উদ্দীপকের বর্ণিত শাসকের সাথে স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের শাসক তৃতীয় আব্দুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত আরমান ক্ষমতা গ্রহণ করে একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী গঠন করে বিদ্রোহ দমন, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন প্রভৃতি কর্মকান্ডের মাধ্যমে রাজ্যকে সুসমৃদ্ধ করেন। অনুরূপভাবে, পাঠ্যবইয়ের বর্ণিত স্পেনের উমাইয়া আমিরাতের শাসক তৃতীয় আব্দুর রহমান ৯১২ খ্রিষ্টাব্দে শাসনক্ষমতা গ্রহণ করে প্রথমেই একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি স্লাভ, বার্বার, খ্রিষ্টান,আরব প্রভৃতি জাতির সমন্বয়ে ১,৫০,০০০ সৈন্যের একটি বিরাট সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন। যা স্লান্ড বাহিনী নামে পরিচিত ছিল। এরপর তিনি সকল বিদ্রোহ দমন করে সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেন। তৃতীয় আব্দুর রহমানের সময়ে স্পেনে কৃষি, ব্যবসায় বাণিজ্য ও শিল্পের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেন। কৃষি ও ব্যবসার উন্নতির সাথে সাথে শিল্পের ও ব্যাপক প্রসার লাভ করে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে শিল্পকারখানা স্থাপিত হয়। সে সময়ে শুধু রাজধানীতেই ১৩,০০০ তাত শিল্প ছিল। স্থাপত্য ও শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তৃতীয় আব্দুর রহমানের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। তার অন্যন্য কীর্তি হিসেবে জোহরা প্রাসাদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পত্নী আল-জোহরার অনুরোধেই তার নামানুসারে তৃতীয় আব্দুর রহমান ৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জোহরা প্রাসাদটি নির্মাণ করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের তৃতীয় আব্দুর রহমানের সাদৃশ্য বিদ্যমান।