উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনে বলা হয়েছে যে, নদী তার গতি পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ভূমিরূপের ক্ষয়সাধন করে থাকে। উক্ত ক্ষয়সাধনের হাত থেকে রক্ষা পেতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-
আমরা জানি, পার্বত্য অবস্থায় ভূমিগুলো বেশি ঢালু বলে এখানে নদীর প্রবাহ খুব বেশি বলে সবচেয়ে বেশি ভূমিক্ষয় হয় এ অবস্থায়। তাই পার্বত্য এলাকার নদীগুলোর প্রবাহ কিছুটা কমানোর জন্য পাহাড়র ঢাল সিঁড়ির মতো করে দিলে গতি কিছুটা কমবে এবং ভূমিক্ষয় কম হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। নদী কমিশনকে প্রয়োজনীয় এলাকায় নদী ও খাল পুনঃখননের ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে নদীর সঠিক সংযোগ স্থাপন করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নদীতে চলে যেতে পারে। নদী কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
বন্যার সময় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নদী কমিশনকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
নদী, খাল এবং জলাশয়গুলোর মধ্যে সংযোগস্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। এতে পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হবে এবং জলাদ্ধতার সমস্যা কমবে। নদী কমিশনকে এই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে।
নদীর দু'পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা। এতে নদীর পাড়ের মৃত্তিকা শক্ত হবে এবং সহজে নদীর দু'পাড় ভাঙবে না।
নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করার জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। নদীর তলদেশ খনন করার মাধ্যমে নদীর দু'কূল প্লাবিত হওয়া অনেকটা রোধ হতে পারে। এতে দুপাড়ের ভূমিগুলোর ক্ষয় অনেকাংশে কমে আসবে।
সুতরাং বলা যায়। যে, উপরোল্লিখিত 'পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদির ১৮ আইন। প্রয়োগ, সুশাসন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভূমিরূপের ক্ষয়সাধন রোধ করা যেতে পারে।