উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ ইঙ্গিতকৃত দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। দুর্যোগটি ভূপৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। এ বিষয়ে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
আগ্নেয়গিরি হতে নির্গত লাভা ভস্ম, কর্দম প্রভৃতি প্রবলবেগে ঊর্ধ্বে ওঠে চারদিকে বহুদূর গিয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, শস্যক্ষেত্র প্রভৃতি ধ্বংস হয়। ১৮৭৯ সালে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম ও পম্পেই (Pompei) নামক দুটি নগর উত্তপ্ত লাভা ও ভস্মরাশির মধ্যে ডুবে গিয়েছিল। ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতেও ৩৫০টি গ্রামসহ প্রায় হাজার লোকের জীবনহানি ঘটে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকোর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও লাভার ফলে কয়েক হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।
অগ্ন্যুৎপাতের এই মারাত্মক প্রভাব মানবজীবনে ধ্বংসকারী। কিন্তু এর কিছু সুফলও রয়েছে। যেমন: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভস্থ লাভা | ভূপৃষ্ঠে সঞ্চিত হয়ে মালভূমি, সমভূমি, দ্বীপ ও পর্বতের সৃষ্টি করে। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে পানি সঞ্চিত হয়ে হ্রদ এবং অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সংলগ্ন এলাকা ধসে গহ্বরের সৃষ্টি হয়। এগুলো মনোরম পর্যটন স্থান। উৎক্ষিপ্ত লাভা ও ভস্ম জমির উর্বরতা শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূঅভ্যন্তরস্থ বহু খনিজ পদার্থ ভূপৃষ্ঠে নিক্ষিপ্ত হয়। লাভা স্তূপের নিচে অনেক প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়। আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত ঝর্ণার পানি ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে নিউজিল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে ব্যবহৃত হয়।
অতএব উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।