উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' ভূমিরূপ দুটির গঠন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' ভূমিরূপ দুটি হলো যথাক্রমে বদ্বীপ ও বর্তুলাকার গর্ত। আকার, আকৃতি ও বৈশিষ্ট্যগতভাবে এ দুই প্রকার ভূমিরূপ ভিন্ন আকৃতির হয়। নিচে বদ্বীপ ও বর্তুলাকার গর্তের বৈশিষ্ট্য আলাদাভাবে তুলে ধরা হলো- বদ্বীপ হলো নদীর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ। সর্বনিম্ন গতিতে অর্থাৎ মোহনার নিকট নদীর গতিবেগ একেবারেই কমে যায়। নদীর তখন পলি বহনের ক্ষমতা একেবারেই থাকে না। ফলে নদীবাহিত পলি, বালুকণা, শিলাচূর্ণ নদীর মোহনায় সঞ্চিত হতে থাকে। দীর্ঘদিন সঞ্চিত হতে হতে নদীর মোহনায় উঁচু হয়ে নদীর মুখে সমুদ্রের পানির উপর জেগে ওঠে। তখন নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। নদী সে সময় নতুন খাতের সৃষ্টি করে প্রবাহিত হয়। এভাবে বাধা পাওয়ার কারণে নদী বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ সমস্ত শাখানদী আবার পরবর্তীতে একইভাবে তাদের মুখে পলি সঞ্চয় করে নতুন ভূখণ্ডের সৃষ্টি করে। নতুন গঠিত ভূখণ্ডের দুই পাশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হওয়ায় ভূখণ্ডটি স্বাভাবিকভাবেই ত্রিকোণার মাত্রাহীন 'এ' এর মতো রূপ লাভ করায় একে বদ্বীপ বলে। পশ্চিমবঙ্গের হুগলী নদী হতে বাংলাদেশের মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত এলাকা একটি আদর্শ বদ্বীপ অঞ্চল। অন্যদিকে বর্তুলাকার গর্ত হলো নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ। দ্রুতবেগে নদীর স্রোত প্রবাহিত হওয়ার সময় নদী উপত্যকার কোনো কোনো স্থানে ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়। তখন নদীর তলদেশের কোনো কোনো স্থানের কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয় হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এ জাতীয় গর্তকে বর্তুলাকার গর্ত বলে। বর্ষাকালে নদীর গতি দ্রুত বৃদ্ধির ফলে এ ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়। তবে বাংলাদেশের সব অঞ্চলের নদীতে এরূপ ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় না। ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ থেকে শিবচর থানা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পশ্চিমপাড়ে মাঝে মাঝে এ ধরনের গর্ত দেখা যায়। তাই বলা যায়, বদ্বীপ ও বর্তুলাকার গর্তের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য রয়েছে।
HSC Geography 1st Paper Chapter 3 : ভূমিরুপ পরিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 3 : ভূমিরুপ পরিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' ভূমিরূপ দুটির গঠন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক

Rajshahi · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর


