বৈজ্ঞানিক ও জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি : বিজ্ঞানের একটি বিশেষ দিক হলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্থাৎ অনুসিন্ধৎসা, প্রগতিশীলতা ইত্যাদি মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বর্তমান, যা বিজ্ঞান হিসেবে তার অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করে।
৪. প্রয়োগশীলতা : বিজ্ঞানের আর একটি মাপকাঠি হলো এর প্রয়োগ বা ব্যবহার। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বা সূত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরীভাবে প্রযোগ করা হচ্ছে। শিল্প-কারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজজীবন, ব্যক্তিগত জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন প্রভৃতি প্রায় সর্বক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার লক্ষ করা যায় ।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, বাবার বক্তব্যটি বিজ্ঞানের সব বৈশিষ্ট্যকেই অনুসরণ করে।