Chapter 6 : স্পেনে উমাইয়া শাসন Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 6 : স্পেনে উমাইয়া শাসন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৭৪

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশে রেলভ্রমণ করছিল। সে পাশের যাত্রীর কাছে শুনতে পেল সেই দেশটি এক সময় মুসলমানরা শাসন করত। যখন মুসলমানরা দেশটি শাসন করতে এল এর পূর্বমুহূর্তে গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কলহ দেশটির শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়। দেশটির তখনকার রাজধানী ছিল টলেডো। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসন স্বৈরাচারী ছিল বলে একজন শাসক সেই দেশটিতে মুসলমানদের অভিযানের আমন্ত্রণ জানায়।
প্রথম হাকাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

প্রথম হাকাম মৃত্যুবরণ করেন ৮২২ খ্রিস্টাব্দে।
ধর্মান্ধ খ্রিস্টানদের ইসলাম ধর্মের প্রতি যতটা বিদ্বেষ ছিল তার চেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছিল আরবীয়করণের প্রতি- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মুসলিম বিজয়ের পর থেকে স্পেনীয় খ্রিস্টানরা আরবদের সুশাসন ও উন্নত জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে আরবীয় ভাবধারা, রীতিনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুসারী হয়। তারা নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৈন্যতা সম্বন্দ্বে ওয়াকিবহাল ছিল এবং বিকাশমান আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে, ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামপন্থি না হলেও রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে আরবীয় হয়ে গিয়েছিল। ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানরা সব দিক থেকে আরবীয়করণের ফলে ভীত হয়ে পড়ে। তারা ইসলাম ধর্মের চেয়ে আরবীয়করণের প্রতি বেশি বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশ স্পেনে রেল ভ্রমণ করেছিল। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এ সংকটের একটি কারণ ছিল অনুন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং কৃষকরা আদিম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করত। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল না থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় শিল্পকারখানার প্রতি তেমন একটা নজর দেওয়া হয়নি। এসময় জার্মান বার্বাররা ইউরোপের বিভিন্ন শহর, নগর, বন্দর, লোকালয় আক্রমণ করলে তা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ইউরোপের যে ব্যবসায় বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের ব্যবসায়িক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্পেনেও। তাছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে শাসকরাও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। ফলে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করে।
জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশটিতে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল, যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট- মতামত প্রদান কর।

উত্তর

জিন্নাহর ভ্রমণকৃত ইউরোপের দেশটি হলো স্পেন। প্রাক-ইসলামি যুগে স্পেনে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল। তা হলো- ১. সুবিধাভোগী অভিজাত সম্প্রদায়; ২. মধ্যবিত্ত ভূস্বামীবৃন্দ এবং ৩. ক্রীতদাস শ্রেণি। প্রথম শ্রেণিভুক্ত সুবিধা ভোগকারীদের মধ্যে ছিল- রাজন্যবর্গ, অমাত্যবর্গ, ধর্মযাজক ও সামন্তরাজাগণ। স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, ক্ষমতালোভী সামন্ত রাজাগণ, বিলাসপ্রিয় অভিজাতশ্রেণি ও সুবিধা ভোগকারী পুরোহিতবর্গ স্পেনে নৈরাজ্য ও শোষণ দ্বারা সামাজিক অরাজকতা সৃষ্টি করে। পুরোহিতরা ছিল প্রচুর সম্পদের অধিকারী ও বিলাসব্যসনে ব্যস্ত। তাদের অধীনে চার্চে হাজার হাজার পরিচারিকা থাকত। রাজাসহ সবাইকে পুরোহিতদের ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হতো। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল মধ্যবিত্ত ভূস্বামীগণ। তারা রাজাকে জমির বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ খাজনা প্রদান করত। তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং বিলাসব্যসনে দিন যাপন করত। তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। ভূমিদাসরা ভূস্বামীদের জমিতে বেগার খাটত; বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প পরিমাণ উৎপাদিত ফসল পেত। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি গোষ্ঠী ছিল ক্রীতদাস। হাট-বাজারে পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করা হতো। এদেরও কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তিনটি সামাজিক স্তর বিদ্যমান ছিল স্পেনে। এ তিনটি সামাজিক স্তরের মধ্যে প্রকট বৈষম্য বিরাজ করত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশে রেলভ্রমণ করছিল। সে পাশের যাত্রীর কাছে শুনতে পেল সেই দেশটি এক সময় মুসলমানরা শাসন করত। যখন মুসলমানরা দেশটি শাসন করতে এল এর পূর্বমুহূর্তে গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কলহ দেশটির শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়। দেশটির তখনকার রাজধানী ছিল টলেডো। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসন স্বৈরাচারী ছিল বলে একজন শাসক সেই দেশটিতে মুসলমানদের অভিযানের আমন্ত্রণ জানায়।
প্রথম হাকাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

প্রথম হাকাম মৃত্যুবরণ করেন ৮২২ খ্রিস্টাব্দে।
ধর্মান্ধ খ্রিস্টানদের ইসলাম ধর্মের প্রতি যতটা বিদ্বেষ ছিল তার চেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছিল আরবীয়করণের প্রতি- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মুসলিম বিজয়ের পর থেকে স্পেনীয় খ্রিস্টানরা আরবদের সুশাসন ও উন্নত জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে আরবীয় ভাবধারা, রীতিনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুসারী হয়। তারা নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৈন্যতা সম্বন্দ্বে ওয়াকিবহাল ছিল এবং বিকাশমান আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে, ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামপন্থি না হলেও রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে আরবীয় হয়ে গিয়েছিল। ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানরা সব দিক থেকে আরবীয়করণের ফলে ভীত হয়ে পড়ে। তারা ইসলাম ধর্মের চেয়ে আরবীয়করণের প্রতি বেশি বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশ স্পেনে রেল ভ্রমণ করেছিল। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এ সংকটের একটি কারণ ছিল অনুন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং কৃষকরা আদিম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করত। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল না থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় শিল্পকারখানার প্রতি তেমন একটা নজর দেওয়া হয়নি। এসময় জার্মান বার্বাররা ইউরোপের বিভিন্ন শহর, নগর, বন্দর, লোকালয় আক্রমণ করলে তা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ইউরোপের যে ব্যবসায় বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের ব্যবসায়িক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্পেনেও। তাছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে শাসকরাও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। ফলে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করে।
জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশটিতে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল, যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট- মতামত প্রদান কর।

উত্তর

জিন্নাহর ভ্রমণকৃত ইউরোপের দেশটি হলো স্পেন। প্রাক-ইসলামি যুগে স্পেনে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল। তা হলো- ১. সুবিধাভোগী অভিজাত সম্প্রদায়; ২. মধ্যবিত্ত ভূস্বামীবৃন্দ এবং ৩. ক্রীতদাস শ্রেণি। প্রথম শ্রেণিভুক্ত সুবিধা ভোগকারীদের মধ্যে ছিল- রাজন্যবর্গ, অমাত্যবর্গ, ধর্মযাজক ও সামন্তরাজাগণ। স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, ক্ষমতালোভী সামন্ত রাজাগণ, বিলাসপ্রিয় অভিজাতশ্রেণি ও সুবিধা ভোগকারী পুরোহিতবর্গ স্পেনে নৈরাজ্য ও শোষণ দ্বারা সামাজিক অরাজকতা সৃষ্টি করে। পুরোহিতরা ছিল প্রচুর সম্পদের অধিকারী ও বিলাসব্যসনে ব্যস্ত। তাদের অধীনে চার্চে হাজার হাজার পরিচারিকা থাকত। রাজাসহ সবাইকে পুরোহিতদের ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হতো। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল মধ্যবিত্ত ভূস্বামীগণ। তারা রাজাকে জমির বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ খাজনা প্রদান করত। তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং বিলাসব্যসনে দিন যাপন করত। তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। ভূমিদাসরা ভূস্বামীদের জমিতে বেগার খাটত; বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প পরিমাণ উৎপাদিত ফসল পেত। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি গোষ্ঠী ছিল ক্রীতদাস। হাট-বাজারে পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করা হতো। এদেরও কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তিনটি সামাজিক স্তর বিদ্যমান ছিল স্পেনে। এ তিনটি সামাজিক স্তরের মধ্যে প্রকট বৈষম্য বিরাজ করত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নোয়াখালীর কিবলিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপ গমন করে এবং সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা দেখে অবাক হয়। সে তার বন্ধু দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসা করে, এখানে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? দেলোয়ার তাকে উত্তর দেয়, কোনো এক সময় এ ইউরোপের। কোনো এক দেশে মুসলিম সম্প্রদায় আগমন করেছিল এবং শাসন করেছিল। তবে তা আরব মুসলিমদের সর্বশেষ এবং নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।
প্রথম হিশাম কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

উত্তর

প্রথম হিশাম ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ৩২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রথম হিশামের সময়ের ভ্রাতৃযুদ্ধের ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

প্রথম আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র প্রথম হিশাম ৩২ বছর বয়সে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আবদুর রহমানের সিরীয় স্ত্রীর গর্ভের সুলায়মান ও আব্দুল্লাহ নামে দুই পুত্র সন্তান ছিল। সিংহাসনে আরোহণের জন্য তারা প্রথম হিশামের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তারা ৭৯০ খ্রিস্টাব্দে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে টলেডোতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রথম হিশাম বুলক (Boulk) প্রান্তরে বিদ্রোহী ভ্রাতৃদ্বয়ের মোকাবিলা করে তাদের পরাজিত করেন এবং স্পেন থেকে বিতাড়িত করেন।
দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি রয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সেটি হলো ইউরোপের একটি দেশ স্পেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজত্বকালে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সংঘাতপূর্ণ। এ সুযোগে খলিফা আল ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইর ও তার অধীনস্থ সেনাপতি তারিক ইবন-জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন দখল করে। স্পেনের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা বহির্ভূত। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে কোনো ঐক্য ছিল না। সামন্ত রাজা রডারিক স্পেনের রাজা উইটিজাকে হত্যা করে বলপূর্বক সিংহাসন দখল করে স্বৈরাচারীভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। ফলে অনেকেই তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান তৎকালীন প্রথা। অনুযায়ী তার কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে রাজকীয় রীতিনীতি সম্পর্কে। জ্ঞানদানের জন্য রডারিকের প্রাসাদে পাঠান। কিন্তু লম্পট রডারিক কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিন্ডার শ্লীলতাহানি করেন। এতে কাউন্ট জুলিয়ান আক্রোশে ফেটে পড়েন। তিনি মুসা বিন নুসাইরকে স্পেন আক্রমণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তার শ্বশুর উইটিজার নির্মমভাবে হত্যা এবং কন্যার শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ গ্রহণে মুসলমানদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ রকম অরাজক পরিস্থিতি মুসলমানদের স্পেন অভিযানে উৎসাহিত করে।
আরবদের এ অভিযানে ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়- মতামত দাও

উত্তর

মুসলিম বিজয় সমগ্র স্পেনে রাজনৈতিক ঐক্য, সংহতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে, মুসলিম শাসনের প্রভাবে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সাধারণ প্রজাদের করভার লাঘব হয়। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে ইউরোপে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না, সমাজের নিম্নশ্রেণি ও দাসদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল না, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ছিল না। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্পচর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। সমগ্র ইউরোপ ছিল অশান্তিময় ও কলুষিত। স্পেনে মুসলিম বিজয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিম শাসনামলে স্পেনে ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে। ক্রীতদাসদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। মুসলিম শাসিত স্পেনে শিল্পকলা, স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখে। স্পেনীয়রা মুসলমানদের কাছ থেকে এসব আত্মস্থ করে ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইউরোপের অন্যান্য জাতিও তাদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা লাভ করতে থাকে। পি. কে. হিস্ট্রি যথার্থই বলেছেন যে, "মধ্যযুগীয় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেন একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।" পরিশেষে বলা যায়, স্পেন অভিযানের ফলে উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনসহ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে সমগ্র ইউরোপ আলোকিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নোয়াখালীর কিবলিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপ গমন করে এবং সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা দেখে অবাক হয়। সে তার বন্ধু দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসা করে, এখানে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? দেলোয়ার তাকে উত্তর দেয়, কোনো এক সময় এ ইউরোপের। কোনো এক দেশে মুসলিম সম্প্রদায় আগমন করেছিল এবং শাসন করেছিল। তবে তা আরব মুসলিমদের সর্বশেষ এবং নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।
প্রথম হিশাম কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

উত্তর

প্রথম হিশাম ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ৩২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রথম হিশামের সময়ের ভ্রাতৃযুদ্ধের ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

প্রথম আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র প্রথম হিশাম ৩২ বছর বয়সে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আবদুর রহমানের সিরীয় স্ত্রীর গর্ভের সুলায়মান ও আব্দুল্লাহ নামে দুই পুত্র সন্তান ছিল। সিংহাসনে আরোহণের জন্য তারা প্রথম হিশামের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তারা ৭৯০ খ্রিস্টাব্দে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে টলেডোতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রথম হিশাম বুলক (Boulk) প্রান্তরে বিদ্রোহী ভ্রাতৃদ্বয়ের মোকাবিলা করে তাদের পরাজিত করেন এবং স্পেন থেকে বিতাড়িত করেন।
দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি রয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সেটি হলো ইউরোপের একটি দেশ স্পেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজত্বকালে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সংঘাতপূর্ণ। এ সুযোগে খলিফা আল ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইর ও তার অধীনস্থ সেনাপতি তারিক ইবন-জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন দখল করে। স্পেনের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা বহির্ভূত। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে কোনো ঐক্য ছিল না। সামন্ত রাজা রডারিক স্পেনের রাজা উইটিজাকে হত্যা করে বলপূর্বক সিংহাসন দখল করে স্বৈরাচারীভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। ফলে অনেকেই তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান তৎকালীন প্রথা। অনুযায়ী তার কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে রাজকীয় রীতিনীতি সম্পর্কে। জ্ঞানদানের জন্য রডারিকের প্রাসাদে পাঠান। কিন্তু লম্পট রডারিক কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিন্ডার শ্লীলতাহানি করেন। এতে কাউন্ট জুলিয়ান আক্রোশে ফেটে পড়েন। তিনি মুসা বিন নুসাইরকে স্পেন আক্রমণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তার শ্বশুর উইটিজার নির্মমভাবে হত্যা এবং কন্যার শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ গ্রহণে মুসলমানদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ রকম অরাজক পরিস্থিতি মুসলমানদের স্পেন অভিযানে উৎসাহিত করে।
আরবদের এ অভিযানে ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়- মতামত দাও

উত্তর

মুসলিম বিজয় সমগ্র স্পেনে রাজনৈতিক ঐক্য, সংহতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে, মুসলিম শাসনের প্রভাবে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সাধারণ প্রজাদের করভার লাঘব হয়। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে ইউরোপে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না, সমাজের নিম্নশ্রেণি ও দাসদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল না, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ছিল না। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্পচর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। সমগ্র ইউরোপ ছিল অশান্তিময় ও কলুষিত। স্পেনে মুসলিম বিজয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিম শাসনামলে স্পেনে ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে। ক্রীতদাসদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। মুসলিম শাসিত স্পেনে শিল্পকলা, স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখে। স্পেনীয়রা মুসলমানদের কাছ থেকে এসব আত্মস্থ করে ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইউরোপের অন্যান্য জাতিও তাদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা লাভ করতে থাকে। পি. কে. হিস্ট্রি যথার্থই বলেছেন যে, "মধ্যযুগীয় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেন একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।" পরিশেষে বলা যায়, স্পেন অভিযানের ফলে উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনসহ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে সমগ্র ইউরোপ আলোকিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসলামপুর একটি জনবহুল এলাকা। এখানকার জনগণের প্রায় সবাই অশিক্ষিত। শিক্ষার অভাবে তাদের সামাজিক জীবন খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। এ গ্রামেরই শিক্ষিত সন্তান জারিফ গ্রামের উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি গ্রামে স্কুল-পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, মসজিদ প্রভৃতি স্থাপনে অবদান রাখেন। তারই। প্রচেষ্টায় গ্রামটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তার বংশধরগণও এর ধারাবাহিকতায় এলাকার। উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন।
জাবালুত তারিক কী?

উত্তর

সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন অভিযানকালে যে পাহাড়ে অবতরণ করেছিলেন তাকে জাবালুত তারিক বা জিব্রাল্টার বলা হয়।
দ্বিতীয় আব্দুর রহমান মেরিদার বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন?

উত্তর

অকিটেন অধিপতি লুইসের উস্কানিতে মাহমুদ বিন আব্দুল জব্বার ও সুলায়মান বিন মারাতিনের নেতৃত্বে 'অধিক কর নির্ধারণ ও কর সংগ্রাহকের নির্যাতন' প্রতিরোধের দাবিতে প্রায় ৪০ হাজার ইহুদি ও খ্রিস্টান মেরিদাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আব্দুর রহমান তাদের পরাজিত ও ৭ হাজার বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ বিদ্রোহ দমন করেন।
উদ্দীপকের ইসলামপুরের মতো স্পেনের কোন এলাকায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইসলামপুরের মতো স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। প্রথম আব্দুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা নগরী ছিল সমসাময়িক যুগের জগতমনি, অনুপম ঐশ্বর্যশালী এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শহর। স্পেনের উমাইয়া শাসনামলে এটি শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের সময় কর্ডোভা নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়। তিনি কর্ডোভা নগরীকে দ্বিতীয় বাগদাদ নগরী করার মানসে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। তার সময়ে কর্ডোভার লাইব্রেরি। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। কর্ডোভাকে। দ্বিতীয় বাগদাদে রূপদান করার জন্য অসংখ্য মসজিদ, প্রাসাদ, উদ্যান, সড়ক ও সেতু নির্মাণ করে একে স্পেনের সভ্যতা ও কৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। তৃতীয় আব্দুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এসময় কর্ডোভায় ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০ হাম্মামখানা নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া গোটা ইউরোপে যখন লেখাপড়ার প্রচলন শুরু হয়নি, তখন স্পেনের অধিকাংশ মুসলমান লেখাপড়া জানত। স্পেনে উমাইয়া শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাষা ও সাহিত্যর্চচা শুরু হয়। দর্শনশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোল, গণিত ও রসায়নশাস্ত্র প্রভৃতির বিকাশ ঘটে। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার নৈপুণ্যে একে আধুনিক নগরীতে পরিণত করা হয়। মূলত স্পেনে উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে কর্ডোভায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে স্পেনকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করে।
তুমি কি মনে কর তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের উক্ত এলাকায়। স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি- উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ ও সম্মোহনী নেতৃত্বের মাধ্যমে তৎকালীন ইউরোপের স্পেনের কর্ডোভায় স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার অগ্রগতিতে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজজোহরা প্রাসাদ, গ্রানাডার আল হামরা প্রাসাদ, সেভিলের জিরাল্ডা মিনার নির্মাণ করেন তারা।এছাড়াও তারা সমগ্র স্পেনে অসংখ্য প্রাসাদ, মসজিদ, হাম্মামখানা, জলাধার, মাদ্রাসা নির্মাণ করে স্থাপত্য শিল্পে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সোনা-রূপা, তামা ও পিতলের তৈজসপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি ছাড়াও মৃৎপাত্র, কাচের ঝাড়বাতি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল। এখানে কার্পাস ও লিলেন জাতীয় পোশাকের প্রবর্তন লক্ষ করা যায়। এসময় হাতির দাঁতের উপর নকশা বা শিল্পসামগ্রী তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত, হয়। এছাড়াও লোকজ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। স্পেনে ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কুফি, নামক, তাওকি, তাপির, নয়াতাপিক রীতিতে হরফ খোদাই করা হতো। সংগীত যন্ত্র এবং বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সংগীত চর্চা করা হতো। এছাড়াও চামড়ার ওপর নকশা করে মূল্যবান কারুশিল্পের বিকাশও লক্ষ করা যায়। মূলত উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্ডোভা তথা স্পেন সমৃদ্ধিশালী ভূখন্ডে পরিণত হয়। তৎকালীন ইউরোপে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে স্পেন ছিল অনুকরণীয়। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সভ্যতার ও সংস্কৃতির বিকাশের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসলামপুর একটি জনবহুল এলাকা। এখানকার জনগণের প্রায় সবাই অশিক্ষিত। শিক্ষার অভাবে তাদের সামাজিক জীবন খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। এ গ্রামেরই শিক্ষিত সন্তান জারিফ গ্রামের উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি গ্রামে স্কুল-পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, মসজিদ প্রভৃতি স্থাপনে অবদান রাখেন। তারই। প্রচেষ্টায় গ্রামটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তার বংশধরগণও এর ধারাবাহিকতায় এলাকার। উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন।
জাবালুত তারিক কী?

উত্তর

সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন অভিযানকালে যে পাহাড়ে অবতরণ করেছিলেন তাকে জাবালুত তারিক বা জিব্রাল্টার বলা হয়।
দ্বিতীয় আব্দুর রহমান মেরিদার বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন?

উত্তর

অকিটেন অধিপতি লুইসের উস্কানিতে মাহমুদ বিন আব্দুল জব্বার ও সুলায়মান বিন মারাতিনের নেতৃত্বে 'অধিক কর নির্ধারণ ও কর সংগ্রাহকের নির্যাতন' প্রতিরোধের দাবিতে প্রায় ৪০ হাজার ইহুদি ও খ্রিস্টান মেরিদাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আব্দুর রহমান তাদের পরাজিত ও ৭ হাজার বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ বিদ্রোহ দমন করেন।
উদ্দীপকের ইসলামপুরের মতো স্পেনের কোন এলাকায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইসলামপুরের মতো স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। প্রথম আব্দুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা নগরী ছিল সমসাময়িক যুগের জগতমনি, অনুপম ঐশ্বর্যশালী এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শহর। স্পেনের উমাইয়া শাসনামলে এটি শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের সময় কর্ডোভা নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়। তিনি কর্ডোভা নগরীকে দ্বিতীয় বাগদাদ নগরী করার মানসে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। তার সময়ে কর্ডোভার লাইব্রেরি। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। কর্ডোভাকে। দ্বিতীয় বাগদাদে রূপদান করার জন্য অসংখ্য মসজিদ, প্রাসাদ, উদ্যান, সড়ক ও সেতু নির্মাণ করে একে স্পেনের সভ্যতা ও কৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। তৃতীয় আব্দুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এসময় কর্ডোভায় ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০ হাম্মামখানা নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া গোটা ইউরোপে যখন লেখাপড়ার প্রচলন শুরু হয়নি, তখন স্পেনের অধিকাংশ মুসলমান লেখাপড়া জানত। স্পেনে উমাইয়া শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাষা ও সাহিত্যর্চচা শুরু হয়। দর্শনশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোল, গণিত ও রসায়নশাস্ত্র প্রভৃতির বিকাশ ঘটে। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার নৈপুণ্যে একে আধুনিক নগরীতে পরিণত করা হয়। মূলত স্পেনে উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে কর্ডোভায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে স্পেনকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করে।
তুমি কি মনে কর তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের উক্ত এলাকায়। স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি- উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ ও সম্মোহনী নেতৃত্বের মাধ্যমে তৎকালীন ইউরোপের স্পেনের কর্ডোভায় স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার অগ্রগতিতে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজজোহরা প্রাসাদ, গ্রানাডার আল হামরা প্রাসাদ, সেভিলের জিরাল্ডা মিনার নির্মাণ করেন তারা।এছাড়াও তারা সমগ্র স্পেনে অসংখ্য প্রাসাদ, মসজিদ, হাম্মামখানা, জলাধার, মাদ্রাসা নির্মাণ করে স্থাপত্য শিল্পে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সোনা-রূপা, তামা ও পিতলের তৈজসপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি ছাড়াও মৃৎপাত্র, কাচের ঝাড়বাতি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল। এখানে কার্পাস ও লিলেন জাতীয় পোশাকের প্রবর্তন লক্ষ করা যায়। এসময় হাতির দাঁতের উপর নকশা বা শিল্পসামগ্রী তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত, হয়। এছাড়াও লোকজ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। স্পেনে ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কুফি, নামক, তাওকি, তাপির, নয়াতাপিক রীতিতে হরফ খোদাই করা হতো। সংগীত যন্ত্র এবং বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সংগীত চর্চা করা হতো। এছাড়াও চামড়ার ওপর নকশা করে মূল্যবান কারুশিল্পের বিকাশও লক্ষ করা যায়। মূলত উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্ডোভা তথা স্পেন সমৃদ্ধিশালী ভূখন্ডে পরিণত হয়। তৎকালীন ইউরোপে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে স্পেন ছিল অনুকরণীয়। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সভ্যতার ও সংস্কৃতির বিকাশের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভোলানাথপুরের ফরাজি বংশের জমিদার জামাল ফরাজি চৌধুরী বংশের রায়হান চৌধুরীর নিকট এক সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে জমিদারি হারান। বিজয়ী রায়হান চৌধুরী ফরাজি বংশের লোকদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালান। তার অত্যাচার থেকে কোনোক্রমে রেহাই পেয়ে ফরাজি বংশের সন্তান জাওয়াদ ফরাজি মাতুলালয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ভাগ্যান্বেষণ করে পার্শ্ববর্তী ঝোপখালীতে তিনি একটি স্বাধীন জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
কোন মুসলিম শাসকের আমলে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?

উত্তর

উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।
তারিক বিন জিয়াদ ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত কেন?

উত্তর

খলিফা আল ওয়ালিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় শাসক ও সেনাপতি ছিলেন মুসা বিন নুসাইর। তিনি ৭১১ খ্রিস্টাব্দে বীরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে স্পেনে একটা বাহিনী প্রেরণ করে। মাত্র ১২,০০০ সৈন্যসহ তারিক বিন জিয়াদ জুলিয়ানের চারটি নৌযানে অবতরণ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারিক স্পেনের রাজা রডারিকের ১,০০,০০০ সৈন্যের মোকাবিলা করেন। ওয়াদী আল বেকার নিকটবর্তী সারিসে মুসলিম ও রডারিকের গথিক বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। ইতিহাসে এটাই 'ওয়াদি আল, বেকার যুদ্ধ' নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে রডারিক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। ফলে স্পেনে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। আর এ কারণেই তারিক বিন জিয়াদ ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত।
উদ্দীপকে জাওয়াদ ফরাজির সাথে স্পেনের কোন উমাইয়া শাসকের মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে জাওয়াদ ফরাজির সাথে স্পেনের উমাইয়া শাসক আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের সাথে মিল রয়েছে। আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ যখন উমাইয়া বংশকে ধ্বংস করার জন্য উমাইয়াদের হত্যা শুরু করে, তখন সৌভাগ্যবশত প্রথম আব্দুর রহমান প্রাণে বেঁচে যান এবং স্পেনে গিয়ে বিপুল সমর্থন নিয়ে স্পেনের শাসনকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্পেনের রাজধানী কর্ডোভা দখল করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে জয়লাভ করে তিনি সম্পূর্ণ স্পেনের অধিকারী হন। তিনি সকল বাধা বিপত্তির অবসান ঘটিয়ে স্পেনে উমাইয়া বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রথম আব্দুর রহমান কর্ডোভাকে মনোরম অট্টালিকা ও উদ্যানে সুশোভিত করেছিলেন। মোট ৩২ বছর স্পেনে রাজত্ব করে তিনি পরলোক গমন করেন। আব্দুর রহমান স্পেনে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়ও একে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সুশাসনে মনোযোগী হন। তিনি ছিলেন প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি শাসনকার্যে নানারকম উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ, সামরিক বাহিনী সুসংগঠিতকরণ, বিভিন্ন জনহিতকর কার্যাবলি সম্পাদনের, মাধ্যমে স্পেনে মুসলিম শাসনের ভিত সুদৃঢ় হয়।
উক্ত শাসকের কৃতিত্ব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা উমাইয়া শাসক আব্দুর রহমান আদ দাখিলের শাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উক্ত শাসক বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী। স্পেনের উমাইয়া শাসকদের মধ্যে আবদুর রহমান আদ-দাখিল নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা সুদক্ষ ও গুণবান ছিলেন। তিনি রাজ্যকে গোলযোগপূর্ণ কলহে ছিন্নবিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন বংশের সামন্ত সরদারগণের মধ্যে বিভক্ত, অরাজকতা, অন্তর্বিবাদে বিপর্যস্ত এবং উত্তরাঞ্চলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সমূহের বিরামহীন আক্রমণে বিপন্ন দেখে অসংখ্য বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তিনি আন্দালুসিয়াকে রক্ষা করে একে পূর্বাপেক্ষা বৃহদায়তন ও শক্তিশালী করেছিলেন। এরূপ অভ্যন্তরীণ বিপদ থেকে স্পেনকে মুক্ত করে তিনি বহিঃশত্রুর দিকে দৃষ্টি আরোপ করেন। উত্তরাঞ্চলের খ্রিস্টানরা তার রাজ্য বারবার আক্রমণ করলে তিনি তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে তাদের শক্তি খর্ব করেন। একারণে তাকে স্পেনের রক্ষাকারী বলা হয়। তার শাসনামলে তিনি নলযোগে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে কৃষিকার্যের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। তাছাড়াও শিল্পকলা, ব্যবসায় বাণিজ্যেও তার কৃতিত্ব লক্ষণীয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল। এসময় বণিক ও পথিকগণ সামান্যতম আশঙ্কা ব্যতীত নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারত। সমসাময়িক ঐতিহাসিকদের বিবরণী থেকে জানা যায়, জনসাধারণের প্রায় সকলেই না হেঁটে ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করত। তার শাসনকালে আর্থিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি দেখা দেয়। হিস্ট্রির মতে, আব্দুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতাই মুসলিম স্পেন বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র স্কুল, পাঠাগার ও এতিমখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তার রাজত্বকালে স্থাপত্য শিল্পেরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এসময় রাজধানী কর্ডোভাতে ২১টি মাদ্রাসা, ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০টি হাম্মামখানা ছিল। তাই বলা যায়, উমাইয়া আমির আবদুর রহমান আদ-দাখিল স্পেনের উন্নয়নে যথেষ্ট কৃতিত্বের দাবিদার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভোলানাথপুরের ফরাজি বংশের জমিদার জামাল ফরাজি চৌধুরী বংশের রায়হান চৌধুরীর নিকট এক সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে জমিদারি হারান। বিজয়ী রায়হান চৌধুরী ফরাজি বংশের লোকদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালান। তার অত্যাচার থেকে কোনোক্রমে রেহাই পেয়ে ফরাজি বংশের সন্তান জাওয়াদ ফরাজি মাতুলালয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ভাগ্যান্বেষণ করে পার্শ্ববর্তী ঝোপখালীতে তিনি একটি স্বাধীন জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
কোন মুসলিম শাসকের আমলে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?

উত্তর

উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।
তারিক বিন জিয়াদ ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত কেন?

উত্তর

খলিফা আল ওয়ালিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় শাসক ও সেনাপতি ছিলেন মুসা বিন নুসাইর। তিনি ৭১১ খ্রিস্টাব্দে বীরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে স্পেনে একটা বাহিনী প্রেরণ করে। মাত্র ১২,০০০ সৈন্যসহ তারিক বিন জিয়াদ জুলিয়ানের চারটি নৌযানে অবতরণ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারিক স্পেনের রাজা রডারিকের ১,০০,০০০ সৈন্যের মোকাবিলা করেন। ওয়াদী আল বেকার নিকটবর্তী সারিসে মুসলিম ও রডারিকের গথিক বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। ইতিহাসে এটাই 'ওয়াদি আল, বেকার যুদ্ধ' নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে রডারিক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। ফলে স্পেনে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। আর এ কারণেই তারিক বিন জিয়াদ ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত।
উদ্দীপকে জাওয়াদ ফরাজির সাথে স্পেনের কোন উমাইয়া শাসকের মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে জাওয়াদ ফরাজির সাথে স্পেনের উমাইয়া শাসক আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের সাথে মিল রয়েছে। আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ যখন উমাইয়া বংশকে ধ্বংস করার জন্য উমাইয়াদের হত্যা শুরু করে, তখন সৌভাগ্যবশত প্রথম আব্দুর রহমান প্রাণে বেঁচে যান এবং স্পেনে গিয়ে বিপুল সমর্থন নিয়ে স্পেনের শাসনকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্পেনের রাজধানী কর্ডোভা দখল করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে জয়লাভ করে তিনি সম্পূর্ণ স্পেনের অধিকারী হন। তিনি সকল বাধা বিপত্তির অবসান ঘটিয়ে স্পেনে উমাইয়া বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রথম আব্দুর রহমান কর্ডোভাকে মনোরম অট্টালিকা ও উদ্যানে সুশোভিত করেছিলেন। মোট ৩২ বছর স্পেনে রাজত্ব করে তিনি পরলোক গমন করেন। আব্দুর রহমান স্পেনে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়ও একে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সুশাসনে মনোযোগী হন। তিনি ছিলেন প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি শাসনকার্যে নানারকম উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ, সামরিক বাহিনী সুসংগঠিতকরণ, বিভিন্ন জনহিতকর কার্যাবলি সম্পাদনের, মাধ্যমে স্পেনে মুসলিম শাসনের ভিত সুদৃঢ় হয়।
উক্ত শাসকের কৃতিত্ব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা উমাইয়া শাসক আব্দুর রহমান আদ দাখিলের শাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উক্ত শাসক বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী। স্পেনের উমাইয়া শাসকদের মধ্যে আবদুর রহমান আদ-দাখিল নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা সুদক্ষ ও গুণবান ছিলেন। তিনি রাজ্যকে গোলযোগপূর্ণ কলহে ছিন্নবিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন বংশের সামন্ত সরদারগণের মধ্যে বিভক্ত, অরাজকতা, অন্তর্বিবাদে বিপর্যস্ত এবং উত্তরাঞ্চলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সমূহের বিরামহীন আক্রমণে বিপন্ন দেখে অসংখ্য বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তিনি আন্দালুসিয়াকে রক্ষা করে একে পূর্বাপেক্ষা বৃহদায়তন ও শক্তিশালী করেছিলেন। এরূপ অভ্যন্তরীণ বিপদ থেকে স্পেনকে মুক্ত করে তিনি বহিঃশত্রুর দিকে দৃষ্টি আরোপ করেন। উত্তরাঞ্চলের খ্রিস্টানরা তার রাজ্য বারবার আক্রমণ করলে তিনি তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে তাদের শক্তি খর্ব করেন। একারণে তাকে স্পেনের রক্ষাকারী বলা হয়। তার শাসনামলে তিনি নলযোগে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে কৃষিকার্যের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। তাছাড়াও শিল্পকলা, ব্যবসায় বাণিজ্যেও তার কৃতিত্ব লক্ষণীয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল। এসময় বণিক ও পথিকগণ সামান্যতম আশঙ্কা ব্যতীত নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারত। সমসাময়িক ঐতিহাসিকদের বিবরণী থেকে জানা যায়, জনসাধারণের প্রায় সকলেই না হেঁটে ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করত। তার শাসনকালে আর্থিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি দেখা দেয়। হিস্ট্রির মতে, আব্দুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতাই মুসলিম স্পেন বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র স্কুল, পাঠাগার ও এতিমখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তার রাজত্বকালে স্থাপত্য শিল্পেরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এসময় রাজধানী কর্ডোভাতে ২১টি মাদ্রাসা, ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০টি হাম্মামখানা ছিল। তাই বলা যায়, উমাইয়া আমির আবদুর রহমান আদ-দাখিল স্পেনের উন্নয়নে যথেষ্ট কৃতিত্বের দাবিদার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মুসলমানদের বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতীয় সমাজ ছিল বহুধাবিভক্ত। শ্রেণিভেদ প্রথা এ অঞ্চলের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। রাজনৈতিকভাবেও এ অঞ্চল ছিল বিশৃঙ্খল। এ অঞ্চলটি ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো একতা ছিল না। সমাজে শূদ্রদের কোনো অধিকার ছিল না। আর গীতা পাঠের ক্ষেত্রেও শূদ্ররা বৈষম্যের শিকার হতো। তারা নির্দিষ্ট কিছু কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে পারত না। এ অবস্থায় মুসলমানদের সাম্যের বাণী নিম্ন শ্রেণির ভারতীয়দের খুব সহজেই। আকর্ষণ করে। এছাড়া সিন্ধুর রাজা দাহিরের কুশাসন ভারতে মুসলিম অভিযানের সাফল্যকে ত্বরান্বিত করেছিল।
'আদ দাখিল' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'আদ দাখিল' শব্দের অর্থ প্রবেশকারী।
আবদুর রহমান আদ দাখিল কীভাবে ক্ষমতা দখল করেন?

উত্তর

আব্বাসি খিলাফত সম্পূর্ণরূপে কণ্টকমুক্ত করার লক্ষ্যে আস- সাফফাহ উমাইয়া নিধন নীতি গ্রহণ করেন। এ হত্যাযজ্ঞ হতে আবদুর রহমান প্রাণে বেঁচে যান। তিনি ছদ্মবেশে দামেস্ক হতে পলায়ন করে প্রথমে ফোরাত নদীর তীরবর্তী শহর 'রাহ'-তে আত্মগোপন করেন। অতঃপর সিরিয়া, প্যালেস্টাইন হয়ে উত্তর আফ্রিকায় গমন করেন। হিমারীয়রা স্পেনের তৎকালীন মুদারীয় শাসনকর্তা ইউসুফের কুশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানালে আবদুর রহমান আদ দাখিল ৭৫৫। খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেন উপকূলে অবতরণ করেন এবং ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে স্পেন দখল করে স্বাধীন আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের সাথে মুসলমানদের আক্রমণের প্রাক্কালের স্পেনীয় ৩ সমাজের মিল কোথায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বৈষম্যের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে মুসলমানদের 'আক্রমণের প্রাক্কালে স্পেনের সমাজের মিল রয়েছে। মুসলমানদের বিজয়ের পূর্বে স্পেনের সামাজিক অবস্থা ছিল বৈষম্যমূলক। তখন স্পেনের সমাজ অভিজাত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণি ছিল করভারে নিমজ্জিত এবং দুর্দশাগ্রস্ত। অভিজাত শ্রেণির সাথে তাদের অর্থনৈতিক ব্যবধান ছিল পাহাড়সম। নিম্ন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ক্রীতদাস ও ভূমিদাসদের ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা ছিল না। এমনকি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও মানুষের স্বাধীনতা ছিল না। উদ্দীপকেও এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানদের ভারত বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতীয় সমাজ ছিল বহুধাবিভক্ত। সমাজে শূদ্রদের কোনো অর্থনৈতিক অধিকার ছিল না। অপবিত্র গণ্য করা হতো বলে তাদেরকে ধর্মগ্রন্থ গীতা পাঠ করতে দেওয়া হতো না। অভিজাত সম্প্রদায় আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করত। কৃষক, কারিগর, বণিকদের নিয়ে গঠিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে সব ধরনের কর দিতে হতো। কৃষকদের নিজস্ব কোনো জমি ছিল না এবং ক্রীতদাসদের মানুষ বলে গণ্য করা হতো না। এছাড়া তখন স্পেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল এবং শাসনকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও কলহ লেতে থাকত। খ্রিষ্টধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হতো না। ইহুদিদেরকে হয় খ্রিস্টান না হয় দাস হয়ে জীবনযাপন করতে হতো। আর এসব দিক দিয়েই উদ্দীপকের সাথে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনীয় সমাজের সাদৃশ্য রচিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অনুরূপ পরিস্থিতিই স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত করেছিল বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের মতো পরিস্থিতি স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত। করেছিল। বক্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, মুসলমানদের বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, ধর্মীয় ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রভৃতি বিদ্যমান ছিল। এরূপ পরিস্থিতিতে ইসলামের সাম্যের বাণী ভারতীয়দের খুব সহজেই আকর্ষণ করেছিল। এছাড়া সিন্ধুর রাজা দাহিরের কুশাসন ভারতে মুসলিম অভিযানের সাফল্যকে ত্বরান্বিত করেছিল। অনুরূপভাবে স্পেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং রাজা রডারিকের কুশাসন স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত করেছিল। স্পেনে গথিক রাজা রডারিকের কুশাসনে সাধারণ মানুষ, ক্রীতদাস, ভূমিদাস এবং ইহুদিরা দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এসব নির্যাতিত মানুষ উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের উত্তর আফ্রিকার শাসনকর্তা মুসা ইবনে নুসাইরকে স্পেন জয় করতে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে। তাছাড়া স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান ছিলেন সিংহাসনচ্যুত রাজা উইটিজার জামাতা। রডারিক উইটিজাকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিল। কাউন্ট জুলিয়ান প্রথানুযায়ী তার সুন্দরী কন্যা ফ্লোরিডাকে রাজকীয় আদব-কায়দা শেখানোর জন্য রাজ দরবারে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু রডারিক তার শ্লীলতাহানি করে। শ্বশুর হত্যা ও কন্যার অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কাউন্ট জুলিয়ান মুসা ইবনে নুসাইরকে স্পেন আক্রমণের জন্য আহ্বান জানান, যা স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত করে। উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, স্পেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক দৈন্যদশা এবং রাজা রডারিকের কুশাসন স্পেনে মুসলমানদের বিজয় অভিযানকে প্রভাবিত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মুসলমানদের বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতীয় সমাজ ছিল বহুধাবিভক্ত। শ্রেণিভেদ প্রথা এ অঞ্চলের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। রাজনৈতিকভাবেও এ অঞ্চল ছিল বিশৃঙ্খল। এ অঞ্চলটি ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো একতা ছিল না। সমাজে শূদ্রদের কোনো অধিকার ছিল না। আর গীতা পাঠের ক্ষেত্রেও শূদ্ররা বৈষম্যের শিকার হতো। তারা নির্দিষ্ট কিছু কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে পারত না। এ অবস্থায় মুসলমানদের সাম্যের বাণী নিম্ন শ্রেণির ভারতীয়দের খুব সহজেই। আকর্ষণ করে। এছাড়া সিন্ধুর রাজা দাহিরের কুশাসন ভারতে মুসলিম অভিযানের সাফল্যকে ত্বরান্বিত করেছিল।
'আদ দাখিল' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'আদ দাখিল' শব্দের অর্থ প্রবেশকারী।
আবদুর রহমান আদ দাখিল কীভাবে ক্ষমতা দখল করেন?

উত্তর

আব্বাসি খিলাফত সম্পূর্ণরূপে কণ্টকমুক্ত করার লক্ষ্যে আস- সাফফাহ উমাইয়া নিধন নীতি গ্রহণ করেন। এ হত্যাযজ্ঞ হতে আবদুর রহমান প্রাণে বেঁচে যান। তিনি ছদ্মবেশে দামেস্ক হতে পলায়ন করে প্রথমে ফোরাত নদীর তীরবর্তী শহর 'রাহ'-তে আত্মগোপন করেন। অতঃপর সিরিয়া, প্যালেস্টাইন হয়ে উত্তর আফ্রিকায় গমন করেন। হিমারীয়রা স্পেনের তৎকালীন মুদারীয় শাসনকর্তা ইউসুফের কুশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানালে আবদুর রহমান আদ দাখিল ৭৫৫। খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেন উপকূলে অবতরণ করেন এবং ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে স্পেন দখল করে স্বাধীন আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের সাথে মুসলমানদের আক্রমণের প্রাক্কালের স্পেনীয় ৩ সমাজের মিল কোথায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বৈষম্যের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে মুসলমানদের 'আক্রমণের প্রাক্কালে স্পেনের সমাজের মিল রয়েছে। মুসলমানদের বিজয়ের পূর্বে স্পেনের সামাজিক অবস্থা ছিল বৈষম্যমূলক। তখন স্পেনের সমাজ অভিজাত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণি ছিল করভারে নিমজ্জিত এবং দুর্দশাগ্রস্ত। অভিজাত শ্রেণির সাথে তাদের অর্থনৈতিক ব্যবধান ছিল পাহাড়সম। নিম্ন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ক্রীতদাস ও ভূমিদাসদের ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা ছিল না। এমনকি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও মানুষের স্বাধীনতা ছিল না। উদ্দীপকেও এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানদের ভারত বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতীয় সমাজ ছিল বহুধাবিভক্ত। সমাজে শূদ্রদের কোনো অর্থনৈতিক অধিকার ছিল না। অপবিত্র গণ্য করা হতো বলে তাদেরকে ধর্মগ্রন্থ গীতা পাঠ করতে দেওয়া হতো না। অভিজাত সম্প্রদায় আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করত। কৃষক, কারিগর, বণিকদের নিয়ে গঠিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে সব ধরনের কর দিতে হতো। কৃষকদের নিজস্ব কোনো জমি ছিল না এবং ক্রীতদাসদের মানুষ বলে গণ্য করা হতো না। এছাড়া তখন স্পেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল এবং শাসনকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও কলহ লেতে থাকত। খ্রিষ্টধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হতো না। ইহুদিদেরকে হয় খ্রিস্টান না হয় দাস হয়ে জীবনযাপন করতে হতো। আর এসব দিক দিয়েই উদ্দীপকের সাথে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনীয় সমাজের সাদৃশ্য রচিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অনুরূপ পরিস্থিতিই স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত করেছিল বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের মতো পরিস্থিতি স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত। করেছিল। বক্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, মুসলমানদের বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, ধর্মীয় ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রভৃতি বিদ্যমান ছিল। এরূপ পরিস্থিতিতে ইসলামের সাম্যের বাণী ভারতীয়দের খুব সহজেই আকর্ষণ করেছিল। এছাড়া সিন্ধুর রাজা দাহিরের কুশাসন ভারতে মুসলিম অভিযানের সাফল্যকে ত্বরান্বিত করেছিল। অনুরূপভাবে স্পেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং রাজা রডারিকের কুশাসন স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত করেছিল। স্পেনে গথিক রাজা রডারিকের কুশাসনে সাধারণ মানুষ, ক্রীতদাস, ভূমিদাস এবং ইহুদিরা দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এসব নির্যাতিত মানুষ উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের উত্তর আফ্রিকার শাসনকর্তা মুসা ইবনে নুসাইরকে স্পেন জয় করতে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে। তাছাড়া স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান ছিলেন সিংহাসনচ্যুত রাজা উইটিজার জামাতা। রডারিক উইটিজাকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিল। কাউন্ট জুলিয়ান প্রথানুযায়ী তার সুন্দরী কন্যা ফ্লোরিডাকে রাজকীয় আদব-কায়দা শেখানোর জন্য রাজ দরবারে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু রডারিক তার শ্লীলতাহানি করে। শ্বশুর হত্যা ও কন্যার অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কাউন্ট জুলিয়ান মুসা ইবনে নুসাইরকে স্পেন আক্রমণের জন্য আহ্বান জানান, যা স্পেনে মুসলিম অভিযানকে ত্বরান্বিত করে। উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, স্পেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক দৈন্যদশা এবং রাজা রডারিকের কুশাসন স্পেনে মুসলমানদের বিজয় অভিযানকে প্রভাবিত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

উজ্জ্বল তার বাবার মুখে ইতিহাসের এক আমিরের নতুন আমিরাত প্রতিষ্ঠার গল্প শুনছিল। নতুন আমির অল্প বয়সে পিতৃ সিংহাসন হতে বঞ্চিত হয়ে রাজপরিবারের অন্যদের মৃত্যু স্বচোখে অবলোকন করে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নদী পার হয়ে পালিয়ে যান এবং সুদীর্ঘ পাঁচ বছর যাযাবর জীবনযাপন করার পর ইউরোপ মহাদেশে একটি স্বাধীন আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। সুদীর্ঘ ৩২ বছর অতান্ত যোগ্যতার সাথে উক্ত আমিরাতের শাসনকার্য পরিচালনা করে মৃত্যুবরণ করেন।
কুরাইশদের বাজপাখি কাকে বলা হয়?

উত্তর

প্রথম আব্দুর রহমানকে কুরাইশদের বাজপাখি বলা হয়।
কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হয় কেন?

উত্তর

স্পেনে মুসলিম সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র কর্ডোভা। অনুপম সৌন্দর্যমন্ডিত এ নগরী ছিল তৎকালীন যুগের জগৎমণি। চব্বিশ মাইল দীর্ঘ এবং ছয় মাইল প্রশ্ন কর্ডোভায় দশ লক্ষ লোকের বসবাস ছিল।মসজিদ, মাদ্রাসা, স্নানাগার, বিপণি, উদ্যান, দুর্গ প্রাসাদ দ্বারা আলোকিত হওয়ায় এ কর্ডোভা নগরীকে মধ্যযুগের ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়। কর্ডোভা ছাড়া সেভিল ও গ্রানাডাও মুর সভ্যতা বিকাশে বিশেষ অবদান রাখে।
ইউরোপের কোন দেশের শাসকের ঘটনাবলি উদ্দীপকে ৩ ২ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ইউরোপের স্পেনের শাসক আব্দুর রহমান আদ দাখিলের ঘটনাবলি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ৭৫০ সালে জাবের যুদ্ধে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ানের মৃত্যু হলে আব্বাসি খলিফা আস-সাফফাহ জোরপূর্বক সিংহাসন দখল করেন। ক্ষমতা লাভের পর তিনি উমাইয়া বংশ ধ্বংস করতে এক প্রচন্ড অভিযান পরিচালনা করেন। উমাইয়া খলিফা হিসামের পৌত্র উক্ত হত্যাকাণ্ড হতে কোনোরকমে রেহাই পেয়েছিলেন। পাঁচ বছরকাল তিনি প্যালেস্টাইন, মিশর, উত্তর আফ্রিকায় নিতান্ত অসহায় অবস্থায় ঘুরে বেড়ান। এত দুর্দশার মধ্যেও তিনি একটি উমাইয়া সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তিনি তার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে মরক্কোর সিউটা নগরের দক্ষিণে এক পার্বত্য অঞ্চলে বনু নাসর গোত্রে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং স্পেনে একটি স্বাধীন রাজ্য স্থাপনের লক্ষ্যে তার দুর্দিনের সঙ্গী বদরকে স্পেনের উমাইয়া বংশীয় লোকদের নিকট প্রেরণ করে। অতঃপর ৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি স্পেনের মাটিতে পদার্পণ করেন। সেখানে তার প্রতি সমর্থনের পাল্লা ভারি হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতার ৭৫৬ সালের মাঝামাঝিতে তিনি বিনা রক্তপাতে স্পেনের দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলো দখল করেন। সময়ের আবর্তনে আব্দুর রহমান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেন এবং ৭৫৬ সালেই ইউসুফ আল কিহরিকে পরাজিত করে সমগ্র স্পেন অধিকার করেন ও স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
উক্ত শাসকের ইউরোপে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আব্দুর রহমান আদ-দাখিল অল্প বয়সেই পিতৃ সিংহাসন হতে বিতাড়িত হন এবং রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মৃত্যু নিজ চোখে অবলোকন করেন। ভাগ্যগুণে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন। অতঃপর দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি নিদারুণ কষ্টে যাযাবর জীবনযাপন করেন। কষ্ট তাকে স্বপ্ন দেখা থেকে বিরত রাখতে পারে নি। মরক্কোর সিউটা নগরের দক্ষিণে পাহাড়ি এলাকায় নবু নাসর গোত্রে আশ্রয় গ্রহণ করে সেখান থেকেই তার দুর্দিনের সঙ্গী বদরকে স্পেনে অবস্থানরত উমাইয়া বংশীয় লোকদের কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে আব্দুর রহমান স্পেনের মাটিতে পদার্পণ করেন। উবাইদুল্লাহ ও ইবনে খালিদ আব্দুর রহমানকে নিয়ে টোরস দুর্গে উপনীত হলেন। সেখানে প্রতীক্ষারত মানুষ তাকে বিপুলভাবে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। আব্দুর রহমানের সমর্থনে দলে দলে বার্বার ও হিমারীয়গণ তার পতাকাতলে সমবেত হন এবং তার সাহায্যে তিনি একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। ইউসুফ আব্দুর রহমানের আগমনের সংবাদ রাজধানী কর্ডোভায় ফিরে আসেন এবং তার সাথে সন্ধির প্রস্তাব দেন।। কিন্তু আব্দুর রহমান তার নবাগত বাহিনীসহ ইউসুফের বিরুদ্ধে যাত্রা করেন। দক্ষিণ স্পেনে আব্দুর রহমান অবতরণ করে জনগণকে নিজের প্রভাবাধীনে আনতে সক্ষম হন। ৭৫৬ সালের ৮ মার্চ তিনি আর্চিদোনার রাজধানী রিজিওতে প্রবেশ করেন। সেখানেই তাকে স্পেনের আমির। বলে ঘোষণা করা হয় এবং তার নামে খুতবা পাঠ করতে হয়। ৭৫৬। সালের মাঝামাঝিতে তিনি স্পেনের দক্ষিণ জেলাগুলোতে বিনা রক্তপাতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

উজ্জ্বল তার বাবার মুখে ইতিহাসের এক আমিরের নতুন আমিরাত প্রতিষ্ঠার গল্প শুনছিল। নতুন আমির অল্প বয়সে পিতৃ সিংহাসন হতে বঞ্চিত হয়ে রাজপরিবারের অন্যদের মৃত্যু স্বচোখে অবলোকন করে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নদী পার হয়ে পালিয়ে যান এবং সুদীর্ঘ পাঁচ বছর যাযাবর জীবনযাপন করার পর ইউরোপ মহাদেশে একটি স্বাধীন আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। সুদীর্ঘ ৩২ বছর অতান্ত যোগ্যতার সাথে উক্ত আমিরাতের শাসনকার্য পরিচালনা করে মৃত্যুবরণ করেন।
কুরাইশদের বাজপাখি কাকে বলা হয়?

উত্তর

প্রথম আব্দুর রহমানকে কুরাইশদের বাজপাখি বলা হয়।
কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হয় কেন?

উত্তর

স্পেনে মুসলিম সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র কর্ডোভা। অনুপম সৌন্দর্যমন্ডিত এ নগরী ছিল তৎকালীন যুগের জগৎমণি। চব্বিশ মাইল দীর্ঘ এবং ছয় মাইল প্রশ্ন কর্ডোভায় দশ লক্ষ লোকের বসবাস ছিল।মসজিদ, মাদ্রাসা, স্নানাগার, বিপণি, উদ্যান, দুর্গ প্রাসাদ দ্বারা আলোকিত হওয়ায় এ কর্ডোভা নগরীকে মধ্যযুগের ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়। কর্ডোভা ছাড়া সেভিল ও গ্রানাডাও মুর সভ্যতা বিকাশে বিশেষ অবদান রাখে।
ইউরোপের কোন দেশের শাসকের ঘটনাবলি উদ্দীপকে ৩ ২ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ইউরোপের স্পেনের শাসক আব্দুর রহমান আদ দাখিলের ঘটনাবলি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ৭৫০ সালে জাবের যুদ্ধে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ানের মৃত্যু হলে আব্বাসি খলিফা আস-সাফফাহ জোরপূর্বক সিংহাসন দখল করেন। ক্ষমতা লাভের পর তিনি উমাইয়া বংশ ধ্বংস করতে এক প্রচন্ড অভিযান পরিচালনা করেন। উমাইয়া খলিফা হিসামের পৌত্র উক্ত হত্যাকাণ্ড হতে কোনোরকমে রেহাই পেয়েছিলেন। পাঁচ বছরকাল তিনি প্যালেস্টাইন, মিশর, উত্তর আফ্রিকায় নিতান্ত অসহায় অবস্থায় ঘুরে বেড়ান। এত দুর্দশার মধ্যেও তিনি একটি উমাইয়া সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তিনি তার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে মরক্কোর সিউটা নগরের দক্ষিণে এক পার্বত্য অঞ্চলে বনু নাসর গোত্রে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং স্পেনে একটি স্বাধীন রাজ্য স্থাপনের লক্ষ্যে তার দুর্দিনের সঙ্গী বদরকে স্পেনের উমাইয়া বংশীয় লোকদের নিকট প্রেরণ করে। অতঃপর ৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি স্পেনের মাটিতে পদার্পণ করেন। সেখানে তার প্রতি সমর্থনের পাল্লা ভারি হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতার ৭৫৬ সালের মাঝামাঝিতে তিনি বিনা রক্তপাতে স্পেনের দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলো দখল করেন। সময়ের আবর্তনে আব্দুর রহমান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেন এবং ৭৫৬ সালেই ইউসুফ আল কিহরিকে পরাজিত করে সমগ্র স্পেন অধিকার করেন ও স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
উক্ত শাসকের ইউরোপে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আব্দুর রহমান আদ-দাখিল অল্প বয়সেই পিতৃ সিংহাসন হতে বিতাড়িত হন এবং রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মৃত্যু নিজ চোখে অবলোকন করেন। ভাগ্যগুণে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন। অতঃপর দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি নিদারুণ কষ্টে যাযাবর জীবনযাপন করেন। কষ্ট তাকে স্বপ্ন দেখা থেকে বিরত রাখতে পারে নি। মরক্কোর সিউটা নগরের দক্ষিণে পাহাড়ি এলাকায় নবু নাসর গোত্রে আশ্রয় গ্রহণ করে সেখান থেকেই তার দুর্দিনের সঙ্গী বদরকে স্পেনে অবস্থানরত উমাইয়া বংশীয় লোকদের কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে আব্দুর রহমান স্পেনের মাটিতে পদার্পণ করেন। উবাইদুল্লাহ ও ইবনে খালিদ আব্দুর রহমানকে নিয়ে টোরস দুর্গে উপনীত হলেন। সেখানে প্রতীক্ষারত মানুষ তাকে বিপুলভাবে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। আব্দুর রহমানের সমর্থনে দলে দলে বার্বার ও হিমারীয়গণ তার পতাকাতলে সমবেত হন এবং তার সাহায্যে তিনি একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। ইউসুফ আব্দুর রহমানের আগমনের সংবাদ রাজধানী কর্ডোভায় ফিরে আসেন এবং তার সাথে সন্ধির প্রস্তাব দেন।। কিন্তু আব্দুর রহমান তার নবাগত বাহিনীসহ ইউসুফের বিরুদ্ধে যাত্রা করেন। দক্ষিণ স্পেনে আব্দুর রহমান অবতরণ করে জনগণকে নিজের প্রভাবাধীনে আনতে সক্ষম হন। ৭৫৬ সালের ৮ মার্চ তিনি আর্চিদোনার রাজধানী রিজিওতে প্রবেশ করেন। সেখানেই তাকে স্পেনের আমির। বলে ঘোষণা করা হয় এবং তার নামে খুতবা পাঠ করতে হয়। ৭৫৬। সালের মাঝামাঝিতে তিনি স্পেনের দক্ষিণ জেলাগুলোতে বিনা রক্তপাতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো