উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পর্যায় 'ক' হলো নদীর পার্বত্য অবস্থার। নিচে নদীর পার্বত্য অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হলো:
পার্বত্য অবস্থা নদীর প্রাথমিক পর্যায়। পর্বতের উৎপত্তিস্থল হতে সমভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অংশকে নদীর পার্বত্য পর্যায় বা ঊর্ধ্বগতি ধরা হয়। পার্বত্য অবস্থায় ক্ষয়সাধনই নদীর প্রধান কার্য। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিভাগ ঢালু ও উঁচুনিচু থাকে। সে জন্য নদী উচ্চ স্থান থেকে গর্বতগাত্র বেয়ে নিচে নামতে থাকে। এ সময় নদীর গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪ কিলোমিটার থেকে ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রবল স্রোতের আঘাতে ভূত্বক হতে শিলাখণ্ড ভেঙে পড়ে এবং তা স্রোতের সাথে নিম্ন দিকে গড়িয়ে অগ্রসর হতে থাকে। এ অবস্থায় যান্ত্রিক ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ক্ষয়সাধনই সাধিত হয়ে থাকে। পার্বত্য অবস্থায় নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয়ই বেশি হয়ে থাকে। ফলে গিরিখাত, ক্যানিয়ন, খরস্রোত, জলপ্রপাত প্রভৃতির সৃষ্টি হয়।
পার্বত্য প্রবাহে নদী স্থলভাগকে ক্ষয়করে এবং ক্ষয়িত অংশ পরিবহন করে। পার্বত্য অবস্থায় নদীর প্রধান কাজ ক্ষয়সাধন ও বহন হলেও অনেক সময় নদীর ঢাল হঠাৎ কমে নদীর গতি হ্রাস পেলে অথবা হঠাৎ অধিক পরিমাণ প্রস্তরখণ্ড আসলে নদী তা সম্পূর্ণরূপে বহন করতে না পেরে কিছু কিছু সঞ্চয় করে। এ প্রকারে নদীবাহিত বিভিন্ন পদার্থগুলো অল্প ঢালুযুক্ত অঞ্চলে সঞ্চিত হয়। নদী হঠাৎ উচ্চভূমি হতে নিম্নভূমিতে পতিত হলে সেখানে পলি জমা হয়ে পলল পাখা বা পলল কোণ গঠিত হয়। কখনো কখনো পাহাড়ের পাদদেশে প্রস্তরখণ্ড, নুড়ি, বালি প্রভৃতি জমা হয়ে একটি বিস্তীর্ণ সমভূমির সৃষ্টি করে।