উদ্দীপকে 'ক' বলতে বাংলাদেশের ভূমিক্ষয়কে বোঝানো হয়েছে। নিয়ে ভূমিক্ষয়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
সাধারণত ভূমিক্ষয় প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে হয়ে থাকে। এতে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কৃষিকাজের জন্য উর্বর মৃত্তিকা একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানচাষে মোট জমির প্রায় ৭৮% নিয়োজিত রয়েছে। এ কারণে ভূমিক্ষয়ের কারণে উক্ত ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
ভূমিক্ষয় ভূপৃষ্ঠের উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের অস্তিত্ব বিপন্ন করে থাকে। ভূমিক্ষয়ের ফলে ভূমির উর্বরতা হ্রাস পায়, উৎপাদন কমে যায়। ভূমিক্ষয় পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। প্রতিবছর ভূমিক্ষয়ের ফলে কৃষিজমির পরিমাণ কমে গিয়ে কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদন হ্রাস পায়। উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য কৃষকরা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে। এতে ফসল উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়।
এছাড়া ভূমিক্ষয়ের ফলে প্রায় প্রতিবছর নদীর তীরবর্তী উর্বর কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, ফলজ-কাষ্ঠল বৃক্ষ, গৃহপালিত পশু নদীগর্ভে বিলীন হয়। এছাড়া রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ীভূত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয় এবং কয়েকদিন পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ভূমিধস হয়। এতে ঘরবাড়িসহ মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি মাটিতে চাপা পড়ে মারা যায়।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের ভূমিক্ষয় একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে নিয়ে আসে।