উদ্দীপকের আলোকে নদীর পর্যায়সমূহ বর্ণনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে একটি নদীর উৎপত্তিস্থল হতে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিপ্রবাহ তথা পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে। একটি আদর্শ নদীর গতিকে ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যেমন- ১. প্রাথমিক অবস্থা, ২. যৌবন অবস্থা, ৩. প্রবীণ অবস্থা ও ৪. বার্ধক্য অবস্থা। নদীর প্রাথমিক অবস্থার সময় পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টি ও বরফগলা পানি সরবরাহ খুব বেশি। পার্বত্য অঞ্চল থেকে ছোট ছোট স্রোতধারাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে একটি প্রবলস্রোতধারার সৃষ্টি করে। ভূমির ঢাল খাড়া হওয়ায় প্রবল স্রোতধারাটি ক্ষয়সাধন করতে করতে অগ্রসর হয়। এ সময় নদী উপত্যকা গভীর হয়। প্রবল স্রোতের বেগ বড় বড় পাথর, নুড়ি প্রভৃতি স্রোতের সাথে বহন করে। এটি নদী সৃষ্টির প্রথম অবস্থা বলে একে প্রাথমিক অবস্থা বলে। যৌবন অবস্থার সময় নদী পরিপূর্ণতা লাভ করে। সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত নদীর স্রোতের বেগ প্রবল থাকে। এই অবস্থায় ক্ষয় ও বহন উভয় প্রক্রিয়া কার্যকর থাকলেও ক্ষয়কার্যের প্রাধান্য থাকে এবং নদীর খাত 'V [গণিত] অক্ষরের ন্যায় হয়। নদীখাতের কোথাও বর্তুলাকার গর্ত দেখা যায়। নদী প্রবাহের মধ্যবর্তী এই অবস্থাকে যৌবন অবস্থা বলে। নদীর তৃতীয় পর্যায় হচ্ছে প্রবীণ অবস্থা। এ সময় নদীর স্রোতের বেগ হ্রাস পাওয়ায় ক্ষয়সাধন ও পরিবহন ক্ষমতাও হ্রাস পায়। নদীবাহিত পলি নদীর তলদেশে সঞ্চিত হয়ে তলদেশের গভীরতা কমে যায়। ক্ষয়কার্য সামান্য হয় বলে নদীর পার্শ্বীয় ক্ষয় অর্ধেক হয় এবং নদীখাত ইংরেজি ইউ অক্ষরের ন্যায় খাত সৃষ্টি করে। তখন নদী সমভূমির উপর দিয়ে আঁকাবাঁকা গতিতে প্রবাহিত হয়। কোথাও কোথাও অশ্বখুরাকৃতি হ্রদের সৃষ্টি হয়। সর্বোপরি, নদীর জীবনকালের এটি তৃতীয় পর্যায় বলে একে প্রবীণ অবস্থা বলে। নদীর সর্বশেষ অবস্থা হলো বার্ধক্য অবস্থা। এসময় নদীর ক্ষয়কার্য ও বহনকার্য হয় না বললেই চলে। তবে এখানে নদীর সাথে বাহিত বিভিন্ন পদার্থ মোহনায় সঞ্চয়ের ফলে প্লাবন সমভূমি, বদ্বীপ সমভূমি প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত ৪টি পর্যায়ের মাধ্যমে নদী তার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটায়।
HSC Geography 1st Paper Chapter 3 : ভূমিরুপ পরিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 3 : ভূমিরুপ পরিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে নদীর পর্যায়সমূহ বর্ণনা কর।
উদ্দীপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর


