মুঘলদের মতো উক্ত শাসকের পরবর্তী শাসকেরা স্থাপত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। – মন্তব্যটি যথার্থ।কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজজোহরা প্রাসাদ, মদিনাতুল জাহিরা ইত্যাদি ছিল স্পেনের উমাইয়াদের স্থাপত্যকীর্তির অসাধারণ নিদর্শন। এগুলোর স্থাপত্য কৌশল, নির্মাণশৈলী ও অলংকরণ রীতি খুবই চমকপ্রদ। আজজোহরা প্রাসাদে লতাপাতা দিয়ে সৌন্দর্য কর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। স্থাপত্যশিল্পেও তৃতীয় আব্দুর রহমান অমর কীর্তি স্থাপন করেছেন। কর্ডোভার পাঁচ মাইল উত্তরে (এস. এম ইমাম উদ্দিনের মতে ৩ মাইল উত্তরে) সিয়েরা মরেনার-এর পাদদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে তিনি প্রিয়তমা পত্নী আল জোহরার অনুরোধে আম জোহরা প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এর প্রধান অংশ নির্মাণে ১৫ বছর এবং অবশিষ্ট অংশ নির্মাণে ২৫ বছর সময় লাগে।নুমিদিয়া ও কার্থেজ থেকে মার্বেল পাথর আনা হয় এবং সোনার মূর্তিযুক্ত স্তম্ভ ও বেসিনগুলো কনস্টান্টিনোপল থেকে আমদানি করা হয়। ১০,০০০ শ্রমিক ও বোঝা বহনের জন্য ১,৫০০ ভারবাহী পশু এর নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিল। আব্দুর রহমান বিখ্যাত কর্ডোভা জামে মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য উত্তর আফ্রিকা হতে সংগৃহীত শুভ্র মর্মর প্রস্তরে ১০৮ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একটি সুরম্য মিনার নির্মাণ করেন। প্রতি রাতে ১০,০০০ বাতি জ্বালানোর জন্য ৩০০ খাদেম নিয়োজিত ছিল। মোটকথা, একটানা অক্লান্ত পরিশ্রম, অসীম ধৈর্য, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবোধ, পরধর্ম সহিষ্ণুতা, চারিত্রিক বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা বুদ্ধিমত্তা, ক্ষমতা পরিচালনায় ভারসাম্য বজায় রাখা ইত্যাদি সদগুণাবলি নিজ জীবন ও কর্মে প্রস্ফুটিত করে তিনি প্রায় ৫০ বছর একটানা স্পেনকে শাসন করেন এবং স্পেনকে বিশ্বের সুন্দরতম ও শক্তিশালী শহর হিসেবে গড়ে তোলেন। স্পেনের সার্বিক উন্নয়নে তার অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই।