দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে আল মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও তিনি তা স্থায়ী করতে পারেননি। বরং আমেরিকার আক্রমণে নিজ ক্ষমতা হারান।পক্ষান্তরে, খলিফা আল মনসুর নিজে খিলাফতে অধিষ্ঠিতই ছিলেন না, বরং তা স্থায়ীকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তার অনবদ্য ভূমিকার কারণেই ১২৫৮ সাল পর্যন্ত আব্বাসি খিলাফতে টিকেছিল। আল মনসুর আব্বাসি বংশের প্রথম শাসক না হয়েও এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। এ রাজপরিবারের স্থায়িত্ব, খলিফাগণের অপ্রতিহত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রাধান্য লোপের পরও এদেশ প্রকৃত প্রতিপত্তি লাভ তারই দূরদর্শিতার গুণে সম্ভব হয়েছিল। আল মনসুর আব্বাসি বংশকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিষ্ঠুর আচরণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক মনসুর বলেন, "তার সব সদগুণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতক ও নিষ্ঠুর হিসেবে ইতিহাসের রায় তার বিরুদ্ধেই যাবে। সানাবাদের বিদ্রোহ, রাওয়ান্দিয়া বিদ্রোহ, খোরাসান ও তারাবিস্তানের বিদ্রোহ, হিরাতের শাসনকর্তার বিদ্রোহ, বার্বার ও খারিজির বিদ্রোহ দমন করে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এমনকি যে আলী বংশীয়দের সমর্থন এবং যে আব্দুল্লাহ আবু মুসলিমের বাহুবলে আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাদের প্রতিও তিনি নৃশংস আচরণ করেছেন। এত কিছু সত্ত্বেও তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ, মিতব্যয়ী, কর্মতৎপর ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে সুপরিচিত লাভ করেছেন। সকল প্রকার বিপদ অবসানের পর তিনি নতুন রাজধানী স্থাপনের জন্য বাগদাদ গ্রামকে নির্বাচন করেন। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এ স্থানে তিনি একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইতিহাসখ্যাত বাগদাদ নগরী নামে পরিচিত। এ সমস্ত কারণে আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।সুতরাং বলা যায়, আল মনসুর দীর্ঘমেয়াদি শাসন করেছে অবশ্যই প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক দূরদর্শী ছিলেন।