হ্যাঁ, আমি মনে করি- উমাইয়া শাসকগণের বলিষ্ঠ ও সম্মোহনী নেতৃত্বের মাধ্যমে তৎকালীন ইউরোপের স্পেনের কর্ডোভায় স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।
কর্ডোভায় স্থাপত্য ও কারুকলার অগ্রগতিতে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজজোহরা প্রাসাদ, গ্রানাডার আল হামরা প্রাসাদ, সেভিলের জিরাল্ডা মিনার নির্মাণ করেন তারা।এছাড়াও তারা সমগ্র স্পেনে অসংখ্য প্রাসাদ, মসজিদ, হাম্মামখানা, জলাধার, মাদ্রাসা নির্মাণ করে স্থাপত্য শিল্পে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সোনা-রূপা, তামা ও পিতলের তৈজসপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি ছাড়াও মৃৎপাত্র, কাচের ঝাড়বাতি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল। এখানে কার্পাস ও লিলেন জাতীয় পোশাকের প্রবর্তন লক্ষ করা যায়। এসময় হাতির দাঁতের উপর নকশা বা শিল্পসামগ্রী তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত, হয়।
এছাড়াও লোকজ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। স্পেনে ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কুফি, নামক, তাওকি, তাপির, নয়াতাপিক রীতিতে হরফ খোদাই করা হতো। সংগীত যন্ত্র এবং বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সংগীত চর্চা করা হতো। এছাড়াও চামড়ার ওপর নকশা করে মূল্যবান কারুশিল্পের বিকাশও লক্ষ করা যায়। মূলত উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্ডোভা তথা স্পেন সমৃদ্ধিশালী ভূখন্ডে পরিণত হয়। তৎকালীন ইউরোপে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে স্পেন ছিল অনুকরণীয়।
তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সভ্যতার ও সংস্কৃতির বিকাশের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।