চিত্রের 'ক' স্থানে যান্ত্রিক ও 'খ' স্থানে জৈবিক বিচূর্ণীভবন প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল। চিত্রের 'ক' স্থানটি পার্বত্য উচ্চভূমি নির্দেশ করছে। তাই এখানে যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া কাজ করবে। অন্যদিকে 'খ' স্থানটি উদ্ভিদপূর্ণ স্থান বলে এখানে জৈবিক বিচূর্ণীভবন অধিক ক্রিয়াশীল।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন সহজেই ক্রিয়া করে। সাধারণত সৌরতাপ, তুষার, বৃষ্টি, শিলার চাপ হ্রাস এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা এ ধরনের বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এসব প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ সহজেই কাজ করতে পারে।
মানুষ, জীবজন্তু এবং বৃক্ষলতাদি দ্বারা শিলারাশি সর্বদা চূর্ণবিচূর্ণ হচ্ছে। একে জৈবিক বিচূর্ণীভবন বলে। বৃক্ষলতাদি দ্বারা শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হলে তা সহজে বুঝা যায় না। উদ্ভিদ বিবিধ উপায়ে প্রতিনিয়ত শিলাকে বিশ্লিষ্ট ও চূর্ণবিচূর্ণ করছে। বৃক্ষ মাটির ভিতরে প্রবেশ করলে স্বাভাবিকভাবেই মাটি ফেটে যায় এবং কিছু শিলা আলগা হয়ে পড়ে। এতে করে মাটিতে পানি প্রবেশের পথ পায়। মস, শৈবাল, লাইকেন প্রভৃতির ক্রিয়ায় তখন হিউমাস (Humus) সৃষ্টি হয়। হিউমাস আবার বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে এসে জৈব এসিড (Organic acid) সৃষ্টি করে যা শিলারাশিকে ক্ষয় করে।
সুতরাং দেখা যায়, 'ক' স্থানে ভৌত উপায়ে এবং 'খ' স্থানে জৈব- রাসায়নিক উপায়ে ভূমিরূপ পরিবর্তিত হয়।