স্পেনের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে খলিফা তৃতীয় আব্দুর রহমানের কৃতিত্ব চিরস্মরণীয়।
তৃতীয় আব্দুর রহমান ২১ বছর বয়সে ৯১২ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসন লাভের পর উপবেশনকালে সাম্রাজ্যে নানা প্রকার গোলযোগ দেখা দেয়। তার সে সময়ের অন্যান্য কর্মকান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল সাম্রাজ্যের গোলযোগ প্রতিহত করে শান্তিশৃঙ্খলা আনয়ন। সে সময় অসংখ্য বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্দালুসিয়াকে রক্ষা করে পূর্বের চেয়ে সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করেছিলেন। তিনি অভ্যন্তরীণ বিপদ থেকেও স্পেন রক্ষার পাশাপাশি বহিঃশত্রুর আক্রমণও প্রতিহত করেন। সে লক্ষ্যে তিনি ফাতেমি ও সেভিলের বার্বার ও খ্রিস্টানদের পরাজিত করেন। তৃতীয় আব্দুর রহমানের সময় শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি দেখা দেয়। হিটির মতে, আব্দুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায়ই মুসলিম স্পেন বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র স্কুল, পাঠাগার ও এতিমখানা স্থাপিত হয়। তার প্রতিষ্ঠিত কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্যের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্য শিল্পেরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এ সময় রাজধানীর কর্ডোভাতে ৩০০ মসজিদ, ১০০ প্রাসাদ, ১,০০,০০০ গৃহ এবং ৩৮০টি হাম্মামখানা নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া তাঁর পত্নীর নামকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনি কর্ডোভার ৩ মাইল উত্তরে আল-জোহরা নামে একটি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণ করতে প্রায় ৫০,০০,০০০ দিনার বায় করেন। তিনি কর্ডোভার মসজিদের উত্তর দিকে একটি সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেছিলেন। এ মিনারটি ২৭ ফুট চওড়া এবং ১০৮ ফুট উঁচু ছিল। তৃতীয় আব্দুর রহমান যোগ্যতা, গুণাবলি দ্বারা স্পেনের উমাইয়া আমিরাতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, মুসলিম স্পেনের ইতিহাসে তৃতীয় আব্দুর রহমান ছিলেন অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী। তার এ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি স্পেনে উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে প্রদিস্থ হয়ে আছেন।