'গ' চিহ্নিত স্তরটির নাম হচ্ছে গভীর সমুদ্রখাত।
গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলে কোথাও কোথাও গভীর গর্ত দেখা যায়। এসব গর্তই গভীর সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রখাতগুলো সমুদ্রতলের একপ্রান্তে এবং আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
গভীর সমুদ্রখাত সমুদ্রতলে অধিক প্রশস্ত না হলেও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। এগুলোর গভীরতা প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারেরও অধিক হয়ে থাকে। সমুদ্রবিজ্ঞানীদের ধারণা পাশাপাশি অবস্থানের কারণে মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক পাতের সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাতের সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য দেখা যায়, প্রতিটি সমুদ্রখাত পাত সীমানার শেষভাগে অবস্থিত। পাত সংঘর্ষের কারণ ছাড়াও যেখানে পাতগুলো অবস্থিত সেখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ফলে এসব গভীর সমুদ্রখাতের সৃষ্টি হয়। গভীর সমুদ্রখাতগুলোর অধিকাংশই প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। সবচেয়ে গভীরতম সমুদ্রখাতটির নাম 'ম্যারিয়ানা খাত' যা প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপ হতে ৩২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম নিউগিনির উত্তরে অবস্থিত। এর গভীরতা প্রায় ১০,৯৬০ মিটার। এছাড়া রয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জাপানের অদূরে টাস্কারোরা খাত ৮৫১৮ মি. ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জের অদূরে মিগুনাও খাত ১০,৭৯৭ মি. আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টোরিকো খাত ৮,৮০৬ মিটার প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।