Chapter 6 : স্পেনে উমাইয়া শাসন (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 6 : স্পেনে উমাইয়া শাসন (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৬১

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশে রেলভ্রমণ করছিল। সে পাশের যাত্রীর কাছে শুনতে পেল সেই দেশটি এক সময় মুসলমানরা শাসন করত। যখন মুসলমানরা দেশটি শাসন করতে এল এর পূর্বমুহূর্তে গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কলহ দেশটির শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়। দেশটির তখনকার রাজধানী ছিল টলেডো। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসন স্বৈরাচারী ছিল বলে একজন শাসক সেই দেশটিতে মুসলমানদের অভিযানের আমন্ত্রণ জানায়।
ক
প্রথম হাকাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

প্রথম হাকাম মৃত্যুবরণ করেন ৮২২ খ্রিস্টাব্দে।
খ
ধর্মান্ধ খ্রিস্টানদের ইসলাম ধর্মের প্রতি যতটা বিদ্বেষ ছিল তার চেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছিল আরবীয়করণের প্রতি- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মুসলিম বিজয়ের পর থেকে স্পেনীয় খ্রিস্টানরা আরবদের সুশাসন ও উন্নত জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে আরবীয় ভাবধারা, রীতিনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুসারী হয়। তারা নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৈন্যতা সম্বন্দ্বে ওয়াকিবহাল ছিল এবং বিকাশমান আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে, ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামপন্থি না হলেও রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে আরবীয় হয়ে গিয়েছিল। ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানরা সব দিক থেকে আরবীয়করণের ফলে ভীত হয়ে পড়ে। তারা ইসলাম ধর্মের চেয়ে আরবীয়করণের প্রতি বেশি বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
গ
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশ স্পেনে রেল ভ্রমণ করেছিল। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এ সংকটের একটি কারণ ছিল অনুন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং কৃষকরা আদিম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করত। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল না থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় শিল্পকারখানার প্রতি তেমন একটা নজর দেওয়া হয়নি। এসময় জার্মান বার্বাররা ইউরোপের বিভিন্ন শহর, নগর, বন্দর, লোকালয় আক্রমণ করলে তা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ইউরোপের যে ব্যবসায় বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের ব্যবসায়িক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্পেনেও। তাছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে শাসকরাও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। ফলে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করে।
ঘ
জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশটিতে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল, যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট- মতামত প্রদান কর।

উত্তর

জিন্নাহর ভ্রমণকৃত ইউরোপের দেশটি হলো স্পেন। প্রাক-ইসলামি যুগে স্পেনে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল। তা হলো- ১. সুবিধাভোগী অভিজাত সম্প্রদায়; ২. মধ্যবিত্ত ভূস্বামীবৃন্দ এবং ৩. ক্রীতদাস শ্রেণি। প্রথম শ্রেণিভুক্ত সুবিধা ভোগকারীদের মধ্যে ছিল- রাজন্যবর্গ, অমাত্যবর্গ, ধর্মযাজক ও সামন্তরাজাগণ। স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, ক্ষমতালোভী সামন্ত রাজাগণ, বিলাসপ্রিয় অভিজাতশ্রেণি ও সুবিধা ভোগকারী পুরোহিতবর্গ স্পেনে নৈরাজ্য ও শোষণ দ্বারা সামাজিক অরাজকতা সৃষ্টি করে। পুরোহিতরা ছিল প্রচুর সম্পদের অধিকারী ও বিলাসব্যসনে ব্যস্ত। তাদের অধীনে চার্চে হাজার হাজার পরিচারিকা থাকত। রাজাসহ সবাইকে পুরোহিতদের ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হতো। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল মধ্যবিত্ত ভূস্বামীগণ। তারা রাজাকে জমির বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ খাজনা প্রদান করত। তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং বিলাসব্যসনে দিন যাপন করত। তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। ভূমিদাসরা ভূস্বামীদের জমিতে বেগার খাটত; বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প পরিমাণ উৎপাদিত ফসল পেত। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি গোষ্ঠী ছিল ক্রীতদাস। হাট-বাজারে পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করা হতো। এদেরও কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তিনটি সামাজিক স্তর বিদ্যমান ছিল স্পেনে। এ তিনটি সামাজিক স্তরের মধ্যে প্রকট বৈষম্য বিরাজ করত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশে রেলভ্রমণ করছিল। সে পাশের যাত্রীর কাছে শুনতে পেল সেই দেশটি এক সময় মুসলমানরা শাসন করত। যখন মুসলমানরা দেশটি শাসন করতে এল এর পূর্বমুহূর্তে গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কলহ দেশটির শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়। দেশটির তখনকার রাজধানী ছিল টলেডো। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসন স্বৈরাচারী ছিল বলে একজন শাসক সেই দেশটিতে মুসলমানদের অভিযানের আমন্ত্রণ জানায়।
ক
প্রথম হাকাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর

প্রথম হাকাম মৃত্যুবরণ করেন ৮২২ খ্রিস্টাব্দে।
খ
ধর্মান্ধ খ্রিস্টানদের ইসলাম ধর্মের প্রতি যতটা বিদ্বেষ ছিল তার চেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছিল আরবীয়করণের প্রতি- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মুসলিম বিজয়ের পর থেকে স্পেনীয় খ্রিস্টানরা আরবদের সুশাসন ও উন্নত জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে আরবীয় ভাবধারা, রীতিনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুসারী হয়। তারা নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৈন্যতা সম্বন্দ্বে ওয়াকিবহাল ছিল এবং বিকাশমান আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে, ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামপন্থি না হলেও রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে আরবীয় হয়ে গিয়েছিল। ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানরা সব দিক থেকে আরবীয়করণের ফলে ভীত হয়ে পড়ে। তারা ইসলাম ধর্মের চেয়ে আরবীয়করণের প্রতি বেশি বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
গ
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশ স্পেনে রেল ভ্রমণ করেছিল। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এ সংকটের একটি কারণ ছিল অনুন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং কৃষকরা আদিম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করত। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল না থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় শিল্পকারখানার প্রতি তেমন একটা নজর দেওয়া হয়নি। এসময় জার্মান বার্বাররা ইউরোপের বিভিন্ন শহর, নগর, বন্দর, লোকালয় আক্রমণ করলে তা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ইউরোপের যে ব্যবসায় বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের ব্যবসায়িক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্পেনেও। তাছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে শাসকরাও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। ফলে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করে।
ঘ
জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশটিতে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল, যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট- মতামত প্রদান কর।

উত্তর

জিন্নাহর ভ্রমণকৃত ইউরোপের দেশটি হলো স্পেন। প্রাক-ইসলামি যুগে স্পেনে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল। তা হলো- ১. সুবিধাভোগী অভিজাত সম্প্রদায়; ২. মধ্যবিত্ত ভূস্বামীবৃন্দ এবং ৩. ক্রীতদাস শ্রেণি। প্রথম শ্রেণিভুক্ত সুবিধা ভোগকারীদের মধ্যে ছিল- রাজন্যবর্গ, অমাত্যবর্গ, ধর্মযাজক ও সামন্তরাজাগণ। স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, ক্ষমতালোভী সামন্ত রাজাগণ, বিলাসপ্রিয় অভিজাতশ্রেণি ও সুবিধা ভোগকারী পুরোহিতবর্গ স্পেনে নৈরাজ্য ও শোষণ দ্বারা সামাজিক অরাজকতা সৃষ্টি করে। পুরোহিতরা ছিল প্রচুর সম্পদের অধিকারী ও বিলাসব্যসনে ব্যস্ত। তাদের অধীনে চার্চে হাজার হাজার পরিচারিকা থাকত। রাজাসহ সবাইকে পুরোহিতদের ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হতো। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল মধ্যবিত্ত ভূস্বামীগণ। তারা রাজাকে জমির বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ খাজনা প্রদান করত। তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং বিলাসব্যসনে দিন যাপন করত। তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। ভূমিদাসরা ভূস্বামীদের জমিতে বেগার খাটত; বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প পরিমাণ উৎপাদিত ফসল পেত। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি গোষ্ঠী ছিল ক্রীতদাস। হাট-বাজারে পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করা হতো। এদেরও কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তিনটি সামাজিক স্তর বিদ্যমান ছিল স্পেনে। এ তিনটি সামাজিক স্তরের মধ্যে প্রকট বৈষম্য বিরাজ করত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নোয়াখালীর কিবলিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপ গমন করে এবং সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা দেখে অবাক হয়। সে তার বন্ধু দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসা করে, এখানে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? দেলোয়ার তাকে উত্তর দেয়, কোনো এক সময় এ ইউরোপের। কোনো এক দেশে মুসলিম সম্প্রদায় আগমন করেছিল এবং শাসন করেছিল। তবে তা আরব মুসলিমদের সর্বশেষ এবং নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।
ক
প্রথম হিশাম কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

উত্তর

প্রথম হিশাম ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ৩২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খ
প্রথম হিশামের সময়ের ভ্রাতৃযুদ্ধের ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

প্রথম আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র প্রথম হিশাম ৩২ বছর বয়সে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আবদুর রহমানের সিরীয় স্ত্রীর গর্ভের সুলায়মান ও আব্দুল্লাহ নামে দুই পুত্র সন্তান ছিল। সিংহাসনে আরোহণের জন্য তারা প্রথম হিশামের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তারা ৭৯০ খ্রিস্টাব্দে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে টলেডোতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রথম হিশাম বুলক (Boulk) প্রান্তরে বিদ্রোহী ভ্রাতৃদ্বয়ের মোকাবিলা করে তাদের পরাজিত করেন এবং স্পেন থেকে বিতাড়িত করেন।
গ
দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি রয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সেটি হলো ইউরোপের একটি দেশ স্পেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজত্বকালে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সংঘাতপূর্ণ। এ সুযোগে খলিফা আল ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইর ও তার অধীনস্থ সেনাপতি তারিক ইবন-জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন দখল করে। স্পেনের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা বহির্ভূত। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে কোনো ঐক্য ছিল না। সামন্ত রাজা রডারিক স্পেনের রাজা উইটিজাকে হত্যা করে বলপূর্বক সিংহাসন দখল করে স্বৈরাচারীভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। ফলে অনেকেই তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান তৎকালীন প্রথা। অনুযায়ী তার কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে রাজকীয় রীতিনীতি সম্পর্কে। জ্ঞানদানের জন্য রডারিকের প্রাসাদে পাঠান। কিন্তু লম্পট রডারিক কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিন্ডার শ্লীলতাহানি করেন। এতে কাউন্ট জুলিয়ান আক্রোশে ফেটে পড়েন। তিনি মুসা বিন নুসাইরকে স্পেন আক্রমণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তার শ্বশুর উইটিজার নির্মমভাবে হত্যা এবং কন্যার শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ গ্রহণে মুসলমানদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ রকম অরাজক পরিস্থিতি মুসলমানদের স্পেন অভিযানে উৎসাহিত করে।
ঘ
আরবদের এ অভিযানে ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়- মতামত দাও

উত্তর

মুসলিম বিজয় সমগ্র স্পেনে রাজনৈতিক ঐক্য, সংহতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে, মুসলিম শাসনের প্রভাবে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সাধারণ প্রজাদের করভার লাঘব হয়। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে ইউরোপে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না, সমাজের নিম্নশ্রেণি ও দাসদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল না, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ছিল না। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্পচর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। সমগ্র ইউরোপ ছিল অশান্তিময় ও কলুষিত। স্পেনে মুসলিম বিজয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিম শাসনামলে স্পেনে ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে। ক্রীতদাসদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। মুসলিম শাসিত স্পেনে শিল্পকলা, স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখে। স্পেনীয়রা মুসলমানদের কাছ থেকে এসব আত্মস্থ করে ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইউরোপের অন্যান্য জাতিও তাদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা লাভ করতে থাকে। পি. কে. হিস্ট্রি যথার্থই বলেছেন যে, "মধ্যযুগীয় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেন একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।" পরিশেষে বলা যায়, স্পেন অভিযানের ফলে উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনসহ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে সমগ্র ইউরোপ আলোকিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নোয়াখালীর কিবলিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপ গমন করে এবং সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা দেখে অবাক হয়। সে তার বন্ধু দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসা করে, এখানে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? দেলোয়ার তাকে উত্তর দেয়, কোনো এক সময় এ ইউরোপের। কোনো এক দেশে মুসলিম সম্প্রদায় আগমন করেছিল এবং শাসন করেছিল। তবে তা আরব মুসলিমদের সর্বশেষ এবং নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।
ক
প্রথম হিশাম কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

উত্তর

প্রথম হিশাম ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ৩২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খ
প্রথম হিশামের সময়ের ভ্রাতৃযুদ্ধের ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

প্রথম আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র প্রথম হিশাম ৩২ বছর বয়সে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আবদুর রহমানের সিরীয় স্ত্রীর গর্ভের সুলায়মান ও আব্দুল্লাহ নামে দুই পুত্র সন্তান ছিল। সিংহাসনে আরোহণের জন্য তারা প্রথম হিশামের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তারা ৭৯০ খ্রিস্টাব্দে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে টলেডোতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রথম হিশাম বুলক (Boulk) প্রান্তরে বিদ্রোহী ভ্রাতৃদ্বয়ের মোকাবিলা করে তাদের পরাজিত করেন এবং স্পেন থেকে বিতাড়িত করেন।
গ
দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি রয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সেটি হলো ইউরোপের একটি দেশ স্পেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজত্বকালে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সংঘাতপূর্ণ। এ সুযোগে খলিফা আল ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইর ও তার অধীনস্থ সেনাপতি তারিক ইবন-জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন দখল করে। স্পেনের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা বহির্ভূত। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে কোনো ঐক্য ছিল না। সামন্ত রাজা রডারিক স্পেনের রাজা উইটিজাকে হত্যা করে বলপূর্বক সিংহাসন দখল করে স্বৈরাচারীভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। ফলে অনেকেই তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান তৎকালীন প্রথা। অনুযায়ী তার কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে রাজকীয় রীতিনীতি সম্পর্কে। জ্ঞানদানের জন্য রডারিকের প্রাসাদে পাঠান। কিন্তু লম্পট রডারিক কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিন্ডার শ্লীলতাহানি করেন। এতে কাউন্ট জুলিয়ান আক্রোশে ফেটে পড়েন। তিনি মুসা বিন নুসাইরকে স্পেন আক্রমণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তার শ্বশুর উইটিজার নির্মমভাবে হত্যা এবং কন্যার শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ গ্রহণে মুসলমানদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ রকম অরাজক পরিস্থিতি মুসলমানদের স্পেন অভিযানে উৎসাহিত করে।
ঘ
আরবদের এ অভিযানে ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়- মতামত দাও

উত্তর

মুসলিম বিজয় সমগ্র স্পেনে রাজনৈতিক ঐক্য, সংহতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে, মুসলিম শাসনের প্রভাবে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সাধারণ প্রজাদের করভার লাঘব হয়। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে ইউরোপে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না, সমাজের নিম্নশ্রেণি ও দাসদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল না, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ছিল না। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্পচর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। সমগ্র ইউরোপ ছিল অশান্তিময় ও কলুষিত। স্পেনে মুসলিম বিজয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিম শাসনামলে স্পেনে ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে। ক্রীতদাসদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। মুসলিম শাসিত স্পেনে শিল্পকলা, স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখে। স্পেনীয়রা মুসলমানদের কাছ থেকে এসব আত্মস্থ করে ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইউরোপের অন্যান্য জাতিও তাদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা লাভ করতে থাকে। পি. কে. হিস্ট্রি যথার্থই বলেছেন যে, "মধ্যযুগীয় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেন একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।" পরিশেষে বলা যায়, স্পেন অভিযানের ফলে উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনসহ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে সমগ্র ইউরোপ আলোকিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসলামপুর একটি জনবহুল এলাকা। এখানকার জনগণের প্রায় সবাই অশিক্ষিত। শিক্ষার অভাবে তাদের সামাজিক জীবন খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। এ গ্রামেরই শিক্ষিত সন্তান জারিফ গ্রামের উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি গ্রামে স্কুল-পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, মসজিদ প্রভৃতি স্থাপনে অবদান রাখেন। তারই। প্রচেষ্টায় গ্রামটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তার বংশধরগণও এর ধারাবাহিকতায় এলাকার। উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন।
ক
জাবালুত তারিক কী?

উত্তর

সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন অভিযানকালে যে পাহাড়ে অবতরণ করেছিলেন তাকে জাবালুত তারিক বা জিব্রাল্টার বলা হয়।
খ
দ্বিতীয় আব্দুর রহমান মেরিদার বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন?

উত্তর

অকিটেন অধিপতি লুইসের উস্কানিতে মাহমুদ বিন আব্দুল জব্বার ও সুলায়মান বিন মারাতিনের নেতৃত্বে 'অধিক কর নির্ধারণ ও কর সংগ্রাহকের নির্যাতন' প্রতিরোধের দাবিতে প্রায় ৪০ হাজার ইহুদি ও খ্রিস্টান মেরিদাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আব্দুর রহমান তাদের পরাজিত ও ৭ হাজার বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ বিদ্রোহ দমন করেন।
গ
উদ্দীপকের ইসলামপুরের মতো স্পেনের কোন এলাকায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইসলামপুরের মতো স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। প্রথম আব্দুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা নগরী ছিল সমসাময়িক যুগের জগতমনি, অনুপম ঐশ্বর্যশালী এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শহর। স্পেনের উমাইয়া শাসনামলে এটি শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের সময় কর্ডোভা নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়। তিনি কর্ডোভা নগরীকে দ্বিতীয় বাগদাদ নগরী করার মানসে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। তার সময়ে কর্ডোভার লাইব্রেরি। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। কর্ডোভাকে। দ্বিতীয় বাগদাদে রূপদান করার জন্য অসংখ্য মসজিদ, প্রাসাদ, উদ্যান, সড়ক ও সেতু নির্মাণ করে একে স্পেনের সভ্যতা ও কৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। তৃতীয় আব্দুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এসময় কর্ডোভায় ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০ হাম্মামখানা নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া গোটা ইউরোপে যখন লেখাপড়ার প্রচলন শুরু হয়নি, তখন স্পেনের অধিকাংশ মুসলমান লেখাপড়া জানত। স্পেনে উমাইয়া শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাষা ও সাহিত্যর্চচা শুরু হয়। দর্শনশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোল, গণিত ও রসায়নশাস্ত্র প্রভৃতির বিকাশ ঘটে। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার নৈপুণ্যে একে আধুনিক নগরীতে পরিণত করা হয়। মূলত স্পেনে উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে কর্ডোভায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে স্পেনকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করে।
ঘ
তুমি কি মনে কর তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের উক্ত এলাকায়। স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি- উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ ও সম্মোহনী নেতৃত্বের মাধ্যমে তৎকালীন ইউরোপের স্পেনের কর্ডোভায় স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার অগ্রগতিতে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজজোহরা প্রাসাদ, গ্রানাডার আল হামরা প্রাসাদ, সেভিলের জিরাল্ডা মিনার নির্মাণ করেন তারা।এছাড়াও তারা সমগ্র স্পেনে অসংখ্য প্রাসাদ, মসজিদ, হাম্মামখানা, জলাধার, মাদ্রাসা নির্মাণ করে স্থাপত্য শিল্পে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সোনা-রূপা, তামা ও পিতলের তৈজসপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি ছাড়াও মৃৎপাত্র, কাচের ঝাড়বাতি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল। এখানে কার্পাস ও লিলেন জাতীয় পোশাকের প্রবর্তন লক্ষ করা যায়। এসময় হাতির দাঁতের উপর নকশা বা শিল্পসামগ্রী তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত, হয়। এছাড়াও লোকজ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। স্পেনে ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কুফি, নামক, তাওকি, তাপির, নয়াতাপিক রীতিতে হরফ খোদাই করা হতো। সংগীত যন্ত্র এবং বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সংগীত চর্চা করা হতো। এছাড়াও চামড়ার ওপর নকশা করে মূল্যবান কারুশিল্পের বিকাশও লক্ষ করা যায়। মূলত উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্ডোভা তথা স্পেন সমৃদ্ধিশালী ভূখন্ডে পরিণত হয়। তৎকালীন ইউরোপে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে স্পেন ছিল অনুকরণীয়। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সভ্যতার ও সংস্কৃতির বিকাশের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসলামপুর একটি জনবহুল এলাকা। এখানকার জনগণের প্রায় সবাই অশিক্ষিত। শিক্ষার অভাবে তাদের সামাজিক জীবন খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। এ গ্রামেরই শিক্ষিত সন্তান জারিফ গ্রামের উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি গ্রামে স্কুল-পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, মসজিদ প্রভৃতি স্থাপনে অবদান রাখেন। তারই। প্রচেষ্টায় গ্রামটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তার বংশধরগণও এর ধারাবাহিকতায় এলাকার। উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন।
ক
জাবালুত তারিক কী?

উত্তর

সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন অভিযানকালে যে পাহাড়ে অবতরণ করেছিলেন তাকে জাবালুত তারিক বা জিব্রাল্টার বলা হয়।
খ
দ্বিতীয় আব্দুর রহমান মেরিদার বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন?

উত্তর

অকিটেন অধিপতি লুইসের উস্কানিতে মাহমুদ বিন আব্দুল জব্বার ও সুলায়মান বিন মারাতিনের নেতৃত্বে 'অধিক কর নির্ধারণ ও কর সংগ্রাহকের নির্যাতন' প্রতিরোধের দাবিতে প্রায় ৪০ হাজার ইহুদি ও খ্রিস্টান মেরিদাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আব্দুর রহমান তাদের পরাজিত ও ৭ হাজার বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ বিদ্রোহ দমন করেন।
গ
উদ্দীপকের ইসলামপুরের মতো স্পেনের কোন এলাকায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইসলামপুরের মতো স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। প্রথম আব্দুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা নগরী ছিল সমসাময়িক যুগের জগতমনি, অনুপম ঐশ্বর্যশালী এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শহর। স্পেনের উমাইয়া শাসনামলে এটি শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের সময় কর্ডোভা নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়। তিনি কর্ডোভা নগরীকে দ্বিতীয় বাগদাদ নগরী করার মানসে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। তার সময়ে কর্ডোভার লাইব্রেরি। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। কর্ডোভাকে। দ্বিতীয় বাগদাদে রূপদান করার জন্য অসংখ্য মসজিদ, প্রাসাদ, উদ্যান, সড়ক ও সেতু নির্মাণ করে একে স্পেনের সভ্যতা ও কৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। তৃতীয় আব্দুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এসময় কর্ডোভায় ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০ হাম্মামখানা নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া গোটা ইউরোপে যখন লেখাপড়ার প্রচলন শুরু হয়নি, তখন স্পেনের অধিকাংশ মুসলমান লেখাপড়া জানত। স্পেনে উমাইয়া শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাষা ও সাহিত্যর্চচা শুরু হয়। দর্শনশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোল, গণিত ও রসায়নশাস্ত্র প্রভৃতির বিকাশ ঘটে। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার নৈপুণ্যে একে আধুনিক নগরীতে পরিণত করা হয়। মূলত স্পেনে উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে কর্ডোভায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে স্পেনকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করে।
ঘ
তুমি কি মনে কর তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের উক্ত এলাকায়। স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি- উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ ও সম্মোহনী নেতৃত্বের মাধ্যমে তৎকালীন ইউরোপের স্পেনের কর্ডোভায় স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার অগ্রগতিতে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজজোহরা প্রাসাদ, গ্রানাডার আল হামরা প্রাসাদ, সেভিলের জিরাল্ডা মিনার নির্মাণ করেন তারা।এছাড়াও তারা সমগ্র স্পেনে অসংখ্য প্রাসাদ, মসজিদ, হাম্মামখানা, জলাধার, মাদ্রাসা নির্মাণ করে স্থাপত্য শিল্পে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সোনা-রূপা, তামা ও পিতলের তৈজসপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি ছাড়াও মৃৎপাত্র, কাচের ঝাড়বাতি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল। এখানে কার্পাস ও লিলেন জাতীয় পোশাকের প্রবর্তন লক্ষ করা যায়। এসময় হাতির দাঁতের উপর নকশা বা শিল্পসামগ্রী তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত, হয়। এছাড়াও লোকজ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। স্পেনে ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কুফি, নামক, তাওকি, তাপির, নয়াতাপিক রীতিতে হরফ খোদাই করা হতো। সংগীত যন্ত্র এবং বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সংগীত চর্চা করা হতো। এছাড়াও চামড়ার ওপর নকশা করে মূল্যবান কারুশিল্পের বিকাশও লক্ষ করা যায়। মূলত উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্ডোভা তথা স্পেন সমৃদ্ধিশালী ভূখন্ডে পরিণত হয়। তৎকালীন ইউরোপে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে স্পেন ছিল অনুকরণীয়। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সভ্যতার ও সংস্কৃতির বিকাশের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো