শিক্ষার্থীদের ভ্রমণকৃত অঞ্চল দুটি হলো যথাক্রমে বান্দরবান যা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের এবং ফরিদপুর যা সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত। উক্ত দুটি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। টারশিয়ারী যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সূময় এসকল পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ পাহাড়গুলো বেলে পাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এটি দুটি ভাগে বিভক্ত। এক দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়সমূহ, দুই. উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের উচ্চতা কিছুটা বেশি। এর গড় উচ্চতা ৬২০ মিটার। এখানকার মাটি সাধারণত অনুর্বর এবং কৃষিকাজের জন্য অনুপযোগী। এখানে পত্রঝরা ও সবুজ পত্রবিশিষ্ট বনভূমি রয়েছে।
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি: টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ 'এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। অসংখ্য ছোট-বড় নদী বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। এ সমভূমি বাংলাদেশের উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর। এখানে কৃষিকাজ ভালো হয়। ফরিদপুর অঞ্চলের দিকে সমুদ্রের নিকটবর্তী হওয়ায় এখানকার ভূমি সমতল কিন্তু কিছুটা নিচু।
সুতরাং বলা যায় যে, উল্লিখিত দুটি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির গঠন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করি।