মুসলিম বিজয় সমগ্র স্পেনে রাজনৈতিক ঐক্য, সংহতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে, মুসলিম শাসনের প্রভাবে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সাধারণ প্রজাদের করভার লাঘব হয়।
৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে ইউরোপে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না, সমাজের নিম্নশ্রেণি ও দাসদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল না, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ছিল না। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্পচর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। সমগ্র ইউরোপ ছিল অশান্তিময় ও কলুষিত।
স্পেনে মুসলিম বিজয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিম শাসনামলে স্পেনে ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে। ক্রীতদাসদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। মুসলিম শাসিত স্পেনে শিল্পকলা, স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখে। স্পেনীয়রা মুসলমানদের কাছ থেকে এসব আত্মস্থ করে ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইউরোপের অন্যান্য জাতিও তাদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা লাভ করতে থাকে। পি. কে. হিস্ট্রি যথার্থই বলেছেন যে, "মধ্যযুগীয় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেন একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।"
পরিশেষে বলা যায়, স্পেন অভিযানের ফলে উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনসহ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে সমগ্র ইউরোপ আলোকিত হয়।