উদ্দীপকে উল্লিখিত ভূমিরূপটি হলো সমভূমি। অবস্থান ও গঠন প্রণালির ওপর ভিত্তি করে সমভূমিকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- ক্ষয়জাত সমভূমি, সঞ্চয়জাত সমভূমি এবং ভূ-আন্দোলনজাত সমভূমি।
প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ, সৌরতাপ, বৃষ্টিপাত, পানিস্রোত, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিতে পরিণত হয়। ক্ষয়সাধনের প্রক্রিয়া ও ভূমির প্রকৃতি অনুসারে ক্ষয়জাত সমভূমিকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা- সমপ্রায় ভূমি, হৈমবাহিক সমভূমি, তরঙ্গকর্তিত সমভূমি এবং মরু সমভূমি।
নদী, হিমবাহ, বায়ু প্রবাহ, প্রভৃতি শক্তি দ্বারা ক্ষয়ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট পলি, কাঁকর, বালুকণা, ধূলিকণা প্রভৃতি কোনো নিম্নস্থানে সঞ্চিত হতে হতে কালক্রমে যে ভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে সঞ্চয়জাত সমভূমি বলে। এটিকে আবার পলল সমভূমি, হিমবাহ সমভূমি, লোয়েস সমভূমি, হ্রদ সমভূমি, লাভা সমভূমি প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা হয়। পলল সমভূমি হলো পলিগঠিত সমভূমি। সঞ্চয়ের স্থান অনুযায়ী এ জাতীয় সমভূমি তিন প্রকার। যথা- পাদদেশীয় পলল সমভূমি, প্লাবন সমভূমি এবং বদ্বীপ সমভূমি।
ভূ-আন্দোলনে মহীসোপান ও মহীঢাল অঞ্চলে অর্থাৎ সমুদ্র তীরে মহাদেশগুলোর প্রান্তভাগে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে ভূ- আন্দোলনজাত সমভূমি বলে। ভূ-আন্দোলনজাত সমভূমিকে আবার ২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- উত্থিত সমভূমি এবং অবনত সমভূমি। সুতরাং বলা যায় যে, সমভূমির মধ্যে বিভিন্নতা তথা বৈচিত্র্যতা দৃশ্যমান হয়।