উদ্দীপকে প্রদর্শিত দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বিভিন্ন ধরনের উৎক্ষিপ্ত পদার্থের সাথে জলীয়বাষ্প ও বিভিন্ন গ্যাস হাইড্রোজেন, হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড, গন্ধকের বাষ্প প্রভৃতি তীব্র বেগে নির্গত হয়ে কালো ধোঁয়ার মতো আকাশে ওঠে এবং বায়ুর প্রবাহ ও চাপের কারণে আরও উপরে ওঠে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় উক্ত স্থান দিয়ে বিমান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে ও ২০১২ সালে আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ধোঁয়ায় আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের কয়েকশ বিমান ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।
ভূত্বকের কোনো কোনো স্থানে ফাটল বা দুর্বল শিলা থাকে। এ ধরনের ফাটল দিয়ে ভূঅভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা, ভস্ম, বাষ্প, ধূম্র ইত্যাদি প্রবল বেগে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাতের সৃষ্টি করে। নদী, হিমবাহ, বৃষ্টি, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষয় হলে চাপ হ্রাস পায়। আবার ভূগর্ভস্থ পদার্থসমূহের আয়তন বৃদ্ধির ফলে ভূগর্ভে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে ভূপৃষ্ঠের চাপ হ্রাস এবং ভূগর্ভের চাপ বৃদ্ধির ফলে ভূত্বক ফেটে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। এছাড়া ভূঅভ্যন্তরে পানি প্রবেশ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া, তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাব, ভূপৃষ্ঠের তাপ বিকিরণ ও বিভিন্ন ভূআন্দোলনের ফলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।