উদ্দীপকের 'খ' বলতে বদ্বীপ এবং 'গ' বলতে বর্তুলাকার গর্তকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত ভূমিরূপ দুটির গঠন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হলো:
'বদ্বীপ' হলো নদীবিধৌত সমতলভূমি। এটি নদীর বার্ধক্য অবস্থায় সৃষ্টি হয়। এ সময় নদীর গতিবেগ কম থাকে। আমরা জানি, নদীর পানির সাথে শিলাচূর্ণ, বালি, কাদা প্রভৃতি তলানিরূপে সঞ্চিত থাকে। নদীর পানি মোহনায় সমুদ্রের লবণ মিশ্রিত পানি এ তলানি পড়তে বিশেষভাবে সাহায্য করে। নদী যখন কম স্রোতহীন সমুদ্রে পড়ে, তা হলে ঐ সমস্ত তলানি নদীর মুখে জমতে জমতে নদীমুখ সরু হতে থাকে এবং কালক্রমে ঐ চরাভূমি সমুদ্রের পানির উপর উঁচু হয়ে উঠে। তখন একধরনের ত্রিভুজাকার নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়, যা বদ্বীপ নামে পরিচিত।
অপরদিকে বর্ষাকালে নদীর গতিবেগ বেশ বৃদ্ধি পায়। সেসময় নদীর চলার পথে কোনো কোনো স্থানে নদীর পানি প্রবল বেগে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। এতে নদীর তলদেশে নরম মাটি ক্ষয় হয় এবং অপসারিত হয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি করে। যাকে বর্তুলাকার গর্ত বলে।
সুতরাং বলা যায় যে, দুটি ভূমিরূপ দু'ধরনের অবস্থায় সৃষ্টি হয়। প্রথমটি বদ্বীপ যা নদীর গতিবেগ কমে গিয়ে তলানি জমে সৃষ্টি হয় এবং দ্বিতীয়টি বর্তুলাকার গর্ত যা নদীর গতিবেগ প্রবল হয়ে গিয়ে নদীর নিচের দিকে ভূ-ভাগ ক্ষয় ভূত হয়ে গর্তের সৃষ্টি করে।