উদ্দীপকের ঘটনা উমাইয়া শাসক আব্দুর রহমান আদ দাখিলের শাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উক্ত শাসক বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী। স্পেনের উমাইয়া শাসকদের মধ্যে আবদুর রহমান আদ-দাখিল নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা সুদক্ষ ও গুণবান ছিলেন। তিনি রাজ্যকে গোলযোগপূর্ণ কলহে ছিন্নবিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন বংশের সামন্ত সরদারগণের মধ্যে বিভক্ত, অরাজকতা, অন্তর্বিবাদে বিপর্যস্ত এবং উত্তরাঞ্চলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সমূহের বিরামহীন আক্রমণে বিপন্ন দেখে অসংখ্য বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তিনি আন্দালুসিয়াকে রক্ষা করে একে পূর্বাপেক্ষা বৃহদায়তন ও শক্তিশালী করেছিলেন।
এরূপ অভ্যন্তরীণ বিপদ থেকে স্পেনকে মুক্ত করে তিনি বহিঃশত্রুর দিকে দৃষ্টি আরোপ করেন। উত্তরাঞ্চলের খ্রিস্টানরা তার রাজ্য বারবার আক্রমণ করলে তিনি তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে তাদের শক্তি খর্ব করেন। একারণে তাকে স্পেনের রক্ষাকারী বলা হয়। তার শাসনামলে তিনি নলযোগে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে কৃষিকার্যের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। তাছাড়াও শিল্পকলা, ব্যবসায় বাণিজ্যেও তার কৃতিত্ব লক্ষণীয়। তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল। এসময় বণিক ও পথিকগণ সামান্যতম আশঙ্কা ব্যতীত নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারত। সমসাময়িক ঐতিহাসিকদের বিবরণী থেকে জানা যায়, জনসাধারণের প্রায় সকলেই না হেঁটে ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করত। তার শাসনকালে আর্থিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি দেখা দেয়। হিস্ট্রির মতে, আব্দুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতাই মুসলিম স্পেন বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র স্কুল, পাঠাগার ও এতিমখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তার রাজত্বকালে স্থাপত্য শিল্পেরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এসময় রাজধানী কর্ডোভাতে ২১টি মাদ্রাসা, ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০টি হাম্মামখানা ছিল।
তাই বলা যায়, উমাইয়া আমির আবদুর রহমান আদ-দাখিল স্পেনের উন্নয়নে যথেষ্ট কৃতিত্বের দাবিদার।