উদ্দীপকের শেষ লাইনের উপসাগরটি বঙ্গোপসাগর যা বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।
বঙ্গোপসাগরে অর্থাৎ বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকারের কারণে এদেশে অধিকসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। ঘূর্ণিঝড় প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে অন্যতম। এটি কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ ও চারপাশে ঊর্ধ্বচাপ বিরাজ করে। এ ঘূর্ণিঝড় ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক ও চৈত্র-বৈশাখ মাসে সংঘটিত হয়। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে এদেশে অধিকসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। আর এ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় অর্থাৎ প্রাণ ধ্বংসকারী দুর্যোগটি সংঘটিত হয় বঙ্গোপসাগরের ফানেলাকৃতির কারণে।
এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটনের ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বিপুলসংখ্যক প্রাণঘাতীসহ ব্যাপক আকারে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদাদির ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, টেকনাফসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে।
বিশ্বের খুব কমসংখ্যক সমুদ্র এলাকায় বছরে নির্দিষ্ট সময় এমন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত উপসাগরটি অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।