উদ্দীপক অনুসারে নিশুর নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি এবং নিশু ও তার সহপাঠীদের ভ্রমণকৃত অঞ্চল মধুপুর, প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্গত। নিচে উল্লিখিত ভূমিরূপদ্বয়ের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো: পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা প্রভৃতি নদ-নদী এবং তাদের অসংখ্য উপনদী ও শাখা নদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা প্লাবণ সমভূমি অঞ্চল গঠিত। বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তৃত সমভূমি। অসংখ্য ছোট বড় নদী বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। সমভূমির উপর দিয়ে নদীগুলো প্রবাহের কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ।
এভাবে বন্যার সঙ্গে পলিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৮০% ভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর বলে কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদনে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
অপরদিকে, আজ থেকে অর্ধ মিলিয়ন বছর পূর্বে বরফ যুগের পরোক্ষ প্রভাবের ফলে প্লাইস্টোসিন যুগের ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের সুবিশাল বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় (প্লাইস্টোসিন যুগে) এভাবে গঠিত হয়েছে। মধুপুর অঞ্চলের মাটির রং লাল এবং কংকরময় বলে কৃষিকাজের পক্ষে বিশেষ উপযোগী নয়। এ অঞ্চলের মাটি অন্যান্য অঞ্চলের মাটি হতে সহজেই পৃথক করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি ও মধুপুর অঞ্চল ভূমিরূপ দুইটির মধ্যে যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।