উদ্দীপকে 'খ' দ্বারা জৈবিক বিচূর্ণীভবনকে বোঝানো হয়েছে। নিচে উক্ত প্রক্রিয়া ঘটানোর জন্য কীভাবে মানুষকে দায়ী করা হচ্ছে তা আলোচনা করা হলো-
মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তু এবং বৃক্ষলতাদি দ্বারা শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হচ্ছে। একে জৈবিক বিচূর্ণীভবন বলে। উদ্ভিদ নিচের দিকে শিকড় চালিয়ে মাটিকে ফাটিয়ে দেয় এবং ক্রমে মাটি আলগা হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করলে শিলারাশি বিচূর্ণ হয়। অন্যদিকে জীবজন্তু যেমন- কেঁচো, ছুঁচো, পিঁপড়া, কুকুর প্রভৃতি সর্বদা মাটি খুঁড়ে উলট-পালট করে এবং শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।
উক্ত দুটি প্রকৃতিগত কারণে শিলারাশি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় খুব ধীর গতিতে। পক্ষান্তরে, জৈবিক বিচূর্ণীভবনের আরেকটি প্রক্রিয়া যা খুবই বেশি প্রভাব ফেলে তা হচ্ছে মানুষের কার্য। বর্তমান যুগে মানুষ নিজেদের সুবিধার জন্য ভূত্বকের পরিবর্তন সাধন করছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাস্তাঘাট নির্মাণে খাল খনন, গৃহ নির্মাণে কৃষিখেত খনন, বিভিন্ন নির্মাণাধীন দালানকোঠা নির্মাণে মৃত্তিকা খনন, আসবাবপত্র নির্মাণে গাছ কাটা প্রভৃতি নানামুখী কর্মকাণ্ডের কারণে মৃত্তিকা চূর্ণ-বিচূর্ণ হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উল্লিখিত তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্যে মানুষের কার্যাবলি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণীভবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। এ কারণে জৈবিক বিচূর্ণীভবন প্রক্রিয়ার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি দায়ী বলে মনে করি।