উদ্দীপাকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ঘটনা দুটি হলো ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। নিচে এ দুটি ঘটনার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:
ভূমিকম্পের ফলে ভূত্বকে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি হয়। ফাটল । সৃষ্টি হলে কখনো কখনো তার মধ্য দিয়ে উষ্ণ পানি, কাদা প্রভৃতি বের হয়। চ্যুতিরা ফলে মধ্যবর্তী ভূভাগ বসে যাওয়ায় গ্রস্ত উপত্যকা উঠে যাওয়ায় স্তূণ পর্বতের সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের ফলে কখনো কখনো সমুদ্রতলের অনেক স্থান ওপরে উত্থিত হয়। আবার স্থলভাগের অনেক স্থান সমুদ্র তলে ডুবে যায়। নদনদীর গতির ওপর ভূমিকম্পের প্রভাব ব্যাপক। ভূমিকম্পের ফলে মাটি, বালু প্রভৃতি জমা হয়ে নদীর গতি পরিবর্তিত বা বন্ধ হয়ে যায়। ১৭৮৭ সালে আসামে যে ব্যাপক ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয়ে যায়। ফলে নদটি তার গতিপথ পাল্টে বর্তমানে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ভূমিকম্প কোনো জনবহুল এলাকায় হলে তা ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, পানি, গ্যাস সরবরাহ ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
অপরদিকে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা উপরের দিকে উঠে এবং বহুদূরে লাভার ঢল ছড়িয়ে পড়ে বহু নগর, গ্রাম ইত্যাদি ধ্বংস করে। এর দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণে নিকটবর্তী এলাকার হাজার হাজার লোকের নিমেষে প্রাণহানি হয়। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরিত লাভা, ভস্ম ও ধূলিকণা আকাশের উপরের দিকে। স্ট্রাটোমন্ডলে ওঠে যায় এবং তা দ্রুত পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠে সূর্যরশ্মির তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং এর ফলে শীত বেড়ে যায়। এছাড়া এর ফলে ভূমি উর্বর হয় এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ উত্থিত হয়।