HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশে রেলভ্রমণ করছিল। সে পাশের যাত্রীর কাছে শুনতে পেল সেই দেশটি এক সময় মুসলমানরা শাসন করত। যখন মুসলমানরা দেশটি শাসন করতে এল এর পূর্বমুহূর্তে গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কলহ দেশটির শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়। দেশটির তখনকার রাজধানী ছিল টলেডো। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসন স্বৈরাচারী ছিল বলে একজন শাসক সেই দেশটিতে মুসলমানদের অভিযানের আমন্ত্রণ জানায়।
ক
প্রথম হাকাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর
প্রথম হাকাম মৃত্যুবরণ করেন ৮২২ খ্রিস্টাব্দে।
খ
ধর্মান্ধ খ্রিস্টানদের ইসলাম ধর্মের প্রতি যতটা বিদ্বেষ ছিল তার চেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছিল আরবীয়করণের প্রতি- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
মুসলিম বিজয়ের পর থেকে স্পেনীয় খ্রিস্টানরা আরবদের সুশাসন ও উন্নত জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে আরবীয় ভাবধারা, রীতিনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুসারী হয়। তারা নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৈন্যতা সম্বন্দ্বে ওয়াকিবহাল ছিল এবং বিকাশমান আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে, ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামপন্থি না হলেও রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে আরবীয় হয়ে গিয়েছিল। ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানরা সব দিক থেকে আরবীয়করণের ফলে ভীত হয়ে পড়ে। তারা ইসলাম ধর্মের চেয়ে আরবীয়করণের প্রতি বেশি বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
গ
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।
উত্তর
জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশ স্পেনে রেল ভ্রমণ করেছিল। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এ সংকটের একটি কারণ ছিল অনুন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং কৃষকরা আদিম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করত। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল না থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় শিল্পকারখানার প্রতি তেমন একটা নজর দেওয়া হয়নি। এসময় জার্মান বার্বাররা ইউরোপের বিভিন্ন শহর, নগর, বন্দর, লোকালয় আক্রমণ করলে তা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ইউরোপের যে ব্যবসায় বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের ব্যবসায়িক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্পেনেও।
তাছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে শাসকরাও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। ফলে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করে।
ঘ
জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশটিতে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল, যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট- মতামত প্রদান কর।
উত্তর
জিন্নাহর ভ্রমণকৃত ইউরোপের দেশটি হলো স্পেন। প্রাক-ইসলামি যুগে স্পেনে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল। তা হলো- ১. সুবিধাভোগী অভিজাত সম্প্রদায়; ২. মধ্যবিত্ত ভূস্বামীবৃন্দ এবং ৩. ক্রীতদাস শ্রেণি।
প্রথম শ্রেণিভুক্ত সুবিধা ভোগকারীদের মধ্যে ছিল- রাজন্যবর্গ, অমাত্যবর্গ, ধর্মযাজক ও সামন্তরাজাগণ। স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, ক্ষমতালোভী সামন্ত রাজাগণ, বিলাসপ্রিয় অভিজাতশ্রেণি ও সুবিধা ভোগকারী পুরোহিতবর্গ স্পেনে নৈরাজ্য ও শোষণ দ্বারা সামাজিক অরাজকতা সৃষ্টি করে। পুরোহিতরা ছিল প্রচুর সম্পদের অধিকারী ও বিলাসব্যসনে ব্যস্ত। তাদের অধীনে চার্চে হাজার হাজার পরিচারিকা থাকত। রাজাসহ সবাইকে পুরোহিতদের ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হতো।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল মধ্যবিত্ত ভূস্বামীগণ। তারা রাজাকে জমির বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ খাজনা প্রদান করত। তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং বিলাসব্যসনে দিন যাপন করত। তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। ভূমিদাসরা ভূস্বামীদের জমিতে বেগার খাটত; বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প পরিমাণ উৎপাদিত ফসল পেত। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি গোষ্ঠী ছিল ক্রীতদাস। হাট-বাজারে পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করা হতো।
এদেরও কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তিনটি সামাজিক স্তর বিদ্যমান ছিল স্পেনে। এ তিনটি সামাজিক স্তরের মধ্যে প্রকট বৈষম্য বিরাজ করত।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো