সুলতান নাসিরের কায়রো নগরীর মতো উক্ত শাসক তথা তৃতীয় আব্দুর রহমান তার রাজধানীকে অনিন্দ্য সুন্দর করে গড়ে তুলেছিলেন – মন্তব্যটি যথার্থ।স্পেনে মুসলিম সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল কর্ডোভা যা যুগব্যাপী তমসাচ্ছন্ন একটি মহাদেশ ইউরোপের আলোকোজ্জ্বল বাতিঘর। যুগব্যাপী তমসাচ্ছন্ন একটি মহাদেশের আলোকোজ্জ্বল বাতিঘর। প্রথম আব্দুর রহমানের ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে তার শৌর্যবীর্য, সাধনা পরিশ্রম আর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সংস্পর্শে অখ্যাত কর্ডোভা ক্রমান্বয়ে খ্যাতির শিখরে আরোহণ শুরু করে। একে একে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের অবকাঠামো, সড়ক, সেতু, মসজিদ, প্রাসাদ, বাসগৃহ, মিনার, মক্তব, মাদ্রাসা, স্নানাগার, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার, পাঠাগার, এতিমখানা, মোসাফির খাানা ইত্যাদি গড়ে ওঠে। ১০,০১,৩০০ বাড়ি, ২১টি মাদ্রাসা, ৭০টি গ্রন্থাগার এবং অসংখ্য বইয়ের দোকান বিশিষ্ট এ শহরটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পর্যটকদের মনে সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধা জাগিয়েছিল। তৃতীয় আব্দুর রহমানের সময় কর্ডোভা নগরী রাতের বাতিতে আলোকিত ছিল। কিন্তু তার ৭০০ বছর পরেও লন্ডনের রাস্তায় বাতির ব্যবহার হয়নি। অনুপম সৌন্দর্যমণ্ডিত এ নগরীর দৈর্ঘ্য ২৪ মাইল, প্রশস্ত ৬ মাইল এবং ১৪ মাইল পরিধি ছিল। জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখ, ৯০০টি সরকারি গোসলখানা, ৫০টি সরকারি হাসপাতাল, ৩০০টি মসজিদ, ১০০টি প্রাসাদ কর্ডোভাকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করেছিল। ২৭টি অবৈতনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গোটা ইউরোপে যখন লেখাপড়ার প্রচলন শুরু হয়নি, তখন কর্ডোভার অধিকাংশ মানুষ লেখাপড়া জানত। কর্ডোভা সংস্কৃতিকে ইউরোপের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নত শহর ছিল। বিশ্বের তিনটি শহরের মধ্যে কর্ডোভা একটি। শিল্প বাণিজ্যেও কর্ডোভার খ্যাতি ছিল সুদূরপ্রসারী। বস্ত্রশিল্প, চর্মশিল্প, লৌহশিল্প এবং অলঙ্কার তৈরি শিল্প কর্ডোভাকে সমৃদ্ধ করেছিল। কর্ডোভার বাড়ি থেকে রাস্তায় আলো ফেলার ব্যবস্থা ছিল। মাদ্রাসা, গ্রন্থাগার এবং অসংখ্য বইয়ের দোকান বিশিষ্ট এ শহরটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পর্যটকদের মনে সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধা জাগিয়েছিল। তাই এ কারণে কর্ডোভা নগরীকে মধ্যযুগের ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়।