উদ্দীপকে 'ক' দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে বোঝানো হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
ভূত্বকের সর্বত্র সমান শক্ত বা পুরু নয়। কোনো কোনো স্থানে ফাটল বা দুর্বল শিলা থাকে। এসব স্থানে সহজেই সুড়ঙ্গের সৃষ্টি করে অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে। ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে যতই গভীরে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা ততই বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৩০ মিটার গভীরতার ১০ সে. তাপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু উপরের শিলাস্তরের চাপের কারণে ভূঅভ্যন্তরের চাপ ও তাপের সাম্যাবস্থা বিরাজ করায় পদার্থগুলো স্থিতিস্থাপক নমনীয় অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। কোনো কারণে চাপ বা তাপসমতা নষ্ট হলে অভ্যন্তরীণ পদার্থগুলো তরল হয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয় এবং ফাটল দিয়ে ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
মধ্য মহাসাগরীয় প্লেটের অপসারণ এবং মহাদেশীয় মহাসাগরের প্লেটের সংকোচনের ফলে ভূত্বকের ফাটল বা ছিদ্র দিয়ে সমুদ্রের পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ প্রচন্ড উত্তাপে ঐ পানি বাষ্পীভূত হয়ে আয়তন বৃদ্ধি পায়। এসব বাষ্প বিভিন্ন প্রকার গ্যাসের সাথে মিশে ঊর্ধ্বচাপের সৃষ্টি করে এবং ভূত্বকের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
ভূঅভ্যন্তরের যেসব স্থানে তেজস্ক্রিয় পদার্থের (রেডিয়াম, থোরিয়াম, ইউরেনিয়াম) পরিমাণ বেশি সেখানে এগুলোর তাপ বিকিরণের ফলে তাপসমতা নষ্ট হয় এবং আশেপাশের শিলা গলে ম্যাগমায় পরিণত হয়। পরে এটি ফাটল দিয়ে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
ভূপৃষ্ঠ সর্বদা তাপ বিকিরণ করে শীতল ও সংকুচিত হচ্ছে। এতে ভূত্বকে ভাঁজের সৃষ্টি হয় ও চাপ হ্রাস পায়। তখন ভূত্বক ফেটে নানা ছিদ্র ও ফাটলের সৃষ্টি করে যা অগ্ন্যুৎপাতে সহায়তা করে।
সুতরাং বলা যায়, উপরোল্লিখিত কারণে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।